শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

বিস্ফোরক বোমায় শরীর ঝলসে যাওয়ার পর প্লাস্টিক সাপোর্ট আর অসহ্য যন্ত্রণাই এখন রিতালের নিত্যসঙ্গী; উন্নত চিকিৎসার জন্য আকুতি পরিবারের

ইসরায়েলি হামলায় দগ্ধ ৫ বছরের রিতাল: চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছে গাজার এক নিষ্পাপ শৈশব


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

ইসরায়েলি হামলায় দগ্ধ ৫ বছরের রিতাল: চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছে গাজার এক নিষ্পাপ শৈশব

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের ক্ষত কেবল ধ্বংসস্তূপেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা গেঁথে আছে শিশুদের শরীরে। ৫ বছর বয়সী শিশু রিতাল হালাওয়া তেমনই এক যুদ্ধের শিকার, যার শরীর ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টার থেকে ছোড়া আগুনে পুড়ে বিকৃত হয়ে গেছে। অবরুদ্ধ গাজায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধের অভাবে এখন প্রতিটি মুহূর্ত যন্ত্রণার সাথে লড়াই করছে এই ছোট্ট শিশুটি।

২০২৫ সালের মে মাসে রিতাল যখন তার বিধ্বস্ত বাড়ির সামনে খেলা করছিল, তখন ইসরায়েলি বাহিনীর একটি 'কোয়াডকপ্টার' ড্রোন থেকে তার ওপর জ্বলন্ত বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এই হামলায় তার শরীরের চিবুক, ঘাড়, বুক এবং পেটের একাংশ দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাত্রায় পুড়ে যায়। সেই থেকে শুরু হয় রিতালের এক দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক পথচলা।

শুরুতে 'ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস' (MSF) এর অধীনে রিতালের চিকিৎসা শুরু হলেও যুদ্ধের ভয়াবহতা ও বারবার উচ্ছেদের কারণে তা বাধাগ্রস্ত হয়। বর্তমানে তার পোড়া স্থানে অস্বাভাবিক মাংসপিণ্ড (Traumatic tissues) তৈরি হচ্ছে, যা দিন দিন শরীরকে আরও বিকৃত করে দিচ্ছে। এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রুখতে তাকে দিনে ২১ ঘণ্টা শক্ত প্লাস্টিক সাপোর্ট বা মেডিকেল অ্যাপারেটাস পরে থাকতে হয়। এটি তার শ্বাস-প্রশ্বাস ও চলাফেরাকে চরম দুঃসহ করে তুলেছে।

রিতালের মা সামের হালাওয়া জানান, বর্তমানে তারা যে তাঁবুতে বাস করছেন, সেখানকার পরিবেশ রিতালের জন্য নরকতুল্য। সামের বলেন, "গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে ওর পোড়া স্থানগুলো অসহ্য চুলকায়। অ্যালার্জি বা ময়েশ্চারাইজার দিয়েও কোনো কাজ হয় না। ওষুধের অভাবে আমরা নিরুপায়। মাঝরাতে যখন ও গভীর ঘুমে থাকে, তখনো ওকে তুলে ওই শক্ত প্লাস্টিক ফ্রেমগুলো পরিয়ে দিতে হয় যেন মাংসপিণ্ডগুলো আর না বাড়ে।"

গাজার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রিতালের শরীরের এই বিকৃতি রোধে জরুরি ভিত্তিতে বিদেশে উন্নত প্লাস্টিক সার্জারি প্রয়োজন। কিন্তু সীমান্ত বন্ধ থাকা এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। রিতালের মা অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, "রিতাল বড় হচ্ছে, ওর একটা ভবিষ্যৎ আছে। কিন্তু এই বিকৃত শরীর নিয়ে সমাজ ওকে কীভাবে গ্রহণ করবে? ও তো কেবল যুদ্ধের শিকার হাজারো শিশুর একজন।"

অবরুদ্ধ গাজায় রিতালের মতো হাজার হাজার শিশু আজ চিকিৎসার অভাবে পঙ্গুত্বের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিষয় : গাজা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


ইসরায়েলি হামলায় দগ্ধ ৫ বছরের রিতাল: চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছে গাজার এক নিষ্পাপ শৈশব

প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের ক্ষত কেবল ধ্বংসস্তূপেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা গেঁথে আছে শিশুদের শরীরে। ৫ বছর বয়সী শিশু রিতাল হালাওয়া তেমনই এক যুদ্ধের শিকার, যার শরীর ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টার থেকে ছোড়া আগুনে পুড়ে বিকৃত হয়ে গেছে। অবরুদ্ধ গাজায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধের অভাবে এখন প্রতিটি মুহূর্ত যন্ত্রণার সাথে লড়াই করছে এই ছোট্ট শিশুটি।

২০২৫ সালের মে মাসে রিতাল যখন তার বিধ্বস্ত বাড়ির সামনে খেলা করছিল, তখন ইসরায়েলি বাহিনীর একটি 'কোয়াডকপ্টার' ড্রোন থেকে তার ওপর জ্বলন্ত বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এই হামলায় তার শরীরের চিবুক, ঘাড়, বুক এবং পেটের একাংশ দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাত্রায় পুড়ে যায়। সেই থেকে শুরু হয় রিতালের এক দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক পথচলা।

শুরুতে 'ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস' (MSF) এর অধীনে রিতালের চিকিৎসা শুরু হলেও যুদ্ধের ভয়াবহতা ও বারবার উচ্ছেদের কারণে তা বাধাগ্রস্ত হয়। বর্তমানে তার পোড়া স্থানে অস্বাভাবিক মাংসপিণ্ড (Traumatic tissues) তৈরি হচ্ছে, যা দিন দিন শরীরকে আরও বিকৃত করে দিচ্ছে। এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রুখতে তাকে দিনে ২১ ঘণ্টা শক্ত প্লাস্টিক সাপোর্ট বা মেডিকেল অ্যাপারেটাস পরে থাকতে হয়। এটি তার শ্বাস-প্রশ্বাস ও চলাফেরাকে চরম দুঃসহ করে তুলেছে।

রিতালের মা সামের হালাওয়া জানান, বর্তমানে তারা যে তাঁবুতে বাস করছেন, সেখানকার পরিবেশ রিতালের জন্য নরকতুল্য। সামের বলেন, "গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে ওর পোড়া স্থানগুলো অসহ্য চুলকায়। অ্যালার্জি বা ময়েশ্চারাইজার দিয়েও কোনো কাজ হয় না। ওষুধের অভাবে আমরা নিরুপায়। মাঝরাতে যখন ও গভীর ঘুমে থাকে, তখনো ওকে তুলে ওই শক্ত প্লাস্টিক ফ্রেমগুলো পরিয়ে দিতে হয় যেন মাংসপিণ্ডগুলো আর না বাড়ে।"

গাজার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রিতালের শরীরের এই বিকৃতি রোধে জরুরি ভিত্তিতে বিদেশে উন্নত প্লাস্টিক সার্জারি প্রয়োজন। কিন্তু সীমান্ত বন্ধ থাকা এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। রিতালের মা অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, "রিতাল বড় হচ্ছে, ওর একটা ভবিষ্যৎ আছে। কিন্তু এই বিকৃত শরীর নিয়ে সমাজ ওকে কীভাবে গ্রহণ করবে? ও তো কেবল যুদ্ধের শিকার হাজারো শিশুর একজন।"

অবরুদ্ধ গাজায় রিতালের মতো হাজার হাজার শিশু আজ চিকিৎসার অভাবে পঙ্গুত্বের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ