শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ ও আসাদ শাসনের পতনের পর আলেপ্পোর ঐতিহ্যবাহী ঐতিহাসিক উমাইয়া গ্র্যান্ড মসজিদ পুনরায় ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত করা হলো।

১৩ বছর পর পুনরায় চালু হলো সিরিয়ার ঐতিহাসিক উমাইয়া গ্র্যান্ড মসজিদ


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

১৩ বছর পর পুনরায় চালু হলো সিরিয়ার ঐতিহাসিক উমাইয়া গ্র্যান্ড মসজিদ

দীর্ঘ ১৩ বছর বন্ধ থাকার পর সিরিয়ার ঐতিহাসিক আলেপ্পো শহরের ঐতিহ্যবাহী উমাইয়া গ্র্যান্ড মসজিদ আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় চালু করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এক জাকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সিরিয়ার বিখ্যাত এই উপাসনালয়টি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। গত ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর আলেপ্পোর ওয়াকফ নির্দেশনালয় দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই ঐতিহাসিক স্থাপনার সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় প্রধান শহর আলেপ্পোর বুক জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন উমাইয়া গ্র্যান্ড মসজিদ দীর্ঘ দিন পর আবারও মুসুল্লিদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্থানীয় গভর্নর আজ্জাম আল-গারিবের উপস্থিতিতে মসজিদটির পুনরায় উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-ইখবারিয়ায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

সংঘাতের ইতিহাস ও ধ্বংসযজ্ঞ

২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে আলেপ্পো ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় আসাদ বাহিনীর সাথে বিপ্লবী ও বিরোধী দলীয় যোদ্ধাদের প্রবল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল মসজিদ চত্বর। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর নির্বিচার বোমা বর্ষণে উমাইয়া মসজিদের প্রাচীন গম্বুজ, সুদৃশ্য তোরণ এবং ঐতিহাসিক মিনার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে ২০১৩ সালে মসজিদটি সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

আসাদ শাসনের পতন ও পুনরুদ্ধার

২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটার পর সিরিয়ায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। নতুন প্রশাসন ও আলেপ্পোর অ্যান্ডোমেন্টস (ওয়াকফ) ডিরেক্টরেট অতি দ্রুত ঐতিহ্যবাহী এই উমাইয়া মসজিদের মূল স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে বিস্তৃত পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার কাজ শুরু করে।

গভর্নরের বক্তব্য

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবেগময় বক্তব্য রাখেন আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আল-গারিব। তিনি বলেন, "আজ আমরা মহান আল্লাহর একটি ঘর পুনরায় উদ্বোধন করতে পেরে পরম সম্মানিত বোধ করছি। দীর্ঘ বছরের নির্মম ধ্বংসযজ্ঞের পর আলেপ্পোর এই প্রধান মসজিদটিকে তার মূল মর্যাদায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।"

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ঐতিহাসিক এই স্থানটির সাথে সিরিয়ার ইতিহাস ও মুক্তিকামী মানুষের আন্দোলন গভীরভাবে জড়িত। ২০১১ সালের মার্চ মাসে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের যে আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল, তার অন্যতম সূতিকাগার ছিল এই মসজিদ চত্বর।

প্রাচীন উমাইয়া ঐতিহ্যের প্রতীক

উমাইয়া গ্র্যান্ড মসজিদ বা আলেপ্পোর গ্রেট মসজিদ কেবল একটি উপাসনালয় নয়, এটি বিশ্ব মুসলিম সভ্যতার অন্যতম প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন। অষ্টম শতাব্দীর প্রথমার্ধে উমাইয়া খলিফা সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিকের শাসনামলে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি জ্ঞানচর্চা, ইসলামী শিক্ষা এবং ইবাদতের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। দীর্ঘ ১৩ বছরের বিচ্ছেদ শেষে মসজিদটির পুনরুদ্ধার সমগ্র উম্মাহর জন্য এক ঐতিহাসিক ও আনন্দঘন মুহূর্ত হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

বিষয় : সিরিয়া উমাইয়া গ্র্যান্ড মসজিদ

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


১৩ বছর পর পুনরায় চালু হলো সিরিয়ার ঐতিহাসিক উমাইয়া গ্র্যান্ড মসজিদ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ ১৩ বছর বন্ধ থাকার পর সিরিয়ার ঐতিহাসিক আলেপ্পো শহরের ঐতিহ্যবাহী উমাইয়া গ্র্যান্ড মসজিদ আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় চালু করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এক জাকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সিরিয়ার বিখ্যাত এই উপাসনালয়টি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। গত ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর আলেপ্পোর ওয়াকফ নির্দেশনালয় দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই ঐতিহাসিক স্থাপনার সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় প্রধান শহর আলেপ্পোর বুক জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন উমাইয়া গ্র্যান্ড মসজিদ দীর্ঘ দিন পর আবারও মুসুল্লিদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্থানীয় গভর্নর আজ্জাম আল-গারিবের উপস্থিতিতে মসজিদটির পুনরায় উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-ইখবারিয়ায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

সংঘাতের ইতিহাস ও ধ্বংসযজ্ঞ

২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে আলেপ্পো ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় আসাদ বাহিনীর সাথে বিপ্লবী ও বিরোধী দলীয় যোদ্ধাদের প্রবল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল মসজিদ চত্বর। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর নির্বিচার বোমা বর্ষণে উমাইয়া মসজিদের প্রাচীন গম্বুজ, সুদৃশ্য তোরণ এবং ঐতিহাসিক মিনার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে ২০১৩ সালে মসজিদটি সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

আসাদ শাসনের পতন ও পুনরুদ্ধার

২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটার পর সিরিয়ায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। নতুন প্রশাসন ও আলেপ্পোর অ্যান্ডোমেন্টস (ওয়াকফ) ডিরেক্টরেট অতি দ্রুত ঐতিহ্যবাহী এই উমাইয়া মসজিদের মূল স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে বিস্তৃত পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার কাজ শুরু করে।

গভর্নরের বক্তব্য

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবেগময় বক্তব্য রাখেন আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আল-গারিব। তিনি বলেন, "আজ আমরা মহান আল্লাহর একটি ঘর পুনরায় উদ্বোধন করতে পেরে পরম সম্মানিত বোধ করছি। দীর্ঘ বছরের নির্মম ধ্বংসযজ্ঞের পর আলেপ্পোর এই প্রধান মসজিদটিকে তার মূল মর্যাদায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।"

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ঐতিহাসিক এই স্থানটির সাথে সিরিয়ার ইতিহাস ও মুক্তিকামী মানুষের আন্দোলন গভীরভাবে জড়িত। ২০১১ সালের মার্চ মাসে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের যে আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল, তার অন্যতম সূতিকাগার ছিল এই মসজিদ চত্বর।

প্রাচীন উমাইয়া ঐতিহ্যের প্রতীক

উমাইয়া গ্র্যান্ড মসজিদ বা আলেপ্পোর গ্রেট মসজিদ কেবল একটি উপাসনালয় নয়, এটি বিশ্ব মুসলিম সভ্যতার অন্যতম প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন। অষ্টম শতাব্দীর প্রথমার্ধে উমাইয়া খলিফা সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিকের শাসনামলে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি জ্ঞানচর্চা, ইসলামী শিক্ষা এবং ইবাদতের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। দীর্ঘ ১৩ বছরের বিচ্ছেদ শেষে মসজিদটির পুনরুদ্ধার সমগ্র উম্মাহর জন্য এক ঐতিহাসিক ও আনন্দঘন মুহূর্ত হিসেবে গণ্য হচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ