শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

নিখোঁজের ৩ দিন পর গোরস্থানের কাছে গাছ থেকে মরদেহ উদ্ধার; ভীম আর্মির চাপে মামলা নেয় পুলিশ, গ্রেপ্তার ৩।

ভারতে মুসলিম কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার: অবহেলার অভিযোগে পুলিশের ইনচার্জ বরখাস্ত


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

ভারতে মুসলিম কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার: অবহেলার অভিযোগে পুলিশের ইনচার্জ বরখাস্ত

ভারতের উত্তর প্রদেশের সীতাপুর জেলার কোতোয়ালি দেহাত থানা এলাকার শঙ্করপুর সারোহি গ্রামে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনায় এক ১৬ বছরের মুসলিম কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১১ আগস্ট বিকেল চারটার দিকে নিজের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি ওই কিশোরী। স্বজনদের দাবি, মেয়েটি নিখোঁজ হওয়ার পরদিনই তারা স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে যান এবং বিস্তারিত জানান, কিন্তু পুলিশ নিখোঁজের কোনো সাধারণ ডায়েরি বা অভিযোগ নথিভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানায়।

ঘটনাটি পরবর্তীতে ভীম আর্মির প্রধান ও লোকসভার সংসদ সদস্য চন্দ্রশেখর আজাদের নজরে আসে। তিনি জানান, তার সংগঠনের সদস্যরা ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে মামলা দায়ের করতে বাধ্য করে। অবশেষে নিখোঁজের তিন দিন পর, ১৪ আগস্ট থানায় আনুষ্ঠানিক মামলা নথিভুক্ত করা হয়।

মামলা নথিভুক্ত হওয়ার অল্প সময় পরই শঙ্করপুর সারোহি গ্রামের কাছে একটি গোরস্থানের পাশের গাছ থেকে ওই কিশোরীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর অঞ্চল) অলোক সিং জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ডাক্তারদের একটি বিশেষ প্যানেল দিয়ে ময়নাতদন্ত করানো হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি ভিডিও ধারণ করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ দেখে মনে হয়েছে এটি অন্তত তিন দিন আগের। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘ফাঁসি’ বা ঝুলে থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দেয়া অভিযোগের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা এজাহারে তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়। পুলিশ ইতিমত্যেই অভিযুক্ত তিনজনকেই হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। ঘটনার পেছনের মূল কারণ এবং কিশোরীর সাথে ঠিক কী ঘটেছিল তা জানার চেষ্টা চলছে বলে সীতাপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে পুলিশ গোপনীয়তা এবং স্পর্শকাতর বিষয়ের কথা উল্লেখ করে অভিযুক্তদের নাম-পরিচয় প্রকাশ্যে জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এদিকে, নিখোঁজ সংবাদ পাওয়ার পরও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে। স্বজনদের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রশাসনিক অবহেলার দায়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে কোতোয়ালি দেহাত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও একটি বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছিল এবং কেন মামলা নিতে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত বিলম্ব হলো, তদন্তে তা খতিয়ে দেখা হবে।

বিষয় : ভারত

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


ভারতে মুসলিম কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার: অবহেলার অভিযোগে পুলিশের ইনচার্জ বরখাস্ত

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তর প্রদেশের সীতাপুর জেলার কোতোয়ালি দেহাত থানা এলাকার শঙ্করপুর সারোহি গ্রামে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনায় এক ১৬ বছরের মুসলিম কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১১ আগস্ট বিকেল চারটার দিকে নিজের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি ওই কিশোরী। স্বজনদের দাবি, মেয়েটি নিখোঁজ হওয়ার পরদিনই তারা স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে যান এবং বিস্তারিত জানান, কিন্তু পুলিশ নিখোঁজের কোনো সাধারণ ডায়েরি বা অভিযোগ নথিভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানায়।

ঘটনাটি পরবর্তীতে ভীম আর্মির প্রধান ও লোকসভার সংসদ সদস্য চন্দ্রশেখর আজাদের নজরে আসে। তিনি জানান, তার সংগঠনের সদস্যরা ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে মামলা দায়ের করতে বাধ্য করে। অবশেষে নিখোঁজের তিন দিন পর, ১৪ আগস্ট থানায় আনুষ্ঠানিক মামলা নথিভুক্ত করা হয়।

মামলা নথিভুক্ত হওয়ার অল্প সময় পরই শঙ্করপুর সারোহি গ্রামের কাছে একটি গোরস্থানের পাশের গাছ থেকে ওই কিশোরীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর অঞ্চল) অলোক সিং জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ডাক্তারদের একটি বিশেষ প্যানেল দিয়ে ময়নাতদন্ত করানো হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি ভিডিও ধারণ করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ দেখে মনে হয়েছে এটি অন্তত তিন দিন আগের। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘ফাঁসি’ বা ঝুলে থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দেয়া অভিযোগের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা এজাহারে তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়। পুলিশ ইতিমত্যেই অভিযুক্ত তিনজনকেই হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। ঘটনার পেছনের মূল কারণ এবং কিশোরীর সাথে ঠিক কী ঘটেছিল তা জানার চেষ্টা চলছে বলে সীতাপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে পুলিশ গোপনীয়তা এবং স্পর্শকাতর বিষয়ের কথা উল্লেখ করে অভিযুক্তদের নাম-পরিচয় প্রকাশ্যে জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এদিকে, নিখোঁজ সংবাদ পাওয়ার পরও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে। স্বজনদের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রশাসনিক অবহেলার দায়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে কোতোয়ালি দেহাত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও একটি বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছিল এবং কেন মামলা নিতে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত বিলম্ব হলো, তদন্তে তা খতিয়ে দেখা হবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ