মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা হ্রাস এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে একটি নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পাকিস্তান। দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। ২৫ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, পূর্বে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ (এমওইউ) পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে দু'পক্ষই ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বৈরিতা এবং এর প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তৈরি হওয়া অস্থিরতা নিরসনে আবারও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে পাকিস্তান। চলমান সংঘাতের একটি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে পূর্বে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বহুল আলোচিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ (এমওইউ) পুনরুজ্জীবিত করতে তেহরানের সাথে নতুন করে এই আলোচনা শুরু করেছে ইসলামাবাদ।
পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রদত্ত এক বার্তায় জানান, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে সাথে নিয়ে তারা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে তেহরানে একটি অত্যন্ত গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ বৈঠক সম্পন্ন করেছেন।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে মূলত ইরান-আমেরিকা সংঘাতের মূল কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা এবং বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কৌশল নিয়ে গভীর আলোচনা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ পুনরায় সক্রিয় করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। পাকিস্তান মনে করে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মুসলিম উম্মাহর নিরাপত্তার স্বার্থে এই কূটনৈতিক পথটিই সবচেয়ে কার্যকর।
বৈঠকের পরিবেশ তুলে ধরে পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তাঁর সরকারের কৌশলগত অবস্থান, মূল উদ্বেগ ও দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত খোলামেলাভাবে উপস্থাপন করেছেন। উভয় পক্ষই আন্তরিক ও অর্থবহ আলোচনার মাধ্যমে নিজ নিজ অবস্থান পরিষ্কার করেছে।
নকভি নিশ্চিত করেন যে, এই সংলাপের মাধ্যমে ইতিবাচক বার্তা পাওয়া গেছে এবং আঞ্চলিক শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।
মতামত