শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

রাজশাহীর জামিয়া আবু বকর (র.) আল-আরাবিয়ার শিক্ষা সচিব মুফতি মাহবুবুর রহমানের আকস্মিক ইন্তেকালে দ্বীনি অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

একজন উদীয়মান তরুণ আলেমের প্রস্থান ও অপূর্ণ সম্ভাবনার বেদনা


শাহীন মাহমুদ
শাহীন মাহমুদ রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

একজন উদীয়মান তরুণ আলেমের প্রস্থান ও অপূর্ণ সম্ভাবনার বেদনা

মানুষের জীবন কতটা অনিশ্চিত, তা আমরা জানি; কিন্তু সেই অনিশ্চয়তা যখন হঠাৎ পরিচিত কোনো মুখকে চিরদিনের জন্য আড়াল করে দেয়, তখন উপলব্ধি হয়—জীবন সম্পর্কে আমাদের ধারণা কত সীমিত! কিছু বিদায় আছে, যা সহজে মেনে নেওয়া যায় না। কিছু প্রস্থান আছে, যা কেবল একজন মানুষের চলে যাওয়া নয়; বরং অসংখ্য সম্ভাবনা, প্রত্যাশা ও স্বপ্নের আকস্মিক থেমে যাওয়ার নাম। তরুণ আলেম মুফতি মাহবুবুর রহমানের ইন্তেকাল তেমনই এক বেদনাবিধুর ঘটনা।

রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ  জামিয়া আবু বকর (র.) আল-আরাবিয়ার শিক্ষা সচিব বা নাজেমে তালিমাত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। দেশের বাড়ি বগুড়ায় হলেও কর্মসূত্রে তাঁর অবস্থান ছিল রাজশাহীতে। একটি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা সচিবের দায়িত্ব নিছক কোনো প্রশাসনিক পদ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শিক্ষাব্যবস্থার শৃঙ্খলা, পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষকদের সমন্বয় এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এমন  একটি মহান  দায়িত্বে নিয়োজিত সদা হাস্যোজ্বল একজন নওজোয়ান আলেমের আকস্মিক প্রস্থান স্বাভাবিকভাবেই তাঁর পরিবার, সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট দ্বীনি অঙ্গনে শোকের ছায়া ফেলেছে।

সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, জানা যায়, তাঁর তেমন কোনো অসুস্থতা ছিল না। হঠাৎ করেই মৃত্যুর সংবাদ এসে যেন থমকে দিয়েছে পরিচিতজনদেরকে। যে মানুষটি হয়তো প্রতিদিনের মতো দায়িত্ব পালন করছিলেন, যাঁর সামনে ছিল আরও অনেক কাজ, পরিকল্পনা ও সম্ভাবনা—তিনি আজ আর আমাদের মাঝে নেই।

মৃত্যু যে বয়স মানে না, পদ-পদবি দেখে আসে না, কিংবা মানুষের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অপেক্ষা করে না, মুফতি মাহবুবুর রহমানের এই প্রস্থান যেন সেই চিরন্তন সত্যকে আবারও আমাদের  সামনে তুলে ধরেছে।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন—

كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ

“প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে”

সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫।

এই আয়াত আমাদের কেবল মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় না; জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের মূল্য উপলব্ধি করতেও শেখায়। আমরা কত পরিকল্পনা করি, কত দায়িত্ব গ্রহণ করি, কত স্বপ্নকে আগামী দিনের জন্য জমা রাখি! অথচ আগামীকাল আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে কি না, তা আমাদের কারোর-ই জানা নেই । 

একজন আলেমের জীবনকে কেবল ব্যক্তিগত জীবনের গণ্ডিতে বিচার করা যায় না। বিশেষত যাঁরা দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন, তাঁদের কর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকে একটি প্রজন্মের শিক্ষা ও আদর্শ জাতি গঠনের  বিষয়টি। একজন শিক্ষা সচিবকে প্রতিদিন নানা দায়িত্বের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা, প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা করা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পথ সুগম করার মতো কাজের সঙ্গে তাঁদের দায়িত্ব জড়িত।

এ কারণেই একজন তরুণ শিক্ষা সচিবের বিদায় আমাদের মনে অপূর্ণতার বোধ জাগায়। মনে হয়, তাঁর সামনে আরও অনেক পথ বাকি ছিল। আরও অনেক শিক্ষার্থী তাঁর তত্ত্বাবধানে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারত। দ্বীনি শিক্ষার অঙ্গনে তাঁর কর্মপরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারত। কিন্তু মানুষের পরিকল্পনা আর মহান আল্লাহর ফয়সালা যে এক নয়, মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ালে সেই সত্য নতুন করে অনুভূত হয়।

তবে শোকের এই মুহূর্তে আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, কোনো মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন কেবল তাঁর জীবনের দৈর্ঘ্য দিয়ে হয় না। বরং তাঁর জ্ঞান, আমল, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের কল্যাণে তাঁর ভূমিকা দিয়েও হয়। মুফতি মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যাঁরা কাজ করেছেন, যাঁরা তাঁকে কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁর কর্মজীবনের যাঁরা সাক্ষী—তাঁদের স্মৃতিতে তাঁর ব্যক্তিত্ব ও কর্মের নানা দিক নিশ্চয়ই বেঁচে থাকবে।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ، إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ

অর্থ: “মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি বিষয় ছাড়া—সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যা থেকে উপকৃত হওয়া যায় এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।”

সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৬৩১

এই হাদিস আমাদের সামনে উপকারী জ্ঞানের এক অনন্য মর্যাদা তুলে ধরে। দ্বীনি শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক মানুষের জন্য এটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। একজন আলেমের শিক্ষা, তাঁর মাধ্যমে অর্জিত উপকারী জ্ঞান এবং তাঁর সৎকর্মের প্রভাব অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার অফুরন্ত সুযোগ থাকে। 

আজ মুফতি মাহবুবুর রহমান আর আমাদের মাঝে নেই। তাঁর পরিবার হারালো আপনজনকে, সহকর্মীরা হারালো দায়িত্বের সঙ্গীকে, আর তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দ্বীনি শিক্ষাঙ্গন হারিয়েছে একজন দায়িত্বশীল তরুণ আলেমকে। তাঁর অনুপস্থিতি যে শূন্যতা তৈরি করেছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

তবু একজন মুমিনের হৃদয়ে আশার জায়গা থাকে—মহান আল্লাহর রহমত। দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আল্লাহর ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রত্যাশা চিরন্তন। তাই এই শোকের মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রার্থনা, মহান আল্লাহ যেন তাঁর জীবনের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেন, তাঁর নেক আমলগুলো কবুল করেন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন।

যে প্রদীপটি আরও অনেক দিন জ্বলার কথা ছিল, সেটি আজ আমাদের দৃষ্টির আড়ালে। কিন্তু তাঁর বিদায় আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবনকে অর্থবহ করে তোলার জন্য আগামী দিনের অপেক্ষা নয়, আজকের সময়টুকুই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মুফতি মাহবুবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং তাঁর মাগফিরাতের জন্য আন্তরিক দোয়া। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। আমিন।

বিষয় : রাজশাহী

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


একজন উদীয়মান তরুণ আলেমের প্রস্থান ও অপূর্ণ সম্ভাবনার বেদনা

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মানুষের জীবন কতটা অনিশ্চিত, তা আমরা জানি; কিন্তু সেই অনিশ্চয়তা যখন হঠাৎ পরিচিত কোনো মুখকে চিরদিনের জন্য আড়াল করে দেয়, তখন উপলব্ধি হয়—জীবন সম্পর্কে আমাদের ধারণা কত সীমিত! কিছু বিদায় আছে, যা সহজে মেনে নেওয়া যায় না। কিছু প্রস্থান আছে, যা কেবল একজন মানুষের চলে যাওয়া নয়; বরং অসংখ্য সম্ভাবনা, প্রত্যাশা ও স্বপ্নের আকস্মিক থেমে যাওয়ার নাম। তরুণ আলেম মুফতি মাহবুবুর রহমানের ইন্তেকাল তেমনই এক বেদনাবিধুর ঘটনা।

রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ  জামিয়া আবু বকর (র.) আল-আরাবিয়ার শিক্ষা সচিব বা নাজেমে তালিমাত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। দেশের বাড়ি বগুড়ায় হলেও কর্মসূত্রে তাঁর অবস্থান ছিল রাজশাহীতে। একটি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা সচিবের দায়িত্ব নিছক কোনো প্রশাসনিক পদ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শিক্ষাব্যবস্থার শৃঙ্খলা, পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষকদের সমন্বয় এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এমন  একটি মহান  দায়িত্বে নিয়োজিত সদা হাস্যোজ্বল একজন নওজোয়ান আলেমের আকস্মিক প্রস্থান স্বাভাবিকভাবেই তাঁর পরিবার, সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট দ্বীনি অঙ্গনে শোকের ছায়া ফেলেছে।

সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, জানা যায়, তাঁর তেমন কোনো অসুস্থতা ছিল না। হঠাৎ করেই মৃত্যুর সংবাদ এসে যেন থমকে দিয়েছে পরিচিতজনদেরকে। যে মানুষটি হয়তো প্রতিদিনের মতো দায়িত্ব পালন করছিলেন, যাঁর সামনে ছিল আরও অনেক কাজ, পরিকল্পনা ও সম্ভাবনা—তিনি আজ আর আমাদের মাঝে নেই।

মৃত্যু যে বয়স মানে না, পদ-পদবি দেখে আসে না, কিংবা মানুষের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অপেক্ষা করে না, মুফতি মাহবুবুর রহমানের এই প্রস্থান যেন সেই চিরন্তন সত্যকে আবারও আমাদের  সামনে তুলে ধরেছে।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন—

كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ

“প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে”

সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫।

এই আয়াত আমাদের কেবল মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় না; জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের মূল্য উপলব্ধি করতেও শেখায়। আমরা কত পরিকল্পনা করি, কত দায়িত্ব গ্রহণ করি, কত স্বপ্নকে আগামী দিনের জন্য জমা রাখি! অথচ আগামীকাল আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে কি না, তা আমাদের কারোর-ই জানা নেই । 

একজন আলেমের জীবনকে কেবল ব্যক্তিগত জীবনের গণ্ডিতে বিচার করা যায় না। বিশেষত যাঁরা দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন, তাঁদের কর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকে একটি প্রজন্মের শিক্ষা ও আদর্শ জাতি গঠনের  বিষয়টি। একজন শিক্ষা সচিবকে প্রতিদিন নানা দায়িত্বের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা, প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা করা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পথ সুগম করার মতো কাজের সঙ্গে তাঁদের দায়িত্ব জড়িত।

এ কারণেই একজন তরুণ শিক্ষা সচিবের বিদায় আমাদের মনে অপূর্ণতার বোধ জাগায়। মনে হয়, তাঁর সামনে আরও অনেক পথ বাকি ছিল। আরও অনেক শিক্ষার্থী তাঁর তত্ত্বাবধানে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারত। দ্বীনি শিক্ষার অঙ্গনে তাঁর কর্মপরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারত। কিন্তু মানুষের পরিকল্পনা আর মহান আল্লাহর ফয়সালা যে এক নয়, মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ালে সেই সত্য নতুন করে অনুভূত হয়।

তবে শোকের এই মুহূর্তে আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, কোনো মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন কেবল তাঁর জীবনের দৈর্ঘ্য দিয়ে হয় না। বরং তাঁর জ্ঞান, আমল, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের কল্যাণে তাঁর ভূমিকা দিয়েও হয়। মুফতি মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যাঁরা কাজ করেছেন, যাঁরা তাঁকে কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁর কর্মজীবনের যাঁরা সাক্ষী—তাঁদের স্মৃতিতে তাঁর ব্যক্তিত্ব ও কর্মের নানা দিক নিশ্চয়ই বেঁচে থাকবে।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ، إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ

অর্থ: “মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি বিষয় ছাড়া—সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যা থেকে উপকৃত হওয়া যায় এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।”

সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৬৩১

এই হাদিস আমাদের সামনে উপকারী জ্ঞানের এক অনন্য মর্যাদা তুলে ধরে। দ্বীনি শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক মানুষের জন্য এটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। একজন আলেমের শিক্ষা, তাঁর মাধ্যমে অর্জিত উপকারী জ্ঞান এবং তাঁর সৎকর্মের প্রভাব অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার অফুরন্ত সুযোগ থাকে। 

আজ মুফতি মাহবুবুর রহমান আর আমাদের মাঝে নেই। তাঁর পরিবার হারালো আপনজনকে, সহকর্মীরা হারালো দায়িত্বের সঙ্গীকে, আর তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দ্বীনি শিক্ষাঙ্গন হারিয়েছে একজন দায়িত্বশীল তরুণ আলেমকে। তাঁর অনুপস্থিতি যে শূন্যতা তৈরি করেছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

তবু একজন মুমিনের হৃদয়ে আশার জায়গা থাকে—মহান আল্লাহর রহমত। দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আল্লাহর ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রত্যাশা চিরন্তন। তাই এই শোকের মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রার্থনা, মহান আল্লাহ যেন তাঁর জীবনের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেন, তাঁর নেক আমলগুলো কবুল করেন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন।

যে প্রদীপটি আরও অনেক দিন জ্বলার কথা ছিল, সেটি আজ আমাদের দৃষ্টির আড়ালে। কিন্তু তাঁর বিদায় আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবনকে অর্থবহ করে তোলার জন্য আগামী দিনের অপেক্ষা নয়, আজকের সময়টুকুই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মুফতি মাহবুবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং তাঁর মাগফিরাতের জন্য আন্তরিক দোয়া। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। আমিন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ