শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

১১৬ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ৪২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছে না আদালত। দীর্ঘ সাত বছর পর মুক্তি পেলেন নাঈম।

৭ বছরের বেশি কারাভোগের পর সন্ত্রাস মামলায় জামিন পেলেন মুসলিম যুবক


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

৭ বছরের বেশি কারাভোগের পর সন্ত্রাস মামলায় জামিন পেলেন মুসলিম যুবক

ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় দীর্ঘ সাত বছরেরও বেশি সময় কারাভোগের পর নাঈম ওরফে মোহাম্মদ নাঈমকে জামিন প্রদান করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিচারপতি নবীন চাওলা এবং বিচারপতি রবীন্দ্র দুদেজার সমন্বয়ে গঠিত দিল্লি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এই জামিন আদেশ দেন। অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটস (APCR)-এর পক্ষে আইনি লড়াইয়ের পর নাঈম মুক্তি লাভ করেন।

ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটের কিথোর এলাকার রাধনা গ্রাম থেকে প্রায় সাত বছর আগে নাঈমকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেসময় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল যে এই মামলার পেছনে একটি বড় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক জড়িত রয়েছে। তবে দীর্ঘ এই কারাভোগের পর সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্ট বিচার প্রক্রিয়ার চরম মন্থর গতি নিয়ে কঠোর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে।

ধীরগতির বিচার নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ

জামিন মঞ্জুর করার সময় দিল্লি হাইকোর্ট উল্লেখ করে যে, এই মামলার মোট ১১২ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণ করে জানায় যে, বর্তমান গতিতে বিচার কাজ চললে মামলাটি “শীঘ্রই শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই”। তবে আদালত পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, এই জামিন আদেশের অর্থ এই নয় যে মামলার গুণগত মানে আসামিকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছে।

নাঈমের গ্রেফতারের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। এসপিসিআর (APCR)-এর তথ্য অনুযায়ী, সেসময় নলকূপের পাইপকে রকেট লঞ্চার হিসেবে এবং অন্যান্য সাধারণ সামগ্রীকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

নাঈমের দীর্ঘ কারাভোগের পুরো সময়জুড়ে তার আইনি সহায়তায় পাশে ছিল মানবাধিকার সংগঠন এপিচিআর (APCR)। সংগঠনটির পক্ষে এই মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী রজত কুমার ও প্রিয়া ভৎস। নাঈমের মুক্তির পর এপিচিআর জানায়, “নাঈম এখন মুক্ত। তাকে চার দিন আগে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং আজ সে আমাদের সাথে দেখা করতে এসেছে।” এই মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে 'নাঈম ওরফে মোহাম্মদ নাঈম বনাম ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি' নামে তালিকাভুক্ত রয়েছে।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


৭ বছরের বেশি কারাভোগের পর সন্ত্রাস মামলায় জামিন পেলেন মুসলিম যুবক

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় দীর্ঘ সাত বছরেরও বেশি সময় কারাভোগের পর নাঈম ওরফে মোহাম্মদ নাঈমকে জামিন প্রদান করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিচারপতি নবীন চাওলা এবং বিচারপতি রবীন্দ্র দুদেজার সমন্বয়ে গঠিত দিল্লি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এই জামিন আদেশ দেন। অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটস (APCR)-এর পক্ষে আইনি লড়াইয়ের পর নাঈম মুক্তি লাভ করেন।

ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটের কিথোর এলাকার রাধনা গ্রাম থেকে প্রায় সাত বছর আগে নাঈমকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেসময় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল যে এই মামলার পেছনে একটি বড় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক জড়িত রয়েছে। তবে দীর্ঘ এই কারাভোগের পর সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্ট বিচার প্রক্রিয়ার চরম মন্থর গতি নিয়ে কঠোর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে।

ধীরগতির বিচার নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ

জামিন মঞ্জুর করার সময় দিল্লি হাইকোর্ট উল্লেখ করে যে, এই মামলার মোট ১১২ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণ করে জানায় যে, বর্তমান গতিতে বিচার কাজ চললে মামলাটি “শীঘ্রই শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই”। তবে আদালত পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, এই জামিন আদেশের অর্থ এই নয় যে মামলার গুণগত মানে আসামিকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছে।

নাঈমের গ্রেফতারের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। এসপিসিআর (APCR)-এর তথ্য অনুযায়ী, সেসময় নলকূপের পাইপকে রকেট লঞ্চার হিসেবে এবং অন্যান্য সাধারণ সামগ্রীকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

নাঈমের দীর্ঘ কারাভোগের পুরো সময়জুড়ে তার আইনি সহায়তায় পাশে ছিল মানবাধিকার সংগঠন এপিচিআর (APCR)। সংগঠনটির পক্ষে এই মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী রজত কুমার ও প্রিয়া ভৎস। নাঈমের মুক্তির পর এপিচিআর জানায়, “নাঈম এখন মুক্ত। তাকে চার দিন আগে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং আজ সে আমাদের সাথে দেখা করতে এসেছে।” এই মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে 'নাঈম ওরফে মোহাম্মদ নাঈম বনাম ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি' নামে তালিকাভুক্ত রয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ