অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলীয় শহর তুলকারমের জাবাল আল-নাসর মহল্লায় অন্তত ১০টি ফিলিস্তিনি পরিবারকে সাময়িকভাবে বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী। নিকটবর্তী সামরিক তৎপরতার অজুহাতে গত সোমবার এই উচ্ছেদ নির্দেশ জারি করা হয়। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এ তথ্য নিশ্চিত করে ফিলিস্তিনে তৈরি হওয়া চরম নিরাপত্তা ও মানবিক সংকটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি মুসলিমদের বাস্তুচ্যুত করার ধারাবাহিক চক্রান্ত অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী। জাতিসংঘ জানিয়েছে, উত্তর পশ্চিম তীরের তুলকার্মের নুর শামস শরণার্থী শিবিরের নিকটবর্তী জাবাল আল-নাসর এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ১০টি ফিলিস্তিনি পরিবারকে তাদের নিজস্ব বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। ইসরায়েলি বাহিনী 'সামরিক তৎপরতা'র অজুহাত তুলে পরিবারগুলোকে সাত ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেয়।
অভিযান চলাকালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী কেবল সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিতই করেনি, বরং সামরিক বুলডোজার ব্যবহার করে এলাকার প্রধান রাস্তার বড় অংশ খুঁড়ে ফেলে। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইসরায়েলি বাহিনী সরে যাওয়ার আগে ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন কৃষি ও ব্যক্তিগত জমিতেও ব্যাপক খনন কাজ চালিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের জানান, ইসরায়েলি বাহিনী এলাকা ত্যাগ করার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়িতে ফিরে এসেছে এবং পরবর্তীতে স্থানীয় পৌরসভা কৃচ্ছ্রসাধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো মেরামতের কাজ শুরু করে। তবে ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর ধ্বংস করে শিবিরের ভৌগোলিক ও জনতাত্ত্বিক কাঠামো বদলে দেওয়ার এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। ফিলিস্তিনি মুসলিমরা তাদের ভিটেমাটি আঁকড়ে ধরে রাখার সুদৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করলেও দখলদারদের এমন তাণ্ডবে মানবিক সংকট দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে।
মতামত