ভারতের বিজেপিশাসিত উত্তরপ্রদেশের আমরোহার একটি মুসলিম মালিকানাধীন বেসরকারি হাসপাতালে তথাকথিত 'জোরপূর্বক ধর্মান্তরে'র মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাণ্ডব চালিয়েছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরাঙ্গ দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। এক দলিত হিন্দু নারীকে অপহরণ ও ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ তোলা হলেও, স্বয়ং ওই নারী এক ভিডিও বার্তায় সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে তার পরিবার এই বিভ্রান্তিকর ও ভুয়া দাবি তুলেছে।
ভারতের উত্তরপ্রদেশে হিন্দুত্ববাদী দলগুলোর হাতে সংখ্যালঘু মুসলিম ও তাদের ব্যবসায়িক বা সেবামূলক প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ধারাবাহিকতায় যুক্ত হলো আমরোহার একটি বেসরকারি হাসপাতাল। কাশ্মির মিডিয়া সার্ভিসের (কেএমএস) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরাঙ্গ দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মীরা হাসপাতালটির সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং এর প্রশাসক আত্তানের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।
স্বজনদের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ হাসপাতালের প্রশাসক আত্তান এবং আরও ছয়জনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও জোরপূর্বক ধর্ম পরিবর্তনের ধারায় মামলা নথিভুক্ত করেছে।
'আমি ধর্মান্তরিত হইনি': ভিকটিম নারীর চাঞ্চল্যকর সত্য প্রকাশ
তবে মামলার মূল কেন্দ্রে থাকা ২৪ বছর বয়সী দলিত নারী—সুধা—একটি ভিডিও বার্তায় হিন্দুত্ববাদী দল ও তার পরিবারের সমস্ত দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। সুধা জানান, তিনি ২০২৩ সাল থেকে এই হাসপাতালে কর্মী হিসেবে কাজ করছেন এবং তিনি কখনও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেননি।
সুধা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণেই আমার স্বজনেরা এই সাজানো অভিযোগ তুলেছে। পূর্বে একটি আইনি বিয়ে ভাঙার জন্য পরিবার আমার ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছিল। বর্তমানে পূর্বের বিয়ের তালাকের আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থাতেই তারা আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পুনরায় বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।"
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উগ্রপন্থীদের এই অন্যায্য বিতর্কের কারণে তিনি আজ চাকরি হারিয়েছেন। বর্তমানে তার কোনো মাথা গোঁজার ঠাঁই বা অর্থনৈতিক সহায়তা নেই।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
হাসপাতালের প্রশাসক আত্তান সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সুধা জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন এবং এখনও হিন্দু ধর্মেই আছেন। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা এড়াতেই বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "পরিবারের ভিত্তিহীন অভিযোগের ওপর নির্ভর না করে সত্য উদ্ঘাটনে স্বয়ং ওই নারীর বক্তব্য ও সাক্ষ্যকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।"
উল্লেখ্য, সুধার বাবা-মা দাবি করেছিলেন যে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করেছে, ধর্মান্তরের পরিকল্পনা করেছে এবং অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন যে, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে হাসপাতালের কর্মীরা তাদের ভয়ভীতি দেখায়।
নিয়মিত কৌশল
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, ভারতের বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই মুসলিম এবং মুসলিম পরিচালিত সামাজিক বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোণঠাসা করতে 'জোরপূর্বক ধর্মান্তরে'র ভুয়া তকমা দেওয়া একটি নিয়মিত কৌশলে পরিণত হয়েছে। পূর্বেও বহু ঘটনায় দেখা গেছে, কথিত ভিকটিম প্রকাশ্যে এসে হিন্দুত্ববাদীদের ও নিজেদের স্বজনদের মিথ্যা দাবি ফাঁস করে দিয়েছেন।
বিষয় : মানবাধিকার ভারত

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬
ভারতের বিজেপিশাসিত উত্তরপ্রদেশের আমরোহার একটি মুসলিম মালিকানাধীন বেসরকারি হাসপাতালে তথাকথিত 'জোরপূর্বক ধর্মান্তরে'র মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাণ্ডব চালিয়েছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরাঙ্গ দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। এক দলিত হিন্দু নারীকে অপহরণ ও ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ তোলা হলেও, স্বয়ং ওই নারী এক ভিডিও বার্তায় সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে তার পরিবার এই বিভ্রান্তিকর ও ভুয়া দাবি তুলেছে।
ভারতের উত্তরপ্রদেশে হিন্দুত্ববাদী দলগুলোর হাতে সংখ্যালঘু মুসলিম ও তাদের ব্যবসায়িক বা সেবামূলক প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ধারাবাহিকতায় যুক্ত হলো আমরোহার একটি বেসরকারি হাসপাতাল। কাশ্মির মিডিয়া সার্ভিসের (কেএমএস) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরাঙ্গ দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মীরা হাসপাতালটির সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং এর প্রশাসক আত্তানের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।
স্বজনদের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ হাসপাতালের প্রশাসক আত্তান এবং আরও ছয়জনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও জোরপূর্বক ধর্ম পরিবর্তনের ধারায় মামলা নথিভুক্ত করেছে।
'আমি ধর্মান্তরিত হইনি': ভিকটিম নারীর চাঞ্চল্যকর সত্য প্রকাশ
তবে মামলার মূল কেন্দ্রে থাকা ২৪ বছর বয়সী দলিত নারী—সুধা—একটি ভিডিও বার্তায় হিন্দুত্ববাদী দল ও তার পরিবারের সমস্ত দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। সুধা জানান, তিনি ২০২৩ সাল থেকে এই হাসপাতালে কর্মী হিসেবে কাজ করছেন এবং তিনি কখনও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেননি।
সুধা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণেই আমার স্বজনেরা এই সাজানো অভিযোগ তুলেছে। পূর্বে একটি আইনি বিয়ে ভাঙার জন্য পরিবার আমার ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছিল। বর্তমানে পূর্বের বিয়ের তালাকের আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থাতেই তারা আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পুনরায় বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।"
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উগ্রপন্থীদের এই অন্যায্য বিতর্কের কারণে তিনি আজ চাকরি হারিয়েছেন। বর্তমানে তার কোনো মাথা গোঁজার ঠাঁই বা অর্থনৈতিক সহায়তা নেই।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
হাসপাতালের প্রশাসক আত্তান সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সুধা জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন এবং এখনও হিন্দু ধর্মেই আছেন। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা এড়াতেই বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "পরিবারের ভিত্তিহীন অভিযোগের ওপর নির্ভর না করে সত্য উদ্ঘাটনে স্বয়ং ওই নারীর বক্তব্য ও সাক্ষ্যকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।"
উল্লেখ্য, সুধার বাবা-মা দাবি করেছিলেন যে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করেছে, ধর্মান্তরের পরিকল্পনা করেছে এবং অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন যে, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে হাসপাতালের কর্মীরা তাদের ভয়ভীতি দেখায়।
নিয়মিত কৌশল
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, ভারতের বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই মুসলিম এবং মুসলিম পরিচালিত সামাজিক বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোণঠাসা করতে 'জোরপূর্বক ধর্মান্তরে'র ভুয়া তকমা দেওয়া একটি নিয়মিত কৌশলে পরিণত হয়েছে। পূর্বেও বহু ঘটনায় দেখা গেছে, কথিত ভিকটিম প্রকাশ্যে এসে হিন্দুত্ববাদীদের ও নিজেদের স্বজনদের মিথ্যা দাবি ফাঁস করে দিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন