শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

পদ্ধতিগত নির্যাতন ও চিকিৎসার অভাবে বাড়ছে মৃত্যু; গাজা যুদ্ধের পর পরিস্থিতির চরম অবনতি

ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের মৃত্যুমিছিল: ১৯৬৭ সাল থেকে প্রাণ হারিয়েছেন ৩২৩ ফিলিস্তিনি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬

ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের মৃত্যুমিছিল: ১৯৬৭ সাল থেকে প্রাণ হারিয়েছেন ৩২৩ ফিলিস্তিনি

ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের ভয়াবহ চিত্র আবারও সামনে এসেছে। ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২৩ জন ফিলিস্তিনি বন্দি ইসরায়েলি কারাগারে প্রাণ হারিয়েছেন। বিশেষ করে অক্টোবর ২০২৩-এ গাজা যুদ্ধ শুরুর পর এই মৃত্যুহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

ফিলিস্তিনি এসির্স সোসাইটি ৭ জানুয়ারি পালিত “ফিলিস্তিনি শহীদ দিবস” উপলক্ষে প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে ইসরায়েলি কারাগারগুলোর বর্তমান পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলি কারাগারগুলো দীর্ঘদিন ধরেই নির্যাতন ও ভয়াবহ দুর্ব্যবহারের জন্য কুখ্যাত। তবে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর, অর্থাৎ অক্টোবর ২০২৩ থেকে এই নির্যাতন আরও ভয়ংকর মাত্রা ধারণ করেছে।

সংস্থাটির নথিভুক্ত তথ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলি কারাগারে অন্তত ৩২৩ জন ফিলিস্তিনি বন্দি মৃত্যুবরণ করেছেন।

বিশেষভাবে উদ্বেগজনক তথ্য হলো—

অক্টোবর ২০২৩ থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে ১০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দির মৃত্যু হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে মৃত্যুবরণকারী বন্দিদের মধ্যে ৮৬ জনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫০ জনই গাজা উপত্যকা থেকে আটক করা ফিলিস্তিনি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে গাজাবাসী বন্দিদের বিরুদ্ধে কঠোর, অমানবিক এবং পরিকল্পিতভাবে হত্যামুখী নীতির বাস্তবায়ন তীব্রতর হয়েছে।

আরও উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনো কারাগারে মৃত্যুবরণ করা ৯৪ জন ফিলিস্তিনি বন্দির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেনি, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

ফিলিস্তিনি এসির্স সোসাইটির বিবৃতিতে কারাগারগুলোর ভেতরে চলমান নির্যাতনের ধরন সম্পর্কে বলা হয়—

শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, পরিকল্পিতভাবে খাদ্য থেকে বঞ্চিত করা, চিকিৎসা অবহেলা, নিয়মিত অপমান ও দুর্ব্যবহার, কঠোর নজরদারি এবং বন্দিদের মৌলিক মানবাধিকার থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করার একটি সমন্বিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, গাজায় সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর গ্রেপ্তার অভিযান, ঘরে ঘরে তল্লাশি ও সহিংস হামলার মাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর যৌথ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে শিশু ও নারীসহ ৯ হাজার ৩০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি আটক রয়েছেন।

বিষয় : ফিলিস্তিনি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের মৃত্যুমিছিল: ১৯৬৭ সাল থেকে প্রাণ হারিয়েছেন ৩২৩ ফিলিস্তিনি

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের ভয়াবহ চিত্র আবারও সামনে এসেছে। ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২৩ জন ফিলিস্তিনি বন্দি ইসরায়েলি কারাগারে প্রাণ হারিয়েছেন। বিশেষ করে অক্টোবর ২০২৩-এ গাজা যুদ্ধ শুরুর পর এই মৃত্যুহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

ফিলিস্তিনি এসির্স সোসাইটি ৭ জানুয়ারি পালিত “ফিলিস্তিনি শহীদ দিবস” উপলক্ষে প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে ইসরায়েলি কারাগারগুলোর বর্তমান পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলি কারাগারগুলো দীর্ঘদিন ধরেই নির্যাতন ও ভয়াবহ দুর্ব্যবহারের জন্য কুখ্যাত। তবে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর, অর্থাৎ অক্টোবর ২০২৩ থেকে এই নির্যাতন আরও ভয়ংকর মাত্রা ধারণ করেছে।

সংস্থাটির নথিভুক্ত তথ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলি কারাগারে অন্তত ৩২৩ জন ফিলিস্তিনি বন্দি মৃত্যুবরণ করেছেন।

বিশেষভাবে উদ্বেগজনক তথ্য হলো—

অক্টোবর ২০২৩ থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে ১০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দির মৃত্যু হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে মৃত্যুবরণকারী বন্দিদের মধ্যে ৮৬ জনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫০ জনই গাজা উপত্যকা থেকে আটক করা ফিলিস্তিনি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে গাজাবাসী বন্দিদের বিরুদ্ধে কঠোর, অমানবিক এবং পরিকল্পিতভাবে হত্যামুখী নীতির বাস্তবায়ন তীব্রতর হয়েছে।

আরও উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনো কারাগারে মৃত্যুবরণ করা ৯৪ জন ফিলিস্তিনি বন্দির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেনি, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

ফিলিস্তিনি এসির্স সোসাইটির বিবৃতিতে কারাগারগুলোর ভেতরে চলমান নির্যাতনের ধরন সম্পর্কে বলা হয়—

শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, পরিকল্পিতভাবে খাদ্য থেকে বঞ্চিত করা, চিকিৎসা অবহেলা, নিয়মিত অপমান ও দুর্ব্যবহার, কঠোর নজরদারি এবং বন্দিদের মৌলিক মানবাধিকার থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করার একটি সমন্বিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, গাজায় সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর গ্রেপ্তার অভিযান, ঘরে ঘরে তল্লাশি ও সহিংস হামলার মাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর যৌথ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে শিশু ও নারীসহ ৯ হাজার ৩০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি আটক রয়েছেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ