শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

অস্ট্রিয়ার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে অনুকরণ করে হিজাব নিষিদ্ধের চক্রান্ত; মুসলিমবিদ্বেষ ও রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন সমালোচকরা।

জার্মানিতে ১৪ বছরের কম বয়সী মুসলিম মেয়েদের হিজাব নিষিদ্ধের পাঁয়তারা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

জার্মানিতে ১৪ বছরের কম বয়সী মুসলিম মেয়েদের হিজাব নিষিদ্ধের পাঁয়তারা

জার্মানির চরম ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) সেদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৪ বছরের কম বয়সী মুসলিম মেয়েদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ করার জোর দাবি তুলেছে। পার্শ্ববর্তী দেশ অস্ট্রিয়ার মুসলিমবিদ্বেষী সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে জার্মানিতেও একই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠেয় রাজ্য নির্বাচনকে সামনে রেখে মুসলিমবিরোধী আবেগ উসকে দিতেই এই চক্রান্ত চালানো হচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারের নীতি নির্ধারক ও সমালোচকরা।

জার্মানিতে মুসলিম সম্প্রদায় ও তাঁদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আবারও আঘাত হানার অপচেষ্টা শুরু করেছে চরম ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি)। এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১৪ বছরের নিচে মুসলিম শিশু ও কিশোরীদের হিজাব পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি তুলে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে দলটি।

সোমবারে এএফডির সংসদীয় দল এক বিবৃতিতে জানায়, জার্মানির উচিত পার্শ্ববর্তী দেশ অস্ট্রিয়াকে অনুসরণ করা। উল্লেখ্য, আগামী মাস থেকে অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের জন্য স্কুলে ইসলামিক পোশাক এবং হিজাব পরা নিষিদ্ধ করে একটি নতুন নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে।

এএফডির আইন প্রণেতা কার্স্টিন প্রজাইগোডা অস্ট্রিয়ার হিজাব নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করার বিষয়ে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন এবং একে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তথাকথিত "পাশ্চাত্য মূল্যবোধ" রক্ষার দোহাই দিয়ে তিনি বলেন, "জার্মানির মূলধারার দলগুলো অভিবাসনের মোহে অন্ধ হয়ে তরুণীদের ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। তবে এএফডি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ট্রিয়ার মতো শিশুদের হিজাব নিষিদ্ধের মডেল চালুর জোর দাবি জানাচ্ছে।"

চলতি বছরের শুরুর দিকেও এএফডি হিজাব নিষিদ্ধ করার একটি প্রচেষ্টা চালিয়েছিল, যা জার্মান পার্লামেন্টে চরম বিতর্কের সৃষ্টি করে। চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের মধ্য-ডানপন্থী ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ), তাদের জোট সঙ্গী সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) এবং বিরোধী গ্রিনস পার্টি একযোগে এএফডির এই প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা ও প্রত্যাখ্যান করেছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, আসন্ন রাজ্য নির্বাচনকে লক্ষ্য করেই এই ধর্মীয় বৈষম্যমূলক অবস্থান নিয়েছে চরমপন্থীরা। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর স্যাক্সনি-আনহাল্ট এবং ২০ সেপ্টেম্বর বার্লিন ও মেকলেনবুর্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে মুসলিমবিরোধী জনমত তৈরি করে রাজনৈতিক সুবিধা তোলাই এএফডির প্রধান উদ্দেশ্য।

সমালোচকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, জার্মানির মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর জোরপূর্বক হিজাব চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়ে এএফডি যেসব দাবি করছে, তার পেছনে কোনো শক্ত প্রমাণ বা তথ্য নেই। প্রকৃত পক্ষে, যেসব তরুণী বা কিশোরী হিজাব পরিধান করে, তারা মূলত পারিবারিক ঐতিহ্য, সংস্কৃতি বা নিজস্ব ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার চর্চার অংশ হিসেবেই তা করে থাকে, কোনো জোরজবরদস্তির কারণে নয়।

বিষয় : মানবাধিকার জার্মানি হিজাব

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


জার্মানিতে ১৪ বছরের কম বয়সী মুসলিম মেয়েদের হিজাব নিষিদ্ধের পাঁয়তারা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জার্মানির চরম ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) সেদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৪ বছরের কম বয়সী মুসলিম মেয়েদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ করার জোর দাবি তুলেছে। পার্শ্ববর্তী দেশ অস্ট্রিয়ার মুসলিমবিদ্বেষী সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে জার্মানিতেও একই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠেয় রাজ্য নির্বাচনকে সামনে রেখে মুসলিমবিরোধী আবেগ উসকে দিতেই এই চক্রান্ত চালানো হচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারের নীতি নির্ধারক ও সমালোচকরা।

জার্মানিতে মুসলিম সম্প্রদায় ও তাঁদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আবারও আঘাত হানার অপচেষ্টা শুরু করেছে চরম ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি)। এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১৪ বছরের নিচে মুসলিম শিশু ও কিশোরীদের হিজাব পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি তুলে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে দলটি।

সোমবারে এএফডির সংসদীয় দল এক বিবৃতিতে জানায়, জার্মানির উচিত পার্শ্ববর্তী দেশ অস্ট্রিয়াকে অনুসরণ করা। উল্লেখ্য, আগামী মাস থেকে অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের জন্য স্কুলে ইসলামিক পোশাক এবং হিজাব পরা নিষিদ্ধ করে একটি নতুন নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে।

এএফডির আইন প্রণেতা কার্স্টিন প্রজাইগোডা অস্ট্রিয়ার হিজাব নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করার বিষয়ে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন এবং একে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তথাকথিত "পাশ্চাত্য মূল্যবোধ" রক্ষার দোহাই দিয়ে তিনি বলেন, "জার্মানির মূলধারার দলগুলো অভিবাসনের মোহে অন্ধ হয়ে তরুণীদের ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। তবে এএফডি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ট্রিয়ার মতো শিশুদের হিজাব নিষিদ্ধের মডেল চালুর জোর দাবি জানাচ্ছে।"

চলতি বছরের শুরুর দিকেও এএফডি হিজাব নিষিদ্ধ করার একটি প্রচেষ্টা চালিয়েছিল, যা জার্মান পার্লামেন্টে চরম বিতর্কের সৃষ্টি করে। চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের মধ্য-ডানপন্থী ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ), তাদের জোট সঙ্গী সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) এবং বিরোধী গ্রিনস পার্টি একযোগে এএফডির এই প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা ও প্রত্যাখ্যান করেছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, আসন্ন রাজ্য নির্বাচনকে লক্ষ্য করেই এই ধর্মীয় বৈষম্যমূলক অবস্থান নিয়েছে চরমপন্থীরা। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর স্যাক্সনি-আনহাল্ট এবং ২০ সেপ্টেম্বর বার্লিন ও মেকলেনবুর্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে মুসলিমবিরোধী জনমত তৈরি করে রাজনৈতিক সুবিধা তোলাই এএফডির প্রধান উদ্দেশ্য।

সমালোচকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, জার্মানির মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর জোরপূর্বক হিজাব চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়ে এএফডি যেসব দাবি করছে, তার পেছনে কোনো শক্ত প্রমাণ বা তথ্য নেই। প্রকৃত পক্ষে, যেসব তরুণী বা কিশোরী হিজাব পরিধান করে, তারা মূলত পারিবারিক ঐতিহ্য, সংস্কৃতি বা নিজস্ব ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার চর্চার অংশ হিসেবেই তা করে থাকে, কোনো জোরজবরদস্তির কারণে নয়।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ