বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

বিচ্ছিন্ন ঘটনার দায় পুরো শিক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপানো অন্যায়; জাতীয় উন্নয়ন ও নৈতিক সমাজ গঠনে মাদরাসার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

গুজব নয়, তথ্যের আলোকে জানুন মাদরাসা শিক্ষার প্রকৃত অবদান


আশরাফ বিন আনসার
আশরাফ বিন আনসার
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

গুজব নয়, তথ্যের আলোকে জানুন মাদরাসা শিক্ষার প্রকৃত অবদান

বর্তমান সময়ে মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের ফলে অনেক সময় যাচাই-বাছাই ছাড়াই মাদরাসা সম্পর্কে নেতিবাচক তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। অথচ বাংলাদেশের শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থায় মাদরাসা শিক্ষার অবদান ইতিহাসের পাতায় সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

মাদরাসা শুধু ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়; বরং এটি নৈতিকতা, মানবিকতা, দেশপ্রেম ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। যুগে যুগে মাদরাসার আলেম-উলামারা শিক্ষা, সাহিত্য, সমাজসংস্কার এবং স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বিভিন্ন জাতীয় আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে অন্যতম অপপ্রচার হলো—এখানে নাকি আধুনিক জ্ঞানচর্চার সুযোগ নেই। বাস্তবে দেখা যায়, দেশের অনেক মাদরাসায় ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ও পড়ানো হয়। কওমি মাদরাসাগুলোতেও বর্তমানে গবেষণা, ভাষা শিক্ষা এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে অধ্যয়নের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরেকটি প্রচলিত অপপ্রচার হলো, মাদরাসা শিক্ষার্থীরা সমাজ ও রাষ্ট্রের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে মাদরাসা শিক্ষিত ব্যক্তিরা শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক, গবেষক, সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তা হিসেবে সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন। তারা সমাজের কল্যাণে অবদান রাখছেন এবং নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করছেন।

তবে এটাও সত্য যে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা কিছু ব্যক্তির ভুল কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পুরো মাদরাসা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়। এটি কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়। একটি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন ব্যক্তির ভুলের দায় সমগ্র প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না।

মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে অপপ্রচার মোকাবিলায় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়া উচিত। প্রথমত, মাদরাসাগুলোকে তাদের ইতিবাচক কার্যক্রম গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও বেশি তুলে ধরতে হবে। দ্বিতীয়ত, গবেষণাভিত্তিক লেখালেখি ও তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা বৃদ্ধি করতে হবে। তৃতীয়ত, মাদরাসা শিক্ষার্থী ও আলেমদের আধুনিক প্রযুক্তি ও যোগাযোগ দক্ষতায় আরও পারদর্শী হতে হবে। চতুর্থত, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মাদরাসার সম্পর্ক ও সংযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।

মাদরাসা শিক্ষা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই গুজব, অপপ্রচার ও ভুল তথ্যের পরিবর্তে বাস্তবতা ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নই হতে পারে সঠিক পথ। একটি শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করার পরিবর্তে তার ইতিবাচক দিকগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে জাতি আরও সমৃদ্ধ ও নৈতিক সমাজ গঠনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

বিষয় : মাদরাসা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


গুজব নয়, তথ্যের আলোকে জানুন মাদরাসা শিক্ষার প্রকৃত অবদান

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বর্তমান সময়ে মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের ফলে অনেক সময় যাচাই-বাছাই ছাড়াই মাদরাসা সম্পর্কে নেতিবাচক তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। অথচ বাংলাদেশের শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থায় মাদরাসা শিক্ষার অবদান ইতিহাসের পাতায় সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

মাদরাসা শুধু ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়; বরং এটি নৈতিকতা, মানবিকতা, দেশপ্রেম ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। যুগে যুগে মাদরাসার আলেম-উলামারা শিক্ষা, সাহিত্য, সমাজসংস্কার এবং স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বিভিন্ন জাতীয় আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে অন্যতম অপপ্রচার হলো—এখানে নাকি আধুনিক জ্ঞানচর্চার সুযোগ নেই। বাস্তবে দেখা যায়, দেশের অনেক মাদরাসায় ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ও পড়ানো হয়। কওমি মাদরাসাগুলোতেও বর্তমানে গবেষণা, ভাষা শিক্ষা এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে অধ্যয়নের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরেকটি প্রচলিত অপপ্রচার হলো, মাদরাসা শিক্ষার্থীরা সমাজ ও রাষ্ট্রের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে মাদরাসা শিক্ষিত ব্যক্তিরা শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক, গবেষক, সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তা হিসেবে সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন। তারা সমাজের কল্যাণে অবদান রাখছেন এবং নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করছেন।

তবে এটাও সত্য যে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা কিছু ব্যক্তির ভুল কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পুরো মাদরাসা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়। এটি কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়। একটি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন ব্যক্তির ভুলের দায় সমগ্র প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না।

মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে অপপ্রচার মোকাবিলায় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়া উচিত। প্রথমত, মাদরাসাগুলোকে তাদের ইতিবাচক কার্যক্রম গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও বেশি তুলে ধরতে হবে। দ্বিতীয়ত, গবেষণাভিত্তিক লেখালেখি ও তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা বৃদ্ধি করতে হবে। তৃতীয়ত, মাদরাসা শিক্ষার্থী ও আলেমদের আধুনিক প্রযুক্তি ও যোগাযোগ দক্ষতায় আরও পারদর্শী হতে হবে। চতুর্থত, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মাদরাসার সম্পর্ক ও সংযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।

মাদরাসা শিক্ষা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই গুজব, অপপ্রচার ও ভুল তথ্যের পরিবর্তে বাস্তবতা ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নই হতে পারে সঠিক পথ। একটি শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করার পরিবর্তে তার ইতিবাচক দিকগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে জাতি আরও সমৃদ্ধ ও নৈতিক সমাজ গঠনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ