রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

প্যারিসে নির্বাসিত অবস্থায় ১৯৪৪ সালের ২৩ আগস্ট শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দ্বিতীয় আবদুল মাজিদ; স্বদেশে দাফনের অনুমতি না পাওয়ায় এক দশক প্যারিস মসজিদে সংরক্ষিত ছিল তাঁর মরদেহ।

শেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মাজিদের মৃত্যু ও দাফনের ইতিহাস



শেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মাজিদের মৃত্যু ও দাফনের ইতিহাস

উসমানীয় সালতানাতের ইতিহাস ও মুসলিম বিশ্বের খিলাফত ব্যবস্থার শেষ প্রতীক, দ্বিতীয় আবদুল মাজিদ ১৯৪৪ সালের ২৩ আগস্ট প্যারিসে নির্বাসনে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ১৯২৪ সালে তুর্কি প্রজাতন্ত্র কর্তৃক খিলাফত বিলুপ্ত এবং রাজপরিবারকে নির্বাসিত করার পর তিনি প্রথমে সুইজারল্যান্ড ও পরে ফ্রান্সে আশ্রয় নেন। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ নিজ জন্মভূমি তুরস্কে দাফনের জন্য স্বজনরা নিরলস চেষ্টা চালালেও তৎকালীন তুর্কি সরকারের নিষেধাজ্ঞায় তা ব্যর্থ হয়। দীর্ঘ ১০ বছর প্যারিস মসজিদে সংরক্ষিত রাখার পর অবশেষে ১৯৫৪ সালে পবিত্র মদিনা মোনাওয়ারার জান্নাতুল বাকীতে তাঁকে দাফন করা হয়।

ইতিহাসের পাতায় ২৩ আগস্ট একটি স্মরণীয় ও ট্র্যাজিক দিন। ১৯৪৪ সালের এই দিনে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন উসমানীয় সাম্রাজ্য ও মুসলিম বিশ্বের সর্বশেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মাজিদ।

১৯২৪ সালের ৩ মার্চ আধুনিক তুরস্কের আইনসভায় খিলাফত বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং একই সঙ্গে উসমানীয় রাজপরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগে বাধ্য করে আইন পাস হয়। এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মুখে খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মাজিদ তাঁর পরিবারসহ প্রথমে সুইজারল্যান্ডে গমন করেন এবং পরবর্তীকালে ফ্রান্সের প্যারিসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

প্যারিসে অবস্থানকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উত্তাল তরঙ্গ ও নাৎসি বাহিনীর ফ্রান্স দখলের নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হন তিনি। নাৎসি বাহিনী প্যারিস ত্যাগ করার মাত্র কয়েক দিন আগে, ১৯৪৪ সালের ২৩ আগস্ট খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মাজিদ ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন)।

তাঁর প্রয়াণের পরপরই শুরু হয় এক ঐতিহাসিক ও হৃদয়বিদারক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সংগ্রাম। খলিফার প্রতিনিধি সালেহ কেরামেত নিগার এবং তাঁর কন্যা দুররুশেহওয়ার সুলতান (দুররুশেহভার সুলতান) আপ্রাণ চেষ্টা চালান যাতে শেষ খলিফার মরদেহ তাঁর প্রিয় জন্মভূমি ইস্তাম্বুলে ফিরিয়ে এনে দাফন করা যায়। কিন্তু তৎকালীন তুর্কি সরকারের রাজনৈতিক কঠোরতা ও রাজনৈতিক বিধিনিষেধের কারণে নিজ দেশে তাঁর দাফনের অনুমতি মেলেনি।

ফলে তাঁর মরদেহ মমিকৃত (Tahnit) অবস্থায় প্যারিস জামে মসজিদে দীর্ঘ ১০ বছর অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। স্বদেশে দাফনের সমস্ত কূটনৈতিক ও আইনি পথ রুদ্ধ হয়ে গেলে, মুসলিম বিশ্বের এই সম্মানিত নেতার মরদেহ কোনো মুসলিম পুণ্যভূমিতে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অবশেষে ১৯৫৪ সালের ৩০ মার্চ দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটে। প্যারিস মসজিদ থেকে পরম শ্রদ্ধায় তাঁর মরদেহ স্থানান্তর করা হয় ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম নগরী মদিনা মোনাওয়ারায়। সেখানে নবী করিম (সা.)-এর রওজা মোবারকের সান্নিধ্যে অবস্থিত ঐতিহাসিক 'জন্নাতুল বাকী' কবরস্থানে শেষ উসমানীয় খলিফাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

বিষয় : খলিফা উসমানী

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


শেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মাজিদের মৃত্যু ও দাফনের ইতিহাস

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

উসমানীয় সালতানাতের ইতিহাস ও মুসলিম বিশ্বের খিলাফত ব্যবস্থার শেষ প্রতীক, দ্বিতীয় আবদুল মাজিদ ১৯৪৪ সালের ২৩ আগস্ট প্যারিসে নির্বাসনে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ১৯২৪ সালে তুর্কি প্রজাতন্ত্র কর্তৃক খিলাফত বিলুপ্ত এবং রাজপরিবারকে নির্বাসিত করার পর তিনি প্রথমে সুইজারল্যান্ড ও পরে ফ্রান্সে আশ্রয় নেন। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ নিজ জন্মভূমি তুরস্কে দাফনের জন্য স্বজনরা নিরলস চেষ্টা চালালেও তৎকালীন তুর্কি সরকারের নিষেধাজ্ঞায় তা ব্যর্থ হয়। দীর্ঘ ১০ বছর প্যারিস মসজিদে সংরক্ষিত রাখার পর অবশেষে ১৯৫৪ সালে পবিত্র মদিনা মোনাওয়ারার জান্নাতুল বাকীতে তাঁকে দাফন করা হয়।

ইতিহাসের পাতায় ২৩ আগস্ট একটি স্মরণীয় ও ট্র্যাজিক দিন। ১৯৪৪ সালের এই দিনে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন উসমানীয় সাম্রাজ্য ও মুসলিম বিশ্বের সর্বশেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মাজিদ।

১৯২৪ সালের ৩ মার্চ আধুনিক তুরস্কের আইনসভায় খিলাফত বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং একই সঙ্গে উসমানীয় রাজপরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগে বাধ্য করে আইন পাস হয়। এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মুখে খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মাজিদ তাঁর পরিবারসহ প্রথমে সুইজারল্যান্ডে গমন করেন এবং পরবর্তীকালে ফ্রান্সের প্যারিসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

প্যারিসে অবস্থানকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উত্তাল তরঙ্গ ও নাৎসি বাহিনীর ফ্রান্স দখলের নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হন তিনি। নাৎসি বাহিনী প্যারিস ত্যাগ করার মাত্র কয়েক দিন আগে, ১৯৪৪ সালের ২৩ আগস্ট খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মাজিদ ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন)।

তাঁর প্রয়াণের পরপরই শুরু হয় এক ঐতিহাসিক ও হৃদয়বিদারক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সংগ্রাম। খলিফার প্রতিনিধি সালেহ কেরামেত নিগার এবং তাঁর কন্যা দুররুশেহওয়ার সুলতান (দুররুশেহভার সুলতান) আপ্রাণ চেষ্টা চালান যাতে শেষ খলিফার মরদেহ তাঁর প্রিয় জন্মভূমি ইস্তাম্বুলে ফিরিয়ে এনে দাফন করা যায়। কিন্তু তৎকালীন তুর্কি সরকারের রাজনৈতিক কঠোরতা ও রাজনৈতিক বিধিনিষেধের কারণে নিজ দেশে তাঁর দাফনের অনুমতি মেলেনি।

ফলে তাঁর মরদেহ মমিকৃত (Tahnit) অবস্থায় প্যারিস জামে মসজিদে দীর্ঘ ১০ বছর অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। স্বদেশে দাফনের সমস্ত কূটনৈতিক ও আইনি পথ রুদ্ধ হয়ে গেলে, মুসলিম বিশ্বের এই সম্মানিত নেতার মরদেহ কোনো মুসলিম পুণ্যভূমিতে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অবশেষে ১৯৫৪ সালের ৩০ মার্চ দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটে। প্যারিস মসজিদ থেকে পরম শ্রদ্ধায় তাঁর মরদেহ স্থানান্তর করা হয় ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম নগরী মদিনা মোনাওয়ারায়। সেখানে নবী করিম (সা.)-এর রওজা মোবারকের সান্নিধ্যে অবস্থিত ঐতিহাসিক 'জন্নাতুল বাকী' কবরস্থানে শেষ উসমানীয় খলিফাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ