বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার পশ্চিমামুখী ও ইউরোপ-কেন্দ্রিক কাঠামো মুসলিম সমাজে এক গভীর হীনম্মন্যতা (inferiority complex) তৈরি করছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ প্রফেসর ড. সৈয়দ ফরিদ আলাতাস। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যতক্ষণ না মুসলিম উম্মাহ তাদের নিজস্ব ইতিহাস ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যকে শিক্ষা ব্যবস্থার মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই মানসিক দাসত্ব ও ঔপনিবেশিক জাঁতাকল থেকে মুক্তি মিলবে না। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি ইসলামোফোবিয়ার ঐতিহাসিক শিকড় এবং শিক্ষাব্যবস্থা সঙ্ক্রান্ত নানাবিধ সংকট নিয়ে এ আলোচনা করেন।
ইউরোপ-কেন্দ্রিকতার বিষাক্ত ছোবল ও ইতিহাস বিকৃতি
সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ আলাতাস বলেন, ইউরোপ-কেন্দ্রিকতা (Eurocentrism) হলো এমন একটি পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি যা অ-পশ্চিমা বিশ্বের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অবদানকে সম্পূর্ণ বিকৃত করে উপস্থাপন করে। এই ক্ষতিকর পদ্ধতি কেবল সমাজকেই নয়, ইসলামসহ সমস্ত অ-পশ্চিমা ধর্ম ও সংস্কৃতিকে পশ্চিমাদের সামনে নেতিবাচকভাবে দাঁড় করায়। ঔপনিবেশিক যুগে এই চিন্তাধারার জন্ম হয়েছিল মূলত সাম্রাজ্যবাদী শাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য। তারা বিজিত ও নির্যাতিত মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বর্বর, অনগ্রসর এবং সভ্যতা থেকে দূরে থাকা জাতি হিসেবে চিত্রিত করত, যাতে তাদের ওপর চালানো জুলুমকে 'সভ্য করার মিশন' বলে জায়েজ করা যায়।
ইসলামোফোবিয়া: ক্রুসেড থেকে আধুনিক যুগের অস্ত্র
ড. আলাতাস জোর দিয়ে বলেন, ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামভীতি কোনো আধুনিক আবিষ্কার নয়। এর শিকড় প্রোথিত রয়েছে মধ্যযুগের ক্রুসেডের রক্তাক্ত ইতিহাসে। ইসলামের আবির্ভাবের পর থেকেই খ্রিস্টীয় শক্তি একে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করত। ফলে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রোপাগান্ডা ঐতিহাসিকভাবেই বারবার পুনরুৎপাদন করা হয়েছে। ইউরোপের সামরিক ও প্রযুক্তিগত আধিপত্য এই কুসংস্কারকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমান যুগেও ফিলিস্তিন, ইরান ও তুরস্কের বিরুদ্ধে এই একই হাতিয়ার ব্যবহার করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিন ও ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা মিডিয়ার অপপ্রচার
পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোতে ফিলিস্তিনিদের সবসময় যুক্তিহীন, সহিংসতাপ্রিয় ও অবিশ্বাস্য মানুষ হিসেবে দেখানো হয়। ড. আলাতাস বলেন, "পশ্চিমাদের মনে এই ধারণা গেঁথে দেওয়া হয়েছে যে ফিলিস্তিনিরা একা একা গাজা পুনর্গঠন করতে পারবে না। কারণ তারা নাকি অসভ্য! মূলত ফিলিস্তিনিদের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতেই এই ইসলামোফোবিক এজেন্ডা ছড়ানো হয়।"
একইভাবে ইরানকে পশ্চিমা জনসমক্ষে সবসময় একটি 'বিপজ্জনক ও অযৌক্তিক' দেশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এর আসল কারণ হলো, ইরান যেন মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের সীমানা সম্প্রসারণ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ হিসেবে দাঁড়াতে না পারে।
তুরস্কও জায়োনিস্ট ও পশ্চিমাদের টার্গেট
মালয়েশীয় এই চিন্তাবিদ সতর্ক করে বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিক্ষায় দ্রুত এগিয়ে যাওয়া তুরস্কও আজ পশ্চিমাদের চরম ঈর্ষার শিকার। কেবল মুসলিম পরিচয়ের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় না। আসলে জায়নবাদের স্বার্থের জন্য তারা তুরস্ককে একটি বড় হুমকি মনে করে এবং একে দমন করতে তারা সেই পুরোনো 'উগ্র ও অযৌক্তিক মুসলিম' তকমা ব্যবহারের চেষ্টা করছে।
মুক্তির পথ: শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন
ড. ফরিদ আলাতাসের মতে, তুরস্ক বা ইরানের মতো যে দেশগুলো সরাসরি পশ্চিমাদের উপনিবেশ ছিল না, তারাও আজ পশ্চিমা শিক্ষাব্যবস্থার কারণে হীনম্মন্যতায় ভুগছে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের স্কুলগুলোতে ইউরোপীয় জ্ঞানালোক (European Enlightenment) বা রেনেসাঁ শেখানো হয়। বোঝানো হয় যে ইউরোপ কেবল তাদের বুদ্ধিমত্তার কারণে এগিয়ে গেছে, আর মুসলিমরা পিছিয়ে পড়েছে। ফলে যুবসমাজ নিজেদের সভ্যতার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে।"
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কেবল মুখে মুখে সচেতনতা বাড়িয়ে ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে মুক্ত হওয়া যাবে না। এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়গুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। সমাজবিজ্ঞানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আজ সারা বিশ্বের শিক্ষার্থীরা কার্ল মার্ক্স, ম্যাক্স ওয়েবার বা ডুর্খেইমকে মুখস্থ করছে; কিন্তু সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃত জনক ইবনে খালদুন কিংবা বিজ্ঞানী আল-বিরুনি সম্পর্কে কিছুই জানে না। সোশ্যাল থিওরি বা সামাজিক তত্ত্ব কি কেবল পশ্চিমা চিন্তাবিদদের একচেটিয়া সম্পত্তি?
ইসলামোফোবিয়া রুখতে বিকল্প জ্ঞান
ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইকে একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রতিরোধ হিসেবে দেখছেন এই সমাজবিজ্ঞানী। তিনি বলেন, মুসলিমদের কেবল পশ্চিমাদের মিথ্যাচারের জবাব দিলেই হবে না, বরং নিজেদের সোনালী ইতিহাস বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে হবে। উদাহরণস্বরূপ— পশ্চিমা প্রোপাগান্ডা আছে যে মুসলিমরা ইহুদিদের ঘৃণা করে। অথচ ইতিহাস সাক্ষী, এই তুর্কি, ইরানি ও আরবরাই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইহুদিদের ইউরোপীয় খ্রিস্টানদের ইহুদি-বিদ্বেষ (Antisemitism) ও নিষ্ঠুর গণহত্যা থেকে আশ্রয় দিয়ে বাঁচিয়েছিল। বলকান অঞ্চলে মুসলিমদের হাজারো ঐতিহাসিক মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে, অথচ মুসলিম শাসনে শত শত বছর চার্চ ও সিনাগগগুলো রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় অক্ষত ছিল। এই সত্যগুলো বিশ্বকে জানাতে হবে।
বিষয় : তুরস্ক সাক্ষাৎকার

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার পশ্চিমামুখী ও ইউরোপ-কেন্দ্রিক কাঠামো মুসলিম সমাজে এক গভীর হীনম্মন্যতা (inferiority complex) তৈরি করছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ প্রফেসর ড. সৈয়দ ফরিদ আলাতাস। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যতক্ষণ না মুসলিম উম্মাহ তাদের নিজস্ব ইতিহাস ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যকে শিক্ষা ব্যবস্থার মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই মানসিক দাসত্ব ও ঔপনিবেশিক জাঁতাকল থেকে মুক্তি মিলবে না। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি ইসলামোফোবিয়ার ঐতিহাসিক শিকড় এবং শিক্ষাব্যবস্থা সঙ্ক্রান্ত নানাবিধ সংকট নিয়ে এ আলোচনা করেন।
ইউরোপ-কেন্দ্রিকতার বিষাক্ত ছোবল ও ইতিহাস বিকৃতি
সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ আলাতাস বলেন, ইউরোপ-কেন্দ্রিকতা (Eurocentrism) হলো এমন একটি পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি যা অ-পশ্চিমা বিশ্বের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অবদানকে সম্পূর্ণ বিকৃত করে উপস্থাপন করে। এই ক্ষতিকর পদ্ধতি কেবল সমাজকেই নয়, ইসলামসহ সমস্ত অ-পশ্চিমা ধর্ম ও সংস্কৃতিকে পশ্চিমাদের সামনে নেতিবাচকভাবে দাঁড় করায়। ঔপনিবেশিক যুগে এই চিন্তাধারার জন্ম হয়েছিল মূলত সাম্রাজ্যবাদী শাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য। তারা বিজিত ও নির্যাতিত মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বর্বর, অনগ্রসর এবং সভ্যতা থেকে দূরে থাকা জাতি হিসেবে চিত্রিত করত, যাতে তাদের ওপর চালানো জুলুমকে 'সভ্য করার মিশন' বলে জায়েজ করা যায়।
ইসলামোফোবিয়া: ক্রুসেড থেকে আধুনিক যুগের অস্ত্র
ড. আলাতাস জোর দিয়ে বলেন, ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামভীতি কোনো আধুনিক আবিষ্কার নয়। এর শিকড় প্রোথিত রয়েছে মধ্যযুগের ক্রুসেডের রক্তাক্ত ইতিহাসে। ইসলামের আবির্ভাবের পর থেকেই খ্রিস্টীয় শক্তি একে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করত। ফলে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রোপাগান্ডা ঐতিহাসিকভাবেই বারবার পুনরুৎপাদন করা হয়েছে। ইউরোপের সামরিক ও প্রযুক্তিগত আধিপত্য এই কুসংস্কারকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমান যুগেও ফিলিস্তিন, ইরান ও তুরস্কের বিরুদ্ধে এই একই হাতিয়ার ব্যবহার করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিন ও ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা মিডিয়ার অপপ্রচার
পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোতে ফিলিস্তিনিদের সবসময় যুক্তিহীন, সহিংসতাপ্রিয় ও অবিশ্বাস্য মানুষ হিসেবে দেখানো হয়। ড. আলাতাস বলেন, "পশ্চিমাদের মনে এই ধারণা গেঁথে দেওয়া হয়েছে যে ফিলিস্তিনিরা একা একা গাজা পুনর্গঠন করতে পারবে না। কারণ তারা নাকি অসভ্য! মূলত ফিলিস্তিনিদের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতেই এই ইসলামোফোবিক এজেন্ডা ছড়ানো হয়।"
একইভাবে ইরানকে পশ্চিমা জনসমক্ষে সবসময় একটি 'বিপজ্জনক ও অযৌক্তিক' দেশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এর আসল কারণ হলো, ইরান যেন মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের সীমানা সম্প্রসারণ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ হিসেবে দাঁড়াতে না পারে।
তুরস্কও জায়োনিস্ট ও পশ্চিমাদের টার্গেট
মালয়েশীয় এই চিন্তাবিদ সতর্ক করে বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিক্ষায় দ্রুত এগিয়ে যাওয়া তুরস্কও আজ পশ্চিমাদের চরম ঈর্ষার শিকার। কেবল মুসলিম পরিচয়ের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় না। আসলে জায়নবাদের স্বার্থের জন্য তারা তুরস্ককে একটি বড় হুমকি মনে করে এবং একে দমন করতে তারা সেই পুরোনো 'উগ্র ও অযৌক্তিক মুসলিম' তকমা ব্যবহারের চেষ্টা করছে।
মুক্তির পথ: শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন
ড. ফরিদ আলাতাসের মতে, তুরস্ক বা ইরানের মতো যে দেশগুলো সরাসরি পশ্চিমাদের উপনিবেশ ছিল না, তারাও আজ পশ্চিমা শিক্ষাব্যবস্থার কারণে হীনম্মন্যতায় ভুগছে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের স্কুলগুলোতে ইউরোপীয় জ্ঞানালোক (European Enlightenment) বা রেনেসাঁ শেখানো হয়। বোঝানো হয় যে ইউরোপ কেবল তাদের বুদ্ধিমত্তার কারণে এগিয়ে গেছে, আর মুসলিমরা পিছিয়ে পড়েছে। ফলে যুবসমাজ নিজেদের সভ্যতার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে।"
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কেবল মুখে মুখে সচেতনতা বাড়িয়ে ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে মুক্ত হওয়া যাবে না। এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়গুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। সমাজবিজ্ঞানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আজ সারা বিশ্বের শিক্ষার্থীরা কার্ল মার্ক্স, ম্যাক্স ওয়েবার বা ডুর্খেইমকে মুখস্থ করছে; কিন্তু সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃত জনক ইবনে খালদুন কিংবা বিজ্ঞানী আল-বিরুনি সম্পর্কে কিছুই জানে না। সোশ্যাল থিওরি বা সামাজিক তত্ত্ব কি কেবল পশ্চিমা চিন্তাবিদদের একচেটিয়া সম্পত্তি?
ইসলামোফোবিয়া রুখতে বিকল্প জ্ঞান
ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইকে একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রতিরোধ হিসেবে দেখছেন এই সমাজবিজ্ঞানী। তিনি বলেন, মুসলিমদের কেবল পশ্চিমাদের মিথ্যাচারের জবাব দিলেই হবে না, বরং নিজেদের সোনালী ইতিহাস বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে হবে। উদাহরণস্বরূপ— পশ্চিমা প্রোপাগান্ডা আছে যে মুসলিমরা ইহুদিদের ঘৃণা করে। অথচ ইতিহাস সাক্ষী, এই তুর্কি, ইরানি ও আরবরাই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইহুদিদের ইউরোপীয় খ্রিস্টানদের ইহুদি-বিদ্বেষ (Antisemitism) ও নিষ্ঠুর গণহত্যা থেকে আশ্রয় দিয়ে বাঁচিয়েছিল। বলকান অঞ্চলে মুসলিমদের হাজারো ঐতিহাসিক মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে, অথচ মুসলিম শাসনে শত শত বছর চার্চ ও সিনাগগগুলো রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় অক্ষত ছিল। এই সত্যগুলো বিশ্বকে জানাতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন