শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর আকিদার প্রতিফলন ঘটাতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে হানাফি মাজহাবের আলেম নিয়োগ এবং বিতর্কিত ট্রান্সজেন্ডার নীতি ও হিজবুত তৌহিদ নিষিদ্ধের আহ্বান।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বদল ও বিতর্কিত আইন বাতিলের দাবি: আল্লামা আব্দুল হামিদ


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বদল ও বিতর্কিত আইন বাতিলের দাবি: আল্লামা আব্দুল হামিদ

রাজধানীর কাকরাইলে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সংস্কার, আকিদাগত বিভ্রান্তি নিরসন এবং বিতর্কিত আইন বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমীর ও সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদের আহ্বায়ক আল্লামা আব্দুল হামিদ (মধুপুর পীর সাহেব)। জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ট্রান্সজেন্ডার বান্ধব শ্রম আইন বাতিল এবং ‘হিজবুত তৌহিদ’কে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে দেশের ৯০ শতাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ হানাফি মাজহাবের অনুসারীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বর্তমান ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে সরিয়ে কোনো যোগ্য হানাফি আলেমকে দায়িত্ব দেয়ার দাবি তুলেন এই শীর্ষ আলেম।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় রাজধানীর কাকরাইলস্থ ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে আয়োজিত এক বিশেষ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে এসব দাবি তুলে ধরেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমীর আল্লামা আব্দুল হামিদ (মধুপুর পীর সাহেব)। সমসাময়িক ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সরকারের প্রতি একাধিক গুরুগুরত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনকালের গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে মধুপুর পীর সাহেব বলেন, স্বল্প সময়ের শাসনামলে দেশের সামাজিক ও ধর্মীয় কাঠামোর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ট্রান্সজেন্ডার বান্ধব শ্রম আইনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি সরকারকে দ্রুত তা বাতিলের তাগিদ দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জৈবিক সত্তা পরিবর্তন করে পুরুষ থেকে নারী কিংবা নারী থেকে পুরুষ হওয়ার এই ধারণা ইসলামসহ হিন্দু, খ্রিষ্টান বা ইহুদি—কোনো আসমানী ও সনাতন ধর্মেই স্বীকৃত নয়।

রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর ভাবধারা এবং দলটির আদর্শগত অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করেন। সাহাবায়ে কেরামকে (রা.) হকের মাপকাঠি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা ও নীতিকে যারা অস্বীকার করে, তারা ইসলামের মূলধারা থেকে বিচ্যুত। একই সাথে নির্বাচনের পূর্বে 'রোজা ও পূজা সমান'—এমন মন্তব্যের চরম প্রতিবাদ জানান তিনি। গায়বান্ধায় মন্দির নির্মাণের বিষয়ে মুসলমানদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় স্বকীয়তা বজায় রাখার ওপর জোর দেন।

দেশের সর্বস্তরের মুসলিমদের আকিদাগত সুরক্ষার ওপর জোর দিয়ে এই প্রবীণ আলেম উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত তথা হানাফি মাজহাবের অনুসারী। কিন্তু বর্তমান ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর আকিদা ও ভূমিকা নিয়ে চরম বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হানাফি মাজহাবের বাইরে বা 'লা-মাজহাবী' আকিদার কাউকে এমন সংবেদনশীল ধর্মীয় দপ্তরের দায়িত্বে বসানোর ফলে সাধারণ মুসলমানদের মাঝে অসন্তোষ ছড়াচ্ছে।

তিনি জোর দাবি জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং জনমনে তৈরি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক এড়াতে নবনিযুক্ত ধর্মপ্রতিমন্ত্রীকে অবিলম্বে পত্রিকার মাধ্যমে নিজের আকিদা ও অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। তিনি যেন প্রকাশ্যে স্পষ্ট ঘোষণা দেন যে, তিনি 'হানাফি মাজহাবের অনুসারী এবং লা-মাজহাবী নন'। অন্যথায়, অচিরেই বর্তমান ধর্মপ্রতিমন্ত্রীকে সরিয়ে হানাফি মাজহাবের অনুসারী কোনো যোগ্য ও সর্বজনগ্রাহ্য আলেমকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ দায়িত্বে নিয়ে আসতে হবে। অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক এড়াতে তিনি প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ আপাতত স্থগিত রেখেছেন বলেও উপস্থিত শ্রোতাদের জানান।

বিষয় : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বিতর্কিত আইন

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বদল ও বিতর্কিত আইন বাতিলের দাবি: আল্লামা আব্দুল হামিদ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাজধানীর কাকরাইলে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সংস্কার, আকিদাগত বিভ্রান্তি নিরসন এবং বিতর্কিত আইন বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমীর ও সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদের আহ্বায়ক আল্লামা আব্দুল হামিদ (মধুপুর পীর সাহেব)। জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ট্রান্সজেন্ডার বান্ধব শ্রম আইন বাতিল এবং ‘হিজবুত তৌহিদ’কে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে দেশের ৯০ শতাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ হানাফি মাজহাবের অনুসারীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বর্তমান ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে সরিয়ে কোনো যোগ্য হানাফি আলেমকে দায়িত্ব দেয়ার দাবি তুলেন এই শীর্ষ আলেম।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় রাজধানীর কাকরাইলস্থ ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে আয়োজিত এক বিশেষ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে এসব দাবি তুলে ধরেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমীর আল্লামা আব্দুল হামিদ (মধুপুর পীর সাহেব)। সমসাময়িক ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সরকারের প্রতি একাধিক গুরুগুরত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনকালের গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে মধুপুর পীর সাহেব বলেন, স্বল্প সময়ের শাসনামলে দেশের সামাজিক ও ধর্মীয় কাঠামোর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ট্রান্সজেন্ডার বান্ধব শ্রম আইনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি সরকারকে দ্রুত তা বাতিলের তাগিদ দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জৈবিক সত্তা পরিবর্তন করে পুরুষ থেকে নারী কিংবা নারী থেকে পুরুষ হওয়ার এই ধারণা ইসলামসহ হিন্দু, খ্রিষ্টান বা ইহুদি—কোনো আসমানী ও সনাতন ধর্মেই স্বীকৃত নয়।

রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর ভাবধারা এবং দলটির আদর্শগত অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করেন। সাহাবায়ে কেরামকে (রা.) হকের মাপকাঠি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা ও নীতিকে যারা অস্বীকার করে, তারা ইসলামের মূলধারা থেকে বিচ্যুত। একই সাথে নির্বাচনের পূর্বে 'রোজা ও পূজা সমান'—এমন মন্তব্যের চরম প্রতিবাদ জানান তিনি। গায়বান্ধায় মন্দির নির্মাণের বিষয়ে মুসলমানদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় স্বকীয়তা বজায় রাখার ওপর জোর দেন।

দেশের সর্বস্তরের মুসলিমদের আকিদাগত সুরক্ষার ওপর জোর দিয়ে এই প্রবীণ আলেম উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত তথা হানাফি মাজহাবের অনুসারী। কিন্তু বর্তমান ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর আকিদা ও ভূমিকা নিয়ে চরম বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হানাফি মাজহাবের বাইরে বা 'লা-মাজহাবী' আকিদার কাউকে এমন সংবেদনশীল ধর্মীয় দপ্তরের দায়িত্বে বসানোর ফলে সাধারণ মুসলমানদের মাঝে অসন্তোষ ছড়াচ্ছে।

তিনি জোর দাবি জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং জনমনে তৈরি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক এড়াতে নবনিযুক্ত ধর্মপ্রতিমন্ত্রীকে অবিলম্বে পত্রিকার মাধ্যমে নিজের আকিদা ও অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। তিনি যেন প্রকাশ্যে স্পষ্ট ঘোষণা দেন যে, তিনি 'হানাফি মাজহাবের অনুসারী এবং লা-মাজহাবী নন'। অন্যথায়, অচিরেই বর্তমান ধর্মপ্রতিমন্ত্রীকে সরিয়ে হানাফি মাজহাবের অনুসারী কোনো যোগ্য ও সর্বজনগ্রাহ্য আলেমকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ দায়িত্বে নিয়ে আসতে হবে। অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক এড়াতে তিনি প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ আপাতত স্থগিত রেখেছেন বলেও উপস্থিত শ্রোতাদের জানান।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ