শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

নতুন শিক্ষাবর্ষের সূচনায় শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মেধা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং শিক্ষকদের অসামান্য মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন মাসজিদে নববীর ইমাম।

উপকারী জ্ঞানই সৎ মানুষ ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি: মসজিদে নববীর খতিব


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উপকারী জ্ঞানই সৎ মানুষ ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি: মসজিদে নববীর খতিব

মদীনা মুনাওয়ারাহর মসজিদে নববীতে অনুষ্ঠিত জুমুআর খুতবায় ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আবদুল বারি বিন আওয়াদ আল-সুবাইতি বলেছেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের মূল ভিত্তি হলো কার্যকর শিক্ষা। নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রাক্কালে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা কেবল তথ্য আদান-প্রদান নয়, বরং চরিত্র গঠন, মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং উম্মাহ ও দেশের সেবায় যোগ্য প্রজন্ম গড়ে তোলার একটি মহান দায়িত্ব।

নতুন শিক্ষাবর্ষ উপলক্ষে মাসজিদে নববীতে সমবেত লাখো মুসল্লির উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদানকালে শায়খ ড. আবদুল বারি আল-সুবাইতি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো উম্মাহর আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। এখান থেকেই সভ্যতার গোড়াপত্তন ঘটে, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ হয় এবং অজ্ঞতার অন্ধকার দূর হয়।

পবিত্র কুরআনের প্রথম অবতীর্ণ শব্দ "ইকরা" (পড়ো)-র কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ইসলামে শিক্ষার স্থান অত্যন্ত উচ্চে। দ্বীনি জ্ঞান ও মানবকল্যাণমূলক যেকোনো জ্ঞান অর্জন করা ইবাদতের শামিল। যে জ্ঞান মানুষের জীবনকে সহজ করে, সমাজের উপকার করে এবং সঠিক ও ভুলের পার্থক্য শেখায়, তা অর্জন করা প্রত্যেকের দায়িত্ব। সৎ নিয়তে অর্জিত যেকোনো দরকারী জ্ঞান আখিরাতের সওয়াব বৃদ্ধি করে।

শিক্ষকদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে খতিব বলেন, শিক্ষকরা হলেন শিক্ষাব্যবস্থার মূল প্রাণ। সিলেবাস শেষ করাই তাঁদের একমাত্র কাজ নয়; শিক্ষার্থীদের আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা বৃদ্ধি এবং সৃষ্টিকর্তার সাথে তাদের সম্পর্ক মজবুত করাই তাঁদের আসল দায়িত্ব। মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস উল্লেখ করে তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি ভালো কাজের পথ দেখায়, সে তা সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব পায়।" শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় আজ শিক্ষার্থীরা চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও বিশ্বস্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে সমাজ ও উম্মাহর সেবা করছে। তিনি শিক্ষকদের ধৈর্য, দয়া, ন্যায়বিচার ও শিষ্টাচারের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শায়খ সুবাইতি বলেন, কেবল তথ্য অর্জন করাই শিক্ষার শেষ কথা নয়; বরং ভালো ব্যবহার ও সৎ চরিত্রের মাধ্যমেই শিক্ষার আসল প্রতিফলন ঘটে। তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষকদের সম্মান করা, সৎ সঙ্গ বেছে নেওয়া এবং সময় নষ্টকারী সঙ্গ ত্যাগ করার পরামর্শ দেন।

বর্তমান যুগের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তবে সঠিক ও ভুল তথ্যের পার্থক্য বুঝতে সচেতনতা প্রয়োজন। কোনো তথ্য নিশ্চিত না হয়ে গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি কুরআনের বাণী উদ্ধৃত করেন: "যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার পেছনে পোড়ো না। নিশ্চয়ই কান, চোখ ও হৃদয়—এদের প্রতিটি সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।"

বিষয় : সৌদি আরব মসজিদে নববী খুতবা মদীনা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


উপকারী জ্ঞানই সৎ মানুষ ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি: মসজিদে নববীর খতিব

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মদীনা মুনাওয়ারাহর মসজিদে নববীতে অনুষ্ঠিত জুমুআর খুতবায় ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আবদুল বারি বিন আওয়াদ আল-সুবাইতি বলেছেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের মূল ভিত্তি হলো কার্যকর শিক্ষা। নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রাক্কালে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা কেবল তথ্য আদান-প্রদান নয়, বরং চরিত্র গঠন, মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং উম্মাহ ও দেশের সেবায় যোগ্য প্রজন্ম গড়ে তোলার একটি মহান দায়িত্ব।

নতুন শিক্ষাবর্ষ উপলক্ষে মাসজিদে নববীতে সমবেত লাখো মুসল্লির উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদানকালে শায়খ ড. আবদুল বারি আল-সুবাইতি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো উম্মাহর আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। এখান থেকেই সভ্যতার গোড়াপত্তন ঘটে, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ হয় এবং অজ্ঞতার অন্ধকার দূর হয়।

পবিত্র কুরআনের প্রথম অবতীর্ণ শব্দ "ইকরা" (পড়ো)-র কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ইসলামে শিক্ষার স্থান অত্যন্ত উচ্চে। দ্বীনি জ্ঞান ও মানবকল্যাণমূলক যেকোনো জ্ঞান অর্জন করা ইবাদতের শামিল। যে জ্ঞান মানুষের জীবনকে সহজ করে, সমাজের উপকার করে এবং সঠিক ও ভুলের পার্থক্য শেখায়, তা অর্জন করা প্রত্যেকের দায়িত্ব। সৎ নিয়তে অর্জিত যেকোনো দরকারী জ্ঞান আখিরাতের সওয়াব বৃদ্ধি করে।

শিক্ষকদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে খতিব বলেন, শিক্ষকরা হলেন শিক্ষাব্যবস্থার মূল প্রাণ। সিলেবাস শেষ করাই তাঁদের একমাত্র কাজ নয়; শিক্ষার্থীদের আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা বৃদ্ধি এবং সৃষ্টিকর্তার সাথে তাদের সম্পর্ক মজবুত করাই তাঁদের আসল দায়িত্ব। মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস উল্লেখ করে তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি ভালো কাজের পথ দেখায়, সে তা সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব পায়।" শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় আজ শিক্ষার্থীরা চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও বিশ্বস্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে সমাজ ও উম্মাহর সেবা করছে। তিনি শিক্ষকদের ধৈর্য, দয়া, ন্যায়বিচার ও শিষ্টাচারের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শায়খ সুবাইতি বলেন, কেবল তথ্য অর্জন করাই শিক্ষার শেষ কথা নয়; বরং ভালো ব্যবহার ও সৎ চরিত্রের মাধ্যমেই শিক্ষার আসল প্রতিফলন ঘটে। তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষকদের সম্মান করা, সৎ সঙ্গ বেছে নেওয়া এবং সময় নষ্টকারী সঙ্গ ত্যাগ করার পরামর্শ দেন।

বর্তমান যুগের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তবে সঠিক ও ভুল তথ্যের পার্থক্য বুঝতে সচেতনতা প্রয়োজন। কোনো তথ্য নিশ্চিত না হয়ে গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি কুরআনের বাণী উদ্ধৃত করেন: "যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার পেছনে পোড়ো না। নিশ্চয়ই কান, চোখ ও হৃদয়—এদের প্রতিটি সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।"


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ