বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা: ইরাক, জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার দাবি তেহরানের

ইরানে মার্কিন হামলা, পাল্টা জবাবে ৪ দেশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানে মার্কিন হামলা, পাল্টা জবাবে ৪ দেশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সামরিক উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, নৌ স্থাপনা, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা ও যোগাযোগকেন্দ্রসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর জবাবে ইরান ইরাক, জর্ডান ও কুয়েতসহ কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। একই সময়ে কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানি হামলা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বুধবার ঘোষণা করেছে, তারা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রাখবে। অন্যদিকে তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্র, রাডার ব্যবস্থা, নৌ সম্পদ ও স্থাপনা, মাইন পাতার সক্ষমতা এবং যোগাযোগকেন্দ্র ছিল।

সেন্টকমের বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কথিত আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে এসব হামলা চালানো হয়।

ইরানের পাল্টা হামলার দাবি

ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানি বিপ্লবী গার্ড আরও দাবি করেছে, জর্ডানের আকাবা উপসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত ‘ক্যাম্প টাইটান’ নামের একটি ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ওই হামলায় মার্কিন বাহিনীর সদস্য হতাহত হয়েছে এবং ঘাঁটির বিভিন্ন স্থাপনা ও আক্রমণকারী হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ‘নাম্বার ৭’ বিবৃতিতে কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবিও করা হয়েছে। এতে ঘাঁটিতে মোতায়েন কয়েকটি মার্কিন ড্রোন ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।

ইরানি বিপ্লবী গার্ডের বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, এসব হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এসব হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, জর্ডান, বাহরাইন এবং ইরাকের এরবিলে থাকা মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি কুয়েতের আলি আল-সালেম ঘাঁটিও তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল।

জর্ডানে ১৩ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের দাবি

জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ভূখণ্ড থেকে ছোড়া ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এর মধ্যে ১০টি প্রতিহত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাকি তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতি থেকে দূরে দুর্গম এলাকায় পড়ে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে জর্ডান।

ইরানে নিহত ৭, আহত ৮

ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা ও পুলিশ বিষয়ক ডেপুটি গভর্নর ভালিওল্লাহ হায়াতির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাতজন নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন।

তবে হতাহতদের পরিচয়, হামলার নির্দিষ্ট স্থান ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

কুয়েতে ড্রোন হামলা ও অগ্নিকাণ্ড

মার্কিন-ইরান উত্তেজনার প্রভাব উপসাগরীয় দেশ কুয়েতেও ছড়িয়ে পড়েছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে।

কুয়েত ফায়ার ফোর্সের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আল-ঘারিব জানান, রাজধানীর একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে একটি ড্রোন হামলার পর আগুন ধরে যায়। অগ্নিনির্বাপক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

কুয়েতি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ‘ইরানি আগ্রাসনের’ অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে তারা জানিয়েছে, এই ঘটনায় কোনো মানুষ আহত হয়নি।

বাহরাইনেও ইরানি হামলা প্রতিহতের দাবি

বাহরাইন ডিফেন্স ফোর্সেস জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বুধবার বেশ কয়েকটি ইরানি বিমান হামলা প্রতিহত করেছে।

তবে হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে দেশটির পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। বাহরাইন এক বিবৃতিতে ইরানকে দেশটির বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিত বৈরী কর্মকাণ্ড’ অব্যাহত রাখার অভিযোগ করেছে।

ট্রাম্পের আরও বড় হামলার হুমকি

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন হামলাকে ‘ব্যাপক ও শক্তিশালী’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীতে তেহরানের পুনরায় নৌ-মাইন স্থাপনের প্রচেষ্টা এবং জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের জবাব হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব দেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আরও ‘বড় ও তীব্র’ হামলা চালানো হবে। তার ভাষায়, সবচেয়ে বড় হামলাটি এখনো চালানো হয়নি।

সংঘাতের পেছনে হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনা

হরমুজ প্রণালীর কাছে লারাক দ্বীপে রবিবারের মার্কিন হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। এর পর সোমবার ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে।

প্রতিবেদনে উল্লেখিত ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত কয়েক সপ্তাহ তুলনামূলকভাবে কম উত্তেজনাপূর্ণ থাকার পর আবার তীব্র হয়েছে। এর জবাবে তেহরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ এবং তাদের ভাষায় ‘আমেরিকান ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তু’তে হামলা চালিয়েছে।

জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরান শত্রুতা বন্ধ, হরমুজ প্রণালী নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং একটি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে পৌঁছেছিল। তবে এর শর্তাবলি এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে সেই সমঝোতার বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়।

হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ওই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন জাহাজ ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলার প্রেক্ষাপটে আগস্টের শেষদিকে সংঘাত আবারও তীব্র আকার ধারণ করে। এর ধারাবাহিকতায় ১ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ইরানের অভ্যন্তরে নতুন করে হামলা চালানোর ঘোষণা দেয়।

সর্বশেষ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশকে সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। ইরাক, জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কারণে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিষয় : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান ড্রোন হামলা ক্ষেপণাস্ত্র

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইরানে মার্কিন হামলা, পাল্টা জবাবে ৪ দেশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সামরিক উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, নৌ স্থাপনা, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা ও যোগাযোগকেন্দ্রসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর জবাবে ইরান ইরাক, জর্ডান ও কুয়েতসহ কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। একই সময়ে কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানি হামলা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বুধবার ঘোষণা করেছে, তারা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রাখবে। অন্যদিকে তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্র, রাডার ব্যবস্থা, নৌ সম্পদ ও স্থাপনা, মাইন পাতার সক্ষমতা এবং যোগাযোগকেন্দ্র ছিল।

সেন্টকমের বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কথিত আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে এসব হামলা চালানো হয়।

ইরানের পাল্টা হামলার দাবি

ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানি বিপ্লবী গার্ড আরও দাবি করেছে, জর্ডানের আকাবা উপসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত ‘ক্যাম্প টাইটান’ নামের একটি ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ওই হামলায় মার্কিন বাহিনীর সদস্য হতাহত হয়েছে এবং ঘাঁটির বিভিন্ন স্থাপনা ও আক্রমণকারী হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ‘নাম্বার ৭’ বিবৃতিতে কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবিও করা হয়েছে। এতে ঘাঁটিতে মোতায়েন কয়েকটি মার্কিন ড্রোন ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।

ইরানি বিপ্লবী গার্ডের বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, এসব হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এসব হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, জর্ডান, বাহরাইন এবং ইরাকের এরবিলে থাকা মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি কুয়েতের আলি আল-সালেম ঘাঁটিও তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল।

জর্ডানে ১৩ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের দাবি

জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ভূখণ্ড থেকে ছোড়া ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এর মধ্যে ১০টি প্রতিহত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাকি তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতি থেকে দূরে দুর্গম এলাকায় পড়ে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে জর্ডান।

ইরানে নিহত ৭, আহত ৮

ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা ও পুলিশ বিষয়ক ডেপুটি গভর্নর ভালিওল্লাহ হায়াতির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাতজন নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন।

তবে হতাহতদের পরিচয়, হামলার নির্দিষ্ট স্থান ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

কুয়েতে ড্রোন হামলা ও অগ্নিকাণ্ড

মার্কিন-ইরান উত্তেজনার প্রভাব উপসাগরীয় দেশ কুয়েতেও ছড়িয়ে পড়েছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে।

কুয়েত ফায়ার ফোর্সের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আল-ঘারিব জানান, রাজধানীর একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে একটি ড্রোন হামলার পর আগুন ধরে যায়। অগ্নিনির্বাপক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

কুয়েতি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ‘ইরানি আগ্রাসনের’ অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে তারা জানিয়েছে, এই ঘটনায় কোনো মানুষ আহত হয়নি।

বাহরাইনেও ইরানি হামলা প্রতিহতের দাবি

বাহরাইন ডিফেন্স ফোর্সেস জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বুধবার বেশ কয়েকটি ইরানি বিমান হামলা প্রতিহত করেছে।

তবে হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে দেশটির পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। বাহরাইন এক বিবৃতিতে ইরানকে দেশটির বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিত বৈরী কর্মকাণ্ড’ অব্যাহত রাখার অভিযোগ করেছে।

ট্রাম্পের আরও বড় হামলার হুমকি

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন হামলাকে ‘ব্যাপক ও শক্তিশালী’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীতে তেহরানের পুনরায় নৌ-মাইন স্থাপনের প্রচেষ্টা এবং জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের জবাব হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব দেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আরও ‘বড় ও তীব্র’ হামলা চালানো হবে। তার ভাষায়, সবচেয়ে বড় হামলাটি এখনো চালানো হয়নি।

সংঘাতের পেছনে হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনা

হরমুজ প্রণালীর কাছে লারাক দ্বীপে রবিবারের মার্কিন হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। এর পর সোমবার ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে।

প্রতিবেদনে উল্লেখিত ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত কয়েক সপ্তাহ তুলনামূলকভাবে কম উত্তেজনাপূর্ণ থাকার পর আবার তীব্র হয়েছে। এর জবাবে তেহরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ এবং তাদের ভাষায় ‘আমেরিকান ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তু’তে হামলা চালিয়েছে।

জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরান শত্রুতা বন্ধ, হরমুজ প্রণালী নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং একটি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে পৌঁছেছিল। তবে এর শর্তাবলি এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে সেই সমঝোতার বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়।

হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ওই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন জাহাজ ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলার প্রেক্ষাপটে আগস্টের শেষদিকে সংঘাত আবারও তীব্র আকার ধারণ করে। এর ধারাবাহিকতায় ১ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ইরানের অভ্যন্তরে নতুন করে হামলা চালানোর ঘোষণা দেয়।

সর্বশেষ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশকে সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। ইরাক, জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কারণে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ