মসজিদে নববীর বিশিষ্ট ইমাম ও খতিব ড. শায়খ খালেদ আল-মুহান্না জুমার খুতবায় বিশ্ব মুসলিমকে তাকওয়া অবলম্বন ও উত্তম চরিত্র গঠনে তাগিদ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সুন্দর কথা ও মার্জিত আচরণই একজন মুমিনের জীবনে আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, নম্র ভাষা ও মিষ্টি কথা বান্দাকে জান্নাতের পথে নিয়ে যায় এবং মানুষের হৃদয় জয় করতে সাহায্য করে।
মদিনা মুনাওয়ারার মসজিদে নববীতে জুমার খুতবা প্রদানকালে ইমাম ও খতিব ড. শায়খ খালেদ আল-মুহান্না উপস্থিত মুসল্লিদের আল্লাহর তাকওয়া অর্জনের জোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গোপন ও প্রকাশ্য—সব অবস্থাতেই তাকওয়াই হলো শ্রেষ্ঠ আমল, পরম সৌভাগ্যের পথ এবং ইহকাল ও পরকালের সর্বোত্তম সম্বল। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এর সুসংবাদ দিয়ে বলেছেন, 'অতএব যে দান করে, তাকওয়া অবলম্বন করে এবং উত্তম বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ'।
খতিব মহোদয় ব্যাখ্যা করেন, দ্বীনে ইসলামের পূর্ণতা ও মুসলিমদের ওপর আল্লাহর নিয়ামতের অন্যতম দিক হলো—তাদের এমন নৈতিক মর্যাদা ও উত্তম কথাবার্তার পথ দেখানো হয়েছে, যা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা অর্জনে সাহায্য করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। তাঁর অনুপম চরিত্র, সুন্দর ভাষা এবং মার্জিত কথাবাক্য মানুষের হৃদয়ে সত্যের আলো জ্বেলে দিত। তিনি কখনোই নিষ্ঠুর বা কর্কশ ভাষায় কথা বলতেন না; বরং সর্বদা সর্বোচ্চ নম্রতা ও মিষ্টি ভাষায় কথা বলতেন। তিনি প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে উত্তম আশ্বাস, প্রার্থনাকারীর জন্য সুসংবাদ এবং ভুলের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত কোমলভাবে সংশোধন করে দিতেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নবী করিম (সা.) কখনো উচ্চশব্দে চিৎকারকারী, কর্কশভাষী কিংবা অশ্লীল বাক্যের প্রয়োগকারী ছিলেন না। আত্মার পূর্ণতা নির্ভর করে উত্তম কথা ও সৎকাজের ওপর। বিশ্বনবী সর্বদাই পবিত্র ও সুন্দর নাম পছন্দ করতেন, যা ভালো আশার সঞ্চার করে; আর কটু বা অশুভ নাম তিনি পরিহার ও পরিবর্তন করতেন।
পবিত্র কুরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে শায়খ আল-মুহান্না বলেন, জান্নাতিদের গুণাবলী বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 'আর তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল পবিত্র বাক্যের দিকে'। জিকির, কুরআন তিলওয়াত, দোআ, তাওহীদের কালিমা (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এবং দরকারী জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া বা সমাজে শান্তি-সম্প্রীতি স্থাপন—এ সবই উত্তম কথার অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়। আল্লাহ স্বয়ং পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্র বাক্য ও আমলই কবুল করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর হাদিস উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, কেয়ামতের দিন মুমিনের মিযানে বা পাল্লায় উত্তম আচরণের চেয়ে ভারী আর কিছুই হবে না, আর আল্লাহ তাআলা অশ্লীল ও গালাগালকারীকে কঠোরভাবে ঘৃণা করেন।
খতিব জোর দিয়ে বলেন, মিষ্টি কথা ও নরম সুর মানুষের ভেতরের শত্রুতা ও বিদ্বেষ দূর করে, শয়তানের উসকানি বন্ধ করে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করে। শয়তান সর্বদা মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চক্রান্তে লিপ্ত থাকে, কিন্তু একটি সুন্দর কথা বা ক্ষমাশীল বাক্য সমাজকে বড় ধরনের ফিতনা থেকে রক্ষা করতে পারে।
খুতবার শেষাংশে তিনি রাগ ও ক্ষোভের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং শয়তানের প্ররোচনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার পরামর্শ দেন। অসহায়, দরিত্র ও আবেদনকারীদের প্রতি সদয় আচরণ ও মিষ্টি ভাষায় কথা বলার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি কুরআনের আয়াত স্মরণ করিয়ে দেন—'কটু কথা বা কষ্টের অনুগমী সদকার চেয়ে মার্জিত কথা ও ক্ষমা অনেক উত্তম'।
মতামত