ইসরায়েলের অব্যাহত গণহত্যায় গাজা উপত্যকায় এ পর্যন্ত ১,০১৪ জন ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদ শাহাদাত বরণ করেছেন। তেল আল-হাওয়া এলাকায় এক টার্গেটেড হামলায় জাবালিয়া সার্ভিসেস ক্লাবের উদীয়মান ফুটবলার আবদেল ফাত্তাহ আবু আল-আইশ নিহত হওয়ার পর এই সংখ্যা ১,০০০ ছাড়ায়। ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া 'হাজার শহীদ কাপ' টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি চলাকালেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
অবরুদ্ধ গাজায় ধ্বংসের মুখে ফিলিস্তিনের ক্রীড়া ঐতিহ্য
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নজরদারিকে উপেক্ষা করে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি ক্রীড়া গণমাধ্যম ইউনিয়নের মহাসচিব মুস্তফা সিয়াম আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলুকে জানিয়েছেন, নিহত ১,০১৪ জন ক্রীড়াবিদের তালিকায় রয়েছেন প্রথম সারির ফুটবলার, কোচ, রেফারি এবং ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
সর্বশেষ শহীদ হওয়া আবদেল ফাত্তাহ আবু আল-আইশ ফিলিস্তিনের ফার্স্ট ডিভিশন লীগের খাদামাত জাবালিয়া ক্লাবের হয়ে ডিফেন্ডার হিসেবে খেলতেন। এর আগে তিনি আহলি বেইত হানুন ক্লাবেও নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। দক্ষিণ-পশ্চিম গাজা শহরের তেল আল-হাওয়া এলাকায় একটি প্রাইভেট ডেলিভারি কোম্পানির ইলেকট্রিক বাইসাইকেল লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি হামলায় তিনি প্রাণ হারান। গত রবিবার গাজা শহরে বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াবিদ ও ভক্ত-অনুরাগীদের উপস্থিতিতে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।
পদ্ধতিগত ক্রীড়া-সন্ত্রাস ও অবকাঠামো ধ্বংস
মুস্তফা সিয়ামের মতে, এটি কেবল একক কোনো হত্যাকাণ্ড নয়, বরং ফিলিস্তিনি যুবসমাজ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নিঃশেষ করার এক সুপরিকল্পিত ইসরায়েলি কৌশল। মাঠ পর্যায়ে ফিলিস্তিনি ক্রীড়া আন্দোলন এখন এক চরম 'অস্তিত্বের সংকটে' পড়েছে।
পদ্ধতিগত ধ্বংসযজ্ঞ: গাজা উপত্যকার ৫৬টি প্রধান ক্রীড়া ক্লাবের মধ্যে ৫০টিরও বেশি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ফিফা প্রকল্পের ওপর হামলা: আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার অর্থায়নে নির্মিত প্রায় ২০টি ফাইভ-এ-সাইড ফুটবল মাঠ সামরিক বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম তীরে নিপীড়ন: গাজার বাইরে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদ ও কোচদের ওপর নিয়মিত হামলা, হত্যা ও বেআইনি গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে।
সংগ্রাম ও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা
ইসরায়েলি দখলদারদের ভয়াবহ তাণ্ডব ও সম্পদের চরম ঘাটতি সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের ক্রীড়া সংস্থাগুলো সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে বেঁচে যাওয়া মাত্র ৩টি স্টেডিয়ামকে কাজে লাগিয়ে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তবে প্রতিটি পদক্ষেপেই ইসরায়েলি বিমান হামলা ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই মার্কিন-সমর্থিত গণহত্যায় গাজায় ৭৩,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭৪,০০০-এরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের সিংহভাগই নারী ও শিশু। বিশ্বনেতাদের ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইসরায়েল প্রতিদিন গাজায় বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন সময়েও নতুন করে ১,৩২০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
মতামত