মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

‘বোরকা পরা নারী শিশু চুরি করতে পারে’—নিরাপত্তাকর্মীর এমন বর্ণবাদী অযুহাতে তোলপাড়; মুসলিম নারীদের পোশাকের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রাজেনীতিবিদদের।

হাসপাতালে বোরকা ও হিজাব পরায় মুসলিম নারীকে প্রবেশে বাধা


মানবাধিকার ডেস্ক
মানবাধিকার ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

হাসপাতালে বোরকা ও হিজাব পরায় মুসলিম নারীকে প্রবেশে বাধা

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুম্বাইয়ে বৃহন্নমুম্বাই মিউনিসিপাল কর্পোরেশন (বিএমসি) পরিচালিত কুপার হাসপাতালে বোরকা ও হিজাব পরা থাকায় দুই মুসলিম নারীকে প্রবেশ করতে না দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শিশুসন্তান কোলে এক আত্মীয়কে দেখতে আসা ওই নারীদের প্রবেশদ্বারে আটকে বোরকা খোলার শর্ত দেয় নারী নিরাপত্তাকর্মী। এই বর্ণবাদী আচরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই ভারতজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতে মুসলিম ধর্মীয় পোশাক ও পরিচয়ের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষ ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের আরও একটি উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। মুম্বাইয়ের বিএমসি পরিচালিত ঐতিহ্যবাহী কুপার হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের কাছে বোরকা ও হিজাব পরা দুই মুসলিম নারীকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীদের একজন কোলে শিশুসন্তান নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক স্বজনকে দেখতে এসেছিলেন। কিন্তু প্রবেশদ্বারে দায়িত্বে থাকা নারী নিরাপত্তাকর্মী সাফ জানিয়ে দেন, বোরকা খুলে না ফেললে তাদের হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত তাদের এক পুরুষ আত্মীয় পুরো ঘটনাটি মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করেন। ভিডিওতে পেশায় আইনজীবী ভুক্তভোগী জোহরা শেখকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলতে শোনা যায়, "প্রবেশদ্বারে নারী কর্মকর্তা আমাকে আটকে দিয়ে বলেন বোরকার ভেতরে করে বাচ্চা চুরি হতে পারে। আমি জিজ্ঞেস করি, বাচ্চা চুরি কি শুধু বোরকা পরা মানুষই করে? যদি আমাদের বোরকা নিয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে কোনো নারী কর্মকর্তা গোপনীয়তা রক্ষা করে আমাদের তল্লাশি করতে পারতেন। কিন্তু প্রকাশ্যে এভাবে পোশাক খুলে ফেলতে বলা এবং আমাদের চোরের মতো গণ্য করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"

এ ঘটনার পর সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির (এসপি) বিধায়ক রইস শেখ ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক অভিহিত করে এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, "আমি ডেপুটি মিউনিসিপাল কমিশনারের (জনস্বাস্থ্য) সঙ্গে কথা বলেছি এবং এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। ধর্মীয় পরিচয় বা পোশাকের কারণে কোনো নারীকে বৈষম্যের শিকার হতে দেওয়া যায় না।"

অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর জাতীয় মুখপাত্র ওয়ারিস পাঠান ভুক্তভোগী জোহরা শেখকে পাশে নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "এ ধরনের আচরণ দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। যারা প্রতিদিন মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ায়, তারাই নারীদের বোরকা ও হিজাবকে নিশানা বানাচ্ছে। মুসলিম নারীরা বোরকা ও হিজাব পরেন এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও পরবেন। তাদের কেউ থামাতে পারবে না। যে নিরাপত্তাকর্মী রোগীকে দেখতে আসা নারীকে বোরকা পরার কারণে আটকেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।"

হাসপাতাল পরিচালনা কর্তৃপক্ষ (বিএমসি) এখন পর্যন্ত এই ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। মানবাধিকার ও মুসলিম অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলোর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সরকারি হাসপাতালে মুসলিম নারীদের পর্দা করার অধিকার সংকুচিত করার যে ধারাবাহিক চক্রান্ত চলছে, এটি তারই অংশ।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হাসপাতালে বোরকা ও হিজাব পরায় মুসলিম নারীকে প্রবেশে বাধা

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুম্বাইয়ে বৃহন্নমুম্বাই মিউনিসিপাল কর্পোরেশন (বিএমসি) পরিচালিত কুপার হাসপাতালে বোরকা ও হিজাব পরা থাকায় দুই মুসলিম নারীকে প্রবেশ করতে না দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শিশুসন্তান কোলে এক আত্মীয়কে দেখতে আসা ওই নারীদের প্রবেশদ্বারে আটকে বোরকা খোলার শর্ত দেয় নারী নিরাপত্তাকর্মী। এই বর্ণবাদী আচরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই ভারতজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতে মুসলিম ধর্মীয় পোশাক ও পরিচয়ের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষ ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের আরও একটি উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। মুম্বাইয়ের বিএমসি পরিচালিত ঐতিহ্যবাহী কুপার হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের কাছে বোরকা ও হিজাব পরা দুই মুসলিম নারীকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীদের একজন কোলে শিশুসন্তান নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক স্বজনকে দেখতে এসেছিলেন। কিন্তু প্রবেশদ্বারে দায়িত্বে থাকা নারী নিরাপত্তাকর্মী সাফ জানিয়ে দেন, বোরকা খুলে না ফেললে তাদের হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত তাদের এক পুরুষ আত্মীয় পুরো ঘটনাটি মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করেন। ভিডিওতে পেশায় আইনজীবী ভুক্তভোগী জোহরা শেখকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলতে শোনা যায়, "প্রবেশদ্বারে নারী কর্মকর্তা আমাকে আটকে দিয়ে বলেন বোরকার ভেতরে করে বাচ্চা চুরি হতে পারে। আমি জিজ্ঞেস করি, বাচ্চা চুরি কি শুধু বোরকা পরা মানুষই করে? যদি আমাদের বোরকা নিয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে কোনো নারী কর্মকর্তা গোপনীয়তা রক্ষা করে আমাদের তল্লাশি করতে পারতেন। কিন্তু প্রকাশ্যে এভাবে পোশাক খুলে ফেলতে বলা এবং আমাদের চোরের মতো গণ্য করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"

এ ঘটনার পর সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির (এসপি) বিধায়ক রইস শেখ ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক অভিহিত করে এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, "আমি ডেপুটি মিউনিসিপাল কমিশনারের (জনস্বাস্থ্য) সঙ্গে কথা বলেছি এবং এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। ধর্মীয় পরিচয় বা পোশাকের কারণে কোনো নারীকে বৈষম্যের শিকার হতে দেওয়া যায় না।"

অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর জাতীয় মুখপাত্র ওয়ারিস পাঠান ভুক্তভোগী জোহরা শেখকে পাশে নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "এ ধরনের আচরণ দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। যারা প্রতিদিন মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ায়, তারাই নারীদের বোরকা ও হিজাবকে নিশানা বানাচ্ছে। মুসলিম নারীরা বোরকা ও হিজাব পরেন এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও পরবেন। তাদের কেউ থামাতে পারবে না। যে নিরাপত্তাকর্মী রোগীকে দেখতে আসা নারীকে বোরকা পরার কারণে আটকেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।"

হাসপাতাল পরিচালনা কর্তৃপক্ষ (বিএমসি) এখন পর্যন্ত এই ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। মানবাধিকার ও মুসলিম অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলোর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সরকারি হাসপাতালে মুসলিম নারীদের পর্দা করার অধিকার সংকুচিত করার যে ধারাবাহিক চক্রান্ত চলছে, এটি তারই অংশ।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
হাসপাতালে বোরকা ও হিজাব পরায় মুসলিম নারীকে প্রবেশে বাধা
0:00 0:00
1.0x