অধিকৃত পশ্চিম তীরের বায়তুল লাহাম (বেথলেহেম) শহরের একটি মসজিদে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বায়তুল লাহামের দক্ষিণাঞ্চলীয় বায়ত ফাজ্জার শহরে সামরিক অভিযান চালানোর সময় মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর সরাসরি এই হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে ইবাদতের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের ওপর স্পষ্ট আঘাত হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
ফিলিস্তিনের অফিসিয়াল রেডিও ‘ভয়েস অব ফিলিস্তিন’-এর বরাতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, বায়ত ফাজ্জার শহরে ইসরায়েলি সেনারা অভিযানের নামে একটি মসজিদে তাণ্ডব চালায়। সে সময় ভেতরে সাধারণ মুসল্লিরা ইবাদতে মশগুল ছিলেন। পবিত্র মসজিদের ভেতরে মুসল্লিদের দিকে সরাসরি সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে মারে দখলদার সেনারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে মসজিদের গালিচার ওপর নিক্ষিপ্ত সাউন্ড গ্রেনেডের অস্তিত্ব স্পষ্ট দেখা গেছে।
পশ্চিম তীরে মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা এবং সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সেনা ও চরমপন্থী উগ্র অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের পরিকল্পিত তাণ্ডব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে উত্তর পশ্চিম তীরের নাবলুস প্রদেশের মাদামা গ্রামের একটি মসজিদে ইসরায়েলি বাহিনী টিয়ার গ্যাস বা কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। ফলে মসজিদের ভেতরে থাকা ফিলিস্তিনি মুসল্লিরা মারাত্মক শ্বাসকষ্টে ভোগেন এবং অনেকেই দম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় পড়েন।
কেবল সামরিক বাহিনীই নয়, সশস্ত্র উগ্রপন্থী বসতিস্থাপনকারীরাও ধারাবাহিকভাবে মসজিদে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক ঘটনায়, নাবলুসের বিজায়রিয়া শহরে ভোরের দিকে ‘নুরুদ্দিন জানগি’ মসজিদে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালায় উগ্র উগ্র হিন্দুত্ববাদ ও উগ্র জায়নবাদী ভাবধারায় পুষ্ট চরমপন্থীরা। তারা বিজায়রিয়ার ওই মসজিদের দেওয়ালে নানা ধরনের বর্ণবাদী ও মুসলিমবিদ্বেষী স্লোগান লিখে দেয়। পরবর্তীতে মসজিদের মূল দরজা ভাঙতে ব্যর্থ হয়ে চরমপন্থীরা মসজিদের একদম সংলগ্ন এক ফিলিস্তিনির বাড়ি পুড়িয়ে দেয়।
এর আগে গত ২৬ জুলাই তুল কারেমের দক্ষিণাঞ্চলীয় কুর গ্রামে একটি মসজিদে এবং নাবলুসের কুসরা এলাকায় নির্মাণাধীন আরেকটি মসজিদে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে ইসরায়েলি উগ্রপন্থীরা। গত কয়েক মাসে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মসজিদগুলোতে হামলার ধরন মারাত্মক রূপ নিয়েছে। সাউন্ড ও টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড নিক্ষেপ করা, সরাসরি অগ্নিসংযোগের চেষ্টা এবং দেওয়ালে বর্ণবাদী উক্তি লেখা এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
ইসরায়েলি দখলদারদের এই তাণ্ডব কেবল ধর্মীয় স্থাপনাতেই সীমাবদ্ধ নেই; সাধারণ ফিলিস্তিনিদের হত্যা, অবৈধভাবে আটক, বাড়িঘর ও অবকাঠামো ধ্বংস, যানবাহন ও ফসলি জমি পুড়িয়ে দেওয়া এবং কৃষকদের নিজেদের জমি ব্যবহারে বাধা দেওয়ার মতো চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়মিত ঘটছে। উগ্র বর্ণবাদী মানসিকতা থেকে পরিচালিত এসব কর্মকাণদের মূল উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনিদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ করা।
মতামত