ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য আমদানি, সংরক্ষণ এবং সরবরাহে যুক্ত থাকার অভিযোগে ভারতের চারটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষিত এই পদক্ষেপটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ভূ-রাজনীতি এবং তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার নীতির একটি প্রধান অংশ। 'অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট'-এর আওতায় এ পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের আয়ের উৎস পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্য নিয়েছে ওয়াশিংটন।
ইরানের জ্বালানি খাতের সাথে বাণিজ্য অব্যাহত রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানি তেল পরিবহনে সহায়তার অভিযোগে চারটি ভারতীয় কোম্পানির ওপর কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। মধ্যপ্রাচ্যের স্বাধীন অর্থনৈতিক নীতিমালার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসনের যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তারই অংশ হিসেবে ভারতীয় এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক নিষেধাজ্ঞা নামিয়ে আনা হলো।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ভারতীয় চার প্রতিষ্ঠান হলো—পোর্টিস পার্টনার এলএলপি, সদাশিব ওভারসিজ লিমিটেড, পিআর সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রাক্রুতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড। মার্কিন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই কোম্পানিগুলো ইরান থেকে জ্বালানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য আমদানি, মজুত, স্থানান্তর ও বিক্রির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইরানকে বিপুল অর্থ উপার্জনে সহায়তা করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত এই পদক্ষেপটি মূলত ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অংশ। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বিশ্বের যেকোনো দেশের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি ইরানের সামরিক বাহিনী কিংবা দেশটির জ্বালানি খাতের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখে, তবে তাদের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে। ভারতের এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নেওয়া ব্যবস্থা সেই দীর্ঘমেয়াদি নীতিরই প্রতিফলন।
এর আগে গত ১৯ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে আন্তর্জাতিক চুক্তি ব্যর্থ হওয়ার অজুহাতে তেহরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসন তেহরানকে চুক্তিতে ফেরাতে একাধিক সুযোগ প্রদান করলেও ইরান তাতে সাড়া দেয়নি, যার ফলে এই ধরনের সমন্বিত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে। মার্কিন কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে বিশ্বিক ব্যাংকিং ও বাণিজ্য ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোর্টিস পার্টনার্স নামক কাস্টমস ব্রোকার প্রতিষ্ঠানটি ভারতে বিপুল পরিমাণ ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য সরবরাহে সরাসরি জড়িত ছিল। এই প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির দুই অংশীদার ইদ্রিসমিয়া আশরাফমিয়া শেখ ও হরিশ রামচন্দ্র রাঙ্গির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, সদাশিব ওভারসিজ ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ইরানি পণ্য আমদানি করে। একইভাবে, পিপি সফটটেক ও প্রাক্রুতিস ইনফ্রা ইমপেক্স যথাক্রমে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে মোট বিপুল অঙ্কের ইরানি পণ্য লেনদেন প্রক্রিয়ায় সহায়তা জুগিয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞার অধীনে উক্ত চার প্রতিষ্ঠানের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সমস্ত সম্পদ বা মার্কিন নাগরিকদের কাছে থাকা তাদের আর্থিক লভ্যাংশ অবরুদ্ধ করা হবে। বিশ্বব্যাপী মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রভাব কাজে লাগিয়ে সার্বভৌম দেশগুলোর স্বাধীন বাণিজ্য আটকে দেওয়ার মার্কিন কৌশলের মুখে ভারতীয় এই ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো এখন বিশাল আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বিষয় : নিষেধাজ্ঞা ইরান ওয়াশিংটন

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬
ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য আমদানি, সংরক্ষণ এবং সরবরাহে যুক্ত থাকার অভিযোগে ভারতের চারটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষিত এই পদক্ষেপটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ভূ-রাজনীতি এবং তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার নীতির একটি প্রধান অংশ। 'অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট'-এর আওতায় এ পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের আয়ের উৎস পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্য নিয়েছে ওয়াশিংটন।
ইরানের জ্বালানি খাতের সাথে বাণিজ্য অব্যাহত রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানি তেল পরিবহনে সহায়তার অভিযোগে চারটি ভারতীয় কোম্পানির ওপর কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। মধ্যপ্রাচ্যের স্বাধীন অর্থনৈতিক নীতিমালার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসনের যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তারই অংশ হিসেবে ভারতীয় এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক নিষেধাজ্ঞা নামিয়ে আনা হলো।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ভারতীয় চার প্রতিষ্ঠান হলো—পোর্টিস পার্টনার এলএলপি, সদাশিব ওভারসিজ লিমিটেড, পিআর সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রাক্রুতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড। মার্কিন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই কোম্পানিগুলো ইরান থেকে জ্বালানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য আমদানি, মজুত, স্থানান্তর ও বিক্রির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইরানকে বিপুল অর্থ উপার্জনে সহায়তা করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত এই পদক্ষেপটি মূলত ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অংশ। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বিশ্বের যেকোনো দেশের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি ইরানের সামরিক বাহিনী কিংবা দেশটির জ্বালানি খাতের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখে, তবে তাদের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে। ভারতের এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নেওয়া ব্যবস্থা সেই দীর্ঘমেয়াদি নীতিরই প্রতিফলন।
এর আগে গত ১৯ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে আন্তর্জাতিক চুক্তি ব্যর্থ হওয়ার অজুহাতে তেহরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসন তেহরানকে চুক্তিতে ফেরাতে একাধিক সুযোগ প্রদান করলেও ইরান তাতে সাড়া দেয়নি, যার ফলে এই ধরনের সমন্বিত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে। মার্কিন কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে বিশ্বিক ব্যাংকিং ও বাণিজ্য ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোর্টিস পার্টনার্স নামক কাস্টমস ব্রোকার প্রতিষ্ঠানটি ভারতে বিপুল পরিমাণ ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য সরবরাহে সরাসরি জড়িত ছিল। এই প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির দুই অংশীদার ইদ্রিসমিয়া আশরাফমিয়া শেখ ও হরিশ রামচন্দ্র রাঙ্গির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, সদাশিব ওভারসিজ ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ইরানি পণ্য আমদানি করে। একইভাবে, পিপি সফটটেক ও প্রাক্রুতিস ইনফ্রা ইমপেক্স যথাক্রমে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে মোট বিপুল অঙ্কের ইরানি পণ্য লেনদেন প্রক্রিয়ায় সহায়তা জুগিয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞার অধীনে উক্ত চার প্রতিষ্ঠানের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সমস্ত সম্পদ বা মার্কিন নাগরিকদের কাছে থাকা তাদের আর্থিক লভ্যাংশ অবরুদ্ধ করা হবে। বিশ্বব্যাপী মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রভাব কাজে লাগিয়ে সার্বভৌম দেশগুলোর স্বাধীন বাণিজ্য আটকে দেওয়ার মার্কিন কৌশলের মুখে ভারতীয় এই ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো এখন বিশাল আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

আপনার মতামত লিখুন