মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

বিতর্কিত জম্মু ও কাশ্মীরের একাধিক জেলায় তল্লাশি ও চেকপোস্ট বসিয়ে ভারতীয় বাহিনীর বাড়তি নজরদারি; অব্যাহত হয়রানিতে উদ্বেগ ও ক্ষোভ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বাড়ছে ভারতীয় বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: তল্লাশির নামে সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬

অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বাড়ছে ভারতীয় বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: তল্লাশির নামে সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত

ভারত-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের (আইআইওজেকে) বিভিন্ন জেলায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী তাদের কঠোর কর্ডন অ্যান্ড সার্চ (সাঁড়াশি) অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তথাকথিত "সন্দেহজনক চলাচলের" অজুহাতে বিল্লাওয়ারের জঙ্গল এলাকা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক কেন্দ্র শ্রীনগর পর্যন্ত এই অভিযান চালানো হচ্ছে। সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত তল্লাশি ও সাময়িক চেকপোস্ট স্থাপনের কারণে পুরো উপত্যকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এবং সর্বসাধারণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিস (কেএমএস)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, উদমপুর-কাঠুয়া সীমান্তের বিল্লাওয়ার জঙ্গল এলাকায় কথিত সন্দেহজনক গতিবিধির খবর পেয়ে যৌথভাবে চিরুনি অভিযান শুরু করে ভারতীয় বাহিনী। এলাকাটিতে ব্যাপক নিরাপত্তার মহড়া ও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। কাঠুয়া জেলার সিনিয়র পুলিশ সুপার (অপারেশনস) প্রীতপাল সিং সাংবাদিকদের জানান, সীমান্ত অঞ্চলে সতর্কতা বজায় রাখার অংশ হিসেবে এ ধরণের অভিযান তাদের নিয়মিত প্রক্রিয়ারই অন্তর্ভুক্ত।

উপত্যকার রিয়াছি জেলার দুর্গম পৌনি এলাকাতেও একই ধরনের সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্তকরণ ও তল্লাশির নামে দুর্গম পাহাড়ি গ্রামগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সার্বিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, রাজধানী শ্রীনগরের ঐতিহাসিক লাল চক ও তৎসংলগ্ন ব্যস্ত এলাকাগুলোতে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও আধা-সামরিক ব্যাটালিয়ন ব্যাপক তল্লাশি কার্যক্রম চলায়। ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট এবং রাস্তার পাশে পার্ক করা বিভিন্ন যানবাহনে স্নিফার ডগ (গন্ধ শুঁকে জিনিস শনাক্তকারী কুকুর) ব্যবহার করে তল্লাশি চালানো হয়। তথাকথিত নিরাপত্তা মহড়ার নামে ব্যস্ততম এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রে সেনা বাহিনীর পদচারণা ও তল্লাশিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ পথচারীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। জম্মু-রাজৌরি-পুঞ্চ মহাসড়কজুড়ে ভারতীয় বাহিনীর সদস্য বাড়ানো হয়েছে। এই রুটে বহুসংখ্যক অস্থায়ী চেকপোস্ট বা তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে, যেখানে দূরপাল্লার যাত্রী ও গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গত ১৭ ও ১৮ আগস্ট থেকে উদমপুর, রিয়াছি, কাঠুয়া এবং সাম্বা জেলার বিভিন্ন স্থানে শুরু হওয়া এই কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অভিযান আজও অব্যাহত রয়েছে। অব্যাহত সেনা মহড়া ও অভিযানের নামে কাশ্মীরের সাধারণ জনগণের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের তোয়াক্কা না করে সমগ্র উপত্যকাকে সামরিক ছাউনিতে পরিণত করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

বিষয় : জম্মু কাশ্মীর ভারতীয় বাহিনী অভিযান

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বাড়ছে ভারতীয় বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: তল্লাশির নামে সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারত-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের (আইআইওজেকে) বিভিন্ন জেলায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী তাদের কঠোর কর্ডন অ্যান্ড সার্চ (সাঁড়াশি) অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তথাকথিত "সন্দেহজনক চলাচলের" অজুহাতে বিল্লাওয়ারের জঙ্গল এলাকা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক কেন্দ্র শ্রীনগর পর্যন্ত এই অভিযান চালানো হচ্ছে। সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত তল্লাশি ও সাময়িক চেকপোস্ট স্থাপনের কারণে পুরো উপত্যকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এবং সর্বসাধারণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিস (কেএমএস)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, উদমপুর-কাঠুয়া সীমান্তের বিল্লাওয়ার জঙ্গল এলাকায় কথিত সন্দেহজনক গতিবিধির খবর পেয়ে যৌথভাবে চিরুনি অভিযান শুরু করে ভারতীয় বাহিনী। এলাকাটিতে ব্যাপক নিরাপত্তার মহড়া ও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। কাঠুয়া জেলার সিনিয়র পুলিশ সুপার (অপারেশনস) প্রীতপাল সিং সাংবাদিকদের জানান, সীমান্ত অঞ্চলে সতর্কতা বজায় রাখার অংশ হিসেবে এ ধরণের অভিযান তাদের নিয়মিত প্রক্রিয়ারই অন্তর্ভুক্ত।

উপত্যকার রিয়াছি জেলার দুর্গম পৌনি এলাকাতেও একই ধরনের সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্তকরণ ও তল্লাশির নামে দুর্গম পাহাড়ি গ্রামগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সার্বিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, রাজধানী শ্রীনগরের ঐতিহাসিক লাল চক ও তৎসংলগ্ন ব্যস্ত এলাকাগুলোতে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও আধা-সামরিক ব্যাটালিয়ন ব্যাপক তল্লাশি কার্যক্রম চলায়। ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট এবং রাস্তার পাশে পার্ক করা বিভিন্ন যানবাহনে স্নিফার ডগ (গন্ধ শুঁকে জিনিস শনাক্তকারী কুকুর) ব্যবহার করে তল্লাশি চালানো হয়। তথাকথিত নিরাপত্তা মহড়ার নামে ব্যস্ততম এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রে সেনা বাহিনীর পদচারণা ও তল্লাশিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ পথচারীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। জম্মু-রাজৌরি-পুঞ্চ মহাসড়কজুড়ে ভারতীয় বাহিনীর সদস্য বাড়ানো হয়েছে। এই রুটে বহুসংখ্যক অস্থায়ী চেকপোস্ট বা তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে, যেখানে দূরপাল্লার যাত্রী ও গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গত ১৭ ও ১৮ আগস্ট থেকে উদমপুর, রিয়াছি, কাঠুয়া এবং সাম্বা জেলার বিভিন্ন স্থানে শুরু হওয়া এই কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অভিযান আজও অব্যাহত রয়েছে। অব্যাহত সেনা মহড়া ও অভিযানের নামে কাশ্মীরের সাধারণ জনগণের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের তোয়াক্কা না করে সমগ্র উপত্যকাকে সামরিক ছাউনিতে পরিণত করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ