শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল ব্যক্তিদের কেউ নিশ্চিহ্ন বা কোনো ক্ষতি করতে পারবে না; মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ ও সিরাত অনুসরণের আহ্বান জানান আল্লামা মুফতি আবদুল মালেক।

কেয়ামত পর্যন্ত হকের ওপর একটি দল প্রতিষ্ঠিত থাকবে: জাতীয় মসজিদের খতিব


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

কেয়ামত পর্যন্ত হকের ওপর একটি দল প্রতিষ্ঠিত থাকবে: জাতীয় মসজিদের খতিব

সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল ব্যক্তিদের কেউ কখনো নিশ্চিহ্ন বা পরাজিত করতে পারবে না। কেয়ামত পর্যন্ত একটি দল হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং বিরোধীরা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব আল্লামা মুফতি আবদুল মালেক। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জুমার নামাজের আগে দেওয়া খুতবায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি ইসলামের সঠিক শিক্ষা অর্জন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সিরাত অনুশীলনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সত্য ও হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের কেউ ক্ষতি করতে পারবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। তিনি জানান, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) স্পষ্ট বার্তা দিয়ে গেছেন যে কেয়ামত পর্যন্ত একটি দল সত্য ও হকের ওপর অবিচল থাকবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে শত্রুতা বা বিরোধিতা করে কেউ কোনো ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। আল্লাহ তাআলা এভাবেই যুগ যুগ ধরে তাঁর দ্বীন ও হকপন্থীদের হেফাজত করে আসছেন এবং কেয়ামত পর্যন্ত এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

জুমার খুতবায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাম ও অনুপম গুণাবলি তুলে ধরে খতিব বলেন, মহানবীর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ নাম ‘মুহাম্মদ’ এবং অপর নাম ‘আহমাদ’, যা পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া হাদিস শরিফেও তাঁর একাধিক নামের বিবরণ পাওয়া যায়। কুরআনে আল্লাহ তাআলা মহানবী (সা.)-এর অপরিসীম দয়া, স্নেহ ও উম্মতের প্রতি গভীর অনুকম্পার কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন উম্মতের দুঃখ-কষ্টে ব্যথিত এবং মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।

নবুওয়াতি জীবনের তাৎপর্য তুলে ধরে খতিব বলেন, নবুওয়াত লাভের পর আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আরও ২৩ বছর হায়াত দান করেন। এ সময়ে মহান আল্লাহর কুদরত ও রহমতের অগণিত নিদর্শন আত্মপ্রকাশ করেছে। এসব চিরন্তন শিক্ষা ও ঐতিহাসিক ঘটনা সঠিকভাবে জানতে সিরাত চর্চা ও অধ্যয়নের কোনো বিকল্প নেই।

মক্কী জীবনের ওপর আলোকপাত করে মুফতি আবদুল মালেক বলেন, নবুওয়াত পরবর্তী ১৩ বছরের মক্কী জীবনে কুরআনের অধিকাংশ সুরা নাজিল হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের কাছে ওহি তেলাওয়াত করে শোনাতেন এবং সাহাবিরা পরম নিষ্ঠার সাথে তা নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করতেন। চরম প্রতিকূল পরিবেশ ও বাধার মুখেও তিনি ইসলামের দাওয়াত প্রচার অব্যাহত রেখেছিলেন। ইসলামের সূচনা লগ্নে কাফেরদের পক্ষ থেকে ঈমানদারদের ওপর কঠোর নির্যাতন চালানো হলেও সাহাবিরা সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হননি।

ইসলামি শরিয়ত ও পবিত্র কুরআনের সুরক্ষার বিষয়ে খতিব নিশ্চিত করে বলেন, আল্লাহ তাআলা যে শরিয়ত অবতীর্ণ করেছেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে তা সাহাবিদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, তা আজও সম্পূর্ণ বিকৃতিমুক্ত ও সংরক্ষিত রয়েছে। ইসলামি বিধানে কেউ কোনো ধরনের পরিবর্তন বা বিকৃতি ঘটানোর অপচেষ্টা করলে তা সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে যায়।

খুতবায় মুফতি আবদুল মালেক সংক্ষেপে মহানবী (সা.)-এর মক্কার জীবন, মদিনায় হিজরত, মদিনার জীবনযাপন, বিভিন্ন ঐতিহাসিক যুদ্ধ এবং বিদায় হজের ভাষণের শিক্ষা সংক্ষেপে উপস্থাপন করে সবাইকে প্রিয় নবীর জীবনাদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।

বিষয় : খুতবা বায়তুল মোকাররম

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


কেয়ামত পর্যন্ত হকের ওপর একটি দল প্রতিষ্ঠিত থাকবে: জাতীয় মসজিদের খতিব

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল ব্যক্তিদের কেউ কখনো নিশ্চিহ্ন বা পরাজিত করতে পারবে না। কেয়ামত পর্যন্ত একটি দল হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং বিরোধীরা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব আল্লামা মুফতি আবদুল মালেক। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জুমার নামাজের আগে দেওয়া খুতবায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি ইসলামের সঠিক শিক্ষা অর্জন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সিরাত অনুশীলনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সত্য ও হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের কেউ ক্ষতি করতে পারবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। তিনি জানান, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) স্পষ্ট বার্তা দিয়ে গেছেন যে কেয়ামত পর্যন্ত একটি দল সত্য ও হকের ওপর অবিচল থাকবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে শত্রুতা বা বিরোধিতা করে কেউ কোনো ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। আল্লাহ তাআলা এভাবেই যুগ যুগ ধরে তাঁর দ্বীন ও হকপন্থীদের হেফাজত করে আসছেন এবং কেয়ামত পর্যন্ত এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

জুমার খুতবায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাম ও অনুপম গুণাবলি তুলে ধরে খতিব বলেন, মহানবীর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ নাম ‘মুহাম্মদ’ এবং অপর নাম ‘আহমাদ’, যা পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া হাদিস শরিফেও তাঁর একাধিক নামের বিবরণ পাওয়া যায়। কুরআনে আল্লাহ তাআলা মহানবী (সা.)-এর অপরিসীম দয়া, স্নেহ ও উম্মতের প্রতি গভীর অনুকম্পার কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন উম্মতের দুঃখ-কষ্টে ব্যথিত এবং মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।

নবুওয়াতি জীবনের তাৎপর্য তুলে ধরে খতিব বলেন, নবুওয়াত লাভের পর আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আরও ২৩ বছর হায়াত দান করেন। এ সময়ে মহান আল্লাহর কুদরত ও রহমতের অগণিত নিদর্শন আত্মপ্রকাশ করেছে। এসব চিরন্তন শিক্ষা ও ঐতিহাসিক ঘটনা সঠিকভাবে জানতে সিরাত চর্চা ও অধ্যয়নের কোনো বিকল্প নেই।

মক্কী জীবনের ওপর আলোকপাত করে মুফতি আবদুল মালেক বলেন, নবুওয়াত পরবর্তী ১৩ বছরের মক্কী জীবনে কুরআনের অধিকাংশ সুরা নাজিল হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের কাছে ওহি তেলাওয়াত করে শোনাতেন এবং সাহাবিরা পরম নিষ্ঠার সাথে তা নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করতেন। চরম প্রতিকূল পরিবেশ ও বাধার মুখেও তিনি ইসলামের দাওয়াত প্রচার অব্যাহত রেখেছিলেন। ইসলামের সূচনা লগ্নে কাফেরদের পক্ষ থেকে ঈমানদারদের ওপর কঠোর নির্যাতন চালানো হলেও সাহাবিরা সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হননি।

ইসলামি শরিয়ত ও পবিত্র কুরআনের সুরক্ষার বিষয়ে খতিব নিশ্চিত করে বলেন, আল্লাহ তাআলা যে শরিয়ত অবতীর্ণ করেছেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে তা সাহাবিদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, তা আজও সম্পূর্ণ বিকৃতিমুক্ত ও সংরক্ষিত রয়েছে। ইসলামি বিধানে কেউ কোনো ধরনের পরিবর্তন বা বিকৃতি ঘটানোর অপচেষ্টা করলে তা সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে যায়।

খুতবায় মুফতি আবদুল মালেক সংক্ষেপে মহানবী (সা.)-এর মক্কার জীবন, মদিনায় হিজরত, মদিনার জীবনযাপন, বিভিন্ন ঐতিহাসিক যুদ্ধ এবং বিদায় হজের ভাষণের শিক্ষা সংক্ষেপে উপস্থাপন করে সবাইকে প্রিয় নবীর জীবনাদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ