শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

ব্রিসবেন ইসলামিক কলেজে বারবার বোমা হামলার হুমকির জেরে ইতিহাসে প্রথমবার নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ

অস্ট্রেলিয়ায় নজিরবিহীন উদ্যোগ: মুসলিম শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় বসছে বিশেষ নিরাপত্তা টহল


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় নজিরবিহীন উদ্যোগ: মুসলিম শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় বসছে বিশেষ নিরাপত্তা টহল

অস্ট্রেলিয়ায় আশঙ্কাজনক হারে ইসলামোফোবিয়া বা মুসলিমবিদ্বেষী হামলা এবং বোমা আতঙ্ক বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির একটি মুসলিম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্রিসবেনের 'ব্রিসবেন ইসলামিক কলেজ' তাদের শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষায় এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো পেশাদার নিরাপত্তা বাহিনী নিয়োগ দিয়েছে। আগামী এপ্রিল মাস থেকে স্কুল চলাকালীন এবং রাতেও এই নিরাপত্তা টহল অব্যাহত থাকবে।

অস্ট্রেলিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিমদের লক্ষ্য করে শারীরিক ও মৌখিক হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে ব্রিসবেন ইসলামিক কলেজ গত এক বছরে তিনবার বোমা হামলার হুমকির মুখে পড়েছে, যার ফলে বারবার শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এমন চরম নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষাপটে স্কুলটি তাদের ইতিহাসে প্রথমবার স্থায়ী নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের বরাতে জানা গেছে, দেশটির কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক নেত্রী পলিন হ্যানসনের মুসলিমবিদ্বেষী উস্কানিমূলক বক্তব্যের পর এই ঘৃণা ও বিদ্বেষের মাত্রা আরও তীব্র হয়েছে। একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে হ্যানসনের করা মন্তব্য সমাজে ঘৃণার বীজ বপন করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্কুলটির প্রিন্সিপাল আলী কাদরী জানিয়েছেন, নিরাপত্তা রক্ষার এই সিদ্ধান্ত কোনো বিলাসিতা নয়, বরং পরিস্থিতির চাপে পড়ে নেওয়া একটি আবশ্যিক পদক্ষেপ।

শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এই অস্থিরতার প্রভাব স্পষ্ট। স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী বুরাক তার অভিজ্ঞতায় বলেন, "এখন একজন মুসলিম হিসেবে জনসমক্ষে চলাফেরা করার সময় আমি অনেক বেশি সতর্ক থাকি। আমি আগের মতো স্বাধীন বোধ করি না।"

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া জুড়ে মসজিদগুলোতে হুমকির চিঠি পাঠানো এবং জনসমক্ষে হিজাব পরিহিত নারীদের ওপর হামলার ঘটনা এখন নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বহুসংস্কৃতিবাদ এবং সামাজিক সম্প্রীতি বর্তমানে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।

বিষয় : অস্ট্রেলিয়া

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


অস্ট্রেলিয়ায় নজিরবিহীন উদ্যোগ: মুসলিম শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় বসছে বিশেষ নিরাপত্তা টহল

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬

featured Image

অস্ট্রেলিয়ায় আশঙ্কাজনক হারে ইসলামোফোবিয়া বা মুসলিমবিদ্বেষী হামলা এবং বোমা আতঙ্ক বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির একটি মুসলিম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্রিসবেনের 'ব্রিসবেন ইসলামিক কলেজ' তাদের শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষায় এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো পেশাদার নিরাপত্তা বাহিনী নিয়োগ দিয়েছে। আগামী এপ্রিল মাস থেকে স্কুল চলাকালীন এবং রাতেও এই নিরাপত্তা টহল অব্যাহত থাকবে।

অস্ট্রেলিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিমদের লক্ষ্য করে শারীরিক ও মৌখিক হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে ব্রিসবেন ইসলামিক কলেজ গত এক বছরে তিনবার বোমা হামলার হুমকির মুখে পড়েছে, যার ফলে বারবার শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এমন চরম নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষাপটে স্কুলটি তাদের ইতিহাসে প্রথমবার স্থায়ী নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের বরাতে জানা গেছে, দেশটির কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক নেত্রী পলিন হ্যানসনের মুসলিমবিদ্বেষী উস্কানিমূলক বক্তব্যের পর এই ঘৃণা ও বিদ্বেষের মাত্রা আরও তীব্র হয়েছে। একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে হ্যানসনের করা মন্তব্য সমাজে ঘৃণার বীজ বপন করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্কুলটির প্রিন্সিপাল আলী কাদরী জানিয়েছেন, নিরাপত্তা রক্ষার এই সিদ্ধান্ত কোনো বিলাসিতা নয়, বরং পরিস্থিতির চাপে পড়ে নেওয়া একটি আবশ্যিক পদক্ষেপ।

শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এই অস্থিরতার প্রভাব স্পষ্ট। স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী বুরাক তার অভিজ্ঞতায় বলেন, "এখন একজন মুসলিম হিসেবে জনসমক্ষে চলাফেরা করার সময় আমি অনেক বেশি সতর্ক থাকি। আমি আগের মতো স্বাধীন বোধ করি না।"

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া জুড়ে মসজিদগুলোতে হুমকির চিঠি পাঠানো এবং জনসমক্ষে হিজাব পরিহিত নারীদের ওপর হামলার ঘটনা এখন নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বহুসংস্কৃতিবাদ এবং সামাজিক সম্প্রীতি বর্তমানে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ