শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

রাতে আলোয় ক্ষতিগ্রস্ত ফসল, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্য

ভারতের সার্চ লাইটে ঝুঁকিতে কুড়িগ্রাম সীমান্তের কৃষি ও জনজীবন


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২৫

ভারতের সার্চ লাইটে ঝুঁকিতে কুড়িগ্রাম সীমান্তের কৃষি ও জনজীবন

বাংলাদেশ-ভারত কুড়িগ্রাম সীমান্তে রাত নামলেও অন্ধকার নামে না। বিএসএফ-এর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সার্চ লাইটের আলো বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে কৃষিজমি, পরিবেশ ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। স্থানীয়রা বলছেন, নিরাপত্তার নামে এই আলোক আগ্রাসন এখন তাদের জীবিকার বড় সংকটে রূপ নিয়েছে।

বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার রাজীবপুর, রৌমারী, উলিপুর, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ী সীমান্তজুড়ে রয়েছে ২৭৮.৭৮ কিলোমিটার এলাকা। এখানে যুগ যুগ ধরে বসবাসকারী প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ কৃষিনির্ভর জীবনযাপন করেন। কিন্তু ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) স্থাপিত শক্তিশালী সার্চ লাইট তাঁদের কৃষিজমি ও জনজীবনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

২০০১ সালের বড়াইবাড়ী সংঘর্ষের পর ভারতের পক্ষ থেকে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলে দুইশো মিটার পরপর সার্চ লাইট বসানো হয়। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত এসব লাইটের আলো প্রায় ৪০০ মিটার বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করে, যার ফলে রাত দিনের মতো হয়ে যায়।

কৃষকদের অভিযোগ, লাইটের কারণে ফসলি জমির মাটি শুষ্ক হয়ে যায়, ধানের পাতা হলুদ হয়, শীষ ছোট হয় ও ফলন কমে যায়। পাটগাছ লম্বা হয় না, বাকল শক্ত হয় না। ভুট্টার ফুল ঝরে যায়, মোচা ছোট থাকে। আলু, লাউ, শিমসহ সবজির গাছ কুঁকড়ে ওঠে, ফল কম ধরে এবং স্বাদ নষ্ট হয়ে তেতো লাগে। এমনকি ধানের খড়ও গবাদিপশু খেতে চায় না।

আলোর টানে পোকামাকড়ের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কীটনাশকের ব্যবহারও বাড়ছে। ফুলবাড়ীর কীটনাশক ব্যবসায়ী সাজু আহমেদ বলেন, “সীমান্ত এলাকায় পোকামাকড় বেশি, তাই সার ও কীটনাশক বিক্রিও বেশি হয়।”

এতে শুধু কৃষিই নয়, ফলবাগানও ক্ষতিগ্রস্ত। আম-লিচুর ফুল ঝরে, ফলন কম হয়; নারিকেল, সুপারি, কলা গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

এলাকার মানুষও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। কাঁচা ঘরে আলো প্রবেশ করে ঘুমের ব্যাঘাত, চোখ ব্যথা, মাথাব্যথা ও দৃষ্টিশক্তির সমস্যা বাড়ছে। বিজিবির টহলরত সদস্যরাও চোখের সমস্যার কথা জানান।

উদ্ভিদ বিজ্ঞানী মির্জা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, “রাতের আলো উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ চক্রকে ব্যাহত করছে। এতে উৎপাদন কমে এবং পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।”

স্থানীয়দের দাবি, বিএসএফ চাইলে আলোর ক্ষমতা কমানো বা দিক পরিবর্তন করতে পারে—তবুও তা করছে না। তারা অভিযোগ করেন, এই আলোক নীতি মূলত বাংলাদেশের কৃষিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই প্রয়োগ করা হচ্ছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


ভারতের সার্চ লাইটে ঝুঁকিতে কুড়িগ্রাম সীমান্তের কৃষি ও জনজীবন

প্রকাশের তারিখ : ০২ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

বাংলাদেশ-ভারত কুড়িগ্রাম সীমান্তে রাত নামলেও অন্ধকার নামে না। বিএসএফ-এর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সার্চ লাইটের আলো বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে কৃষিজমি, পরিবেশ ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। স্থানীয়রা বলছেন, নিরাপত্তার নামে এই আলোক আগ্রাসন এখন তাদের জীবিকার বড় সংকটে রূপ নিয়েছে।

বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার রাজীবপুর, রৌমারী, উলিপুর, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ী সীমান্তজুড়ে রয়েছে ২৭৮.৭৮ কিলোমিটার এলাকা। এখানে যুগ যুগ ধরে বসবাসকারী প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ কৃষিনির্ভর জীবনযাপন করেন। কিন্তু ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) স্থাপিত শক্তিশালী সার্চ লাইট তাঁদের কৃষিজমি ও জনজীবনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

২০০১ সালের বড়াইবাড়ী সংঘর্ষের পর ভারতের পক্ষ থেকে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলে দুইশো মিটার পরপর সার্চ লাইট বসানো হয়। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত এসব লাইটের আলো প্রায় ৪০০ মিটার বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করে, যার ফলে রাত দিনের মতো হয়ে যায়।

কৃষকদের অভিযোগ, লাইটের কারণে ফসলি জমির মাটি শুষ্ক হয়ে যায়, ধানের পাতা হলুদ হয়, শীষ ছোট হয় ও ফলন কমে যায়। পাটগাছ লম্বা হয় না, বাকল শক্ত হয় না। ভুট্টার ফুল ঝরে যায়, মোচা ছোট থাকে। আলু, লাউ, শিমসহ সবজির গাছ কুঁকড়ে ওঠে, ফল কম ধরে এবং স্বাদ নষ্ট হয়ে তেতো লাগে। এমনকি ধানের খড়ও গবাদিপশু খেতে চায় না।

আলোর টানে পোকামাকড়ের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কীটনাশকের ব্যবহারও বাড়ছে। ফুলবাড়ীর কীটনাশক ব্যবসায়ী সাজু আহমেদ বলেন, “সীমান্ত এলাকায় পোকামাকড় বেশি, তাই সার ও কীটনাশক বিক্রিও বেশি হয়।”

এতে শুধু কৃষিই নয়, ফলবাগানও ক্ষতিগ্রস্ত। আম-লিচুর ফুল ঝরে, ফলন কম হয়; নারিকেল, সুপারি, কলা গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

এলাকার মানুষও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। কাঁচা ঘরে আলো প্রবেশ করে ঘুমের ব্যাঘাত, চোখ ব্যথা, মাথাব্যথা ও দৃষ্টিশক্তির সমস্যা বাড়ছে। বিজিবির টহলরত সদস্যরাও চোখের সমস্যার কথা জানান।

উদ্ভিদ বিজ্ঞানী মির্জা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, “রাতের আলো উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ চক্রকে ব্যাহত করছে। এতে উৎপাদন কমে এবং পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।”

স্থানীয়দের দাবি, বিএসএফ চাইলে আলোর ক্ষমতা কমানো বা দিক পরিবর্তন করতে পারে—তবুও তা করছে না। তারা অভিযোগ করেন, এই আলোক নীতি মূলত বাংলাদেশের কৃষিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই প্রয়োগ করা হচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ