রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

নেসেট সদস্য তিবির তোপ: বেন-গভিরের চরমপন্থী নীতি ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর নির্যাতন ইসরায়েলি বর্ণবাদের নগ্ন রূপ প্রকাশ করে।

গাজার বন্দি ডা. আবু সাফিয়ার সঙ্গে এমকে আহমদ তিবিকে সাক্ষাৎ করতে দেয়নি ইসরায়েল


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

গাজার বন্দি ডা. আবু সাফিয়ার সঙ্গে এমকে আহমদ তিবিকে সাক্ষাৎ করতে দেয়নি ইসরায়েল

গাজা উপত্যকার অবরুদ্ধ কামাল আদওয়ান হাসপাতালের সাহসী পরিচালক ড. হুসাম আবু সাফিয়ার সাথে দেখা করার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ। বুধবার আনাদোলু এজেন্সির বরাত দিয়ে আরব মুভমেন্ট ফর চেঞ্জের প্রধান ও নেসেট সদস্য ড. আহমদ তিবি নিশ্চিত করেছেন যে চরমপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের রাজনৈতিক নির্দেশে তাকে এই সাক্ষাতে বাধা দেওয়া হয়। ড. আবু সাফিয়া ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের শেষভাগ থেকে ইসরায়েলি হেফাজতে বন্দি রয়েছেন।

ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর অব্যাহত নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের আরও একটি নগ্ন চিত্র সামনে এসেছে। গাজা উপত্যকার উত্তর অংশে অবস্থিত কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক ও খ্যাতিমান ফিলিস্তিনি চিকিৎসক ড. হুসাম আবু সাফিয়ার সাথে ইসরায়েলি জাতীয় সংসদের (নেসেট) আরব সদস্য ড. আহমদ তিবিকে দেখা করার অনুমতি দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ।

তিবির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ড. আবু সাফিয়ার মুক্তির দাবিতে দায়ের করা আবেদনের ওপর ইসরায়েলি সুপ্রিম কোর্টে শুনানির পর তিবি আনুষ্ঠানিকভাবে এই চিকিৎসকের সাথে সাক্ষাৎ করে তার শারীরিক অবস্থা ও আটকের পরিবেশ খতিয়ে দেখার আবেদন করেছিলেন। তবে বেন-গভিরের আরোপিত বিশেষ ব্যবস্থার অজুহাতে সেই আবেদন সরাসরি বাতিল করা হয়।

এমকে আহমদ তিবি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "ড. আবু সাফিয়ার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ আটকে দেওয়া সম্পূর্ণ একটি রাজনৈতিক ও উস্কানিমূলক সিদ্ধান্ত। বেন-গভির নিজেই অতীতে সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের জন্য দোষী সাব্যস্ত একজন ব্যক্তি। তিনি চিকিৎসকদের বন্দি রেখে অমানবিক আচরণ করছেন।" তিবি উল্লেখ করেন যে, ড. আবু সাফিয়া একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক, যিনি গাজার স্বাস্থ্য খাতের ইতিহাসের সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে আহত ও অসুস্থ ফিলিস্তিনিদের সেবা দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষভাগে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ড. আবু সাফিয়া আহত হওয়া সত্ত্বেও কামাল আদওয়ান হাসপাতাল ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান। এর ঠিক এক মাস পর ইসরায়েলি বাহিনী হাসপাতালে সশস্ত্র অভিযান চালিয়ে তাকে বন্দুক দেখিয়ে তুলে নিয়ে যায়।

বিবৃতিতে তিবি পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে ফিলিস্তিনি প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ দিমা বারকাতকে সম্প্রতি রাতে ঘর থেকে অভিযানের নামে গ্রেফতার করার তীব্র নিন্দা জানান। তিবি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ডাক্তার দিমা বারকাত ও ডাক্তার হুসাম আবু সাফিয়াসহ প্রায় ১০০ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে অমানবিকভাবে বন্দি রাখা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।"

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে বর্তমানে ৯,৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন, যার মধ্যে ৯৪ জন নারী এবং ৩৫০ জনের বেশি শিশু। ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে যে বন্দিরা ক্রমাগত শারীরিক নির্যাতন, অনাহার এবং চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন, যার ফলে বহু ফিলিস্তিনির ইতোমধ্যে কারাগারে মৃত্যু হয়েছে।

বিষয় : ইসরায়েল গাজা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


গাজার বন্দি ডা. আবু সাফিয়ার সঙ্গে এমকে আহমদ তিবিকে সাক্ষাৎ করতে দেয়নি ইসরায়েল

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গাজা উপত্যকার অবরুদ্ধ কামাল আদওয়ান হাসপাতালের সাহসী পরিচালক ড. হুসাম আবু সাফিয়ার সাথে দেখা করার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ। বুধবার আনাদোলু এজেন্সির বরাত দিয়ে আরব মুভমেন্ট ফর চেঞ্জের প্রধান ও নেসেট সদস্য ড. আহমদ তিবি নিশ্চিত করেছেন যে চরমপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের রাজনৈতিক নির্দেশে তাকে এই সাক্ষাতে বাধা দেওয়া হয়। ড. আবু সাফিয়া ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের শেষভাগ থেকে ইসরায়েলি হেফাজতে বন্দি রয়েছেন।

ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর অব্যাহত নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের আরও একটি নগ্ন চিত্র সামনে এসেছে। গাজা উপত্যকার উত্তর অংশে অবস্থিত কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক ও খ্যাতিমান ফিলিস্তিনি চিকিৎসক ড. হুসাম আবু সাফিয়ার সাথে ইসরায়েলি জাতীয় সংসদের (নেসেট) আরব সদস্য ড. আহমদ তিবিকে দেখা করার অনুমতি দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ।

তিবির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ড. আবু সাফিয়ার মুক্তির দাবিতে দায়ের করা আবেদনের ওপর ইসরায়েলি সুপ্রিম কোর্টে শুনানির পর তিবি আনুষ্ঠানিকভাবে এই চিকিৎসকের সাথে সাক্ষাৎ করে তার শারীরিক অবস্থা ও আটকের পরিবেশ খতিয়ে দেখার আবেদন করেছিলেন। তবে বেন-গভিরের আরোপিত বিশেষ ব্যবস্থার অজুহাতে সেই আবেদন সরাসরি বাতিল করা হয়।

এমকে আহমদ তিবি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "ড. আবু সাফিয়ার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ আটকে দেওয়া সম্পূর্ণ একটি রাজনৈতিক ও উস্কানিমূলক সিদ্ধান্ত। বেন-গভির নিজেই অতীতে সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের জন্য দোষী সাব্যস্ত একজন ব্যক্তি। তিনি চিকিৎসকদের বন্দি রেখে অমানবিক আচরণ করছেন।" তিবি উল্লেখ করেন যে, ড. আবু সাফিয়া একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক, যিনি গাজার স্বাস্থ্য খাতের ইতিহাসের সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে আহত ও অসুস্থ ফিলিস্তিনিদের সেবা দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষভাগে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ড. আবু সাফিয়া আহত হওয়া সত্ত্বেও কামাল আদওয়ান হাসপাতাল ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান। এর ঠিক এক মাস পর ইসরায়েলি বাহিনী হাসপাতালে সশস্ত্র অভিযান চালিয়ে তাকে বন্দুক দেখিয়ে তুলে নিয়ে যায়।

বিবৃতিতে তিবি পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে ফিলিস্তিনি প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ দিমা বারকাতকে সম্প্রতি রাতে ঘর থেকে অভিযানের নামে গ্রেফতার করার তীব্র নিন্দা জানান। তিবি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ডাক্তার দিমা বারকাত ও ডাক্তার হুসাম আবু সাফিয়াসহ প্রায় ১০০ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে অমানবিকভাবে বন্দি রাখা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।"

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে বর্তমানে ৯,৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন, যার মধ্যে ৯৪ জন নারী এবং ৩৫০ জনের বেশি শিশু। ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে যে বন্দিরা ক্রমাগত শারীরিক নির্যাতন, অনাহার এবং চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন, যার ফলে বহু ফিলিস্তিনির ইতোমধ্যে কারাগারে মৃত্যু হয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ