জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল পাশের প্রতিবাদে এবং আইনটির দুর্বলতার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা। রোববার জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করলে তারা এই প্রতিবাদ জানান। বিরোধী দলের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন যে বিল আনা হয়েছে, তাতে মানবাধিকার রক্ষার চেয়ে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনটির বিস্তারিত অংশে জাতীয় সংসদের সার্বিক পরিস্থিতি ও উত্থাপিত বিলটির নানা দিক উঠে এসেছে:
রোববার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের আহ্বানে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সংসদে 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল' উত্থাপন করেন। বিলটি উত্থাপনের পরপরই এর তীব্র বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা তুলনামূলক শক্তিশালী অধ্যাদেশটি বাতিল করে সরকার এখন একটি দুর্বল আইন পাসের চেষ্টা করছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে আরও শক্তিশালী আইন আনা হবে, কিন্তু বর্তমানে উপস্থাপিত বিলে আইনের স্পষ্ট দ্বৈত প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে।
বিরোধী দলীয় নেতা বিশেষ করে আইনটির বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী সাধারণ নাগরিকরা মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে কমিশন সরাসরি তা তদন্ত করতে পারবে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রে তদন্তে নানা আইনি জটিলতা ও বাধা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, 'রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্য হলেও তারা দেশের নাগরিক। একই অপরাধে একজনের বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্ত হবে আর অন্যজনের ক্ষেত্রে আটকে যাবে—এমন দ্বৈত প্রয়োগ মেনে নেওয়া যায় না'।
দুর্বল আইন পাসের অংশীদার না হওয়ার ঘোষণা দিয়ে শফিকুর রহমান বিরোধী সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন। বিরোধী দলীয় নেতার ওয়াকআউটের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন, 'ওয়াকআউট করার জন্য আপনাদেরও ধন্যবাদ'।
উল্লেখ্য, আজকের সংসদ অধিবেশনে মানবাধিকার কমিশন বিলের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পক্ষ থেকে 'গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল' উত্থাপনের সূচি রয়েছে। বিল দুটি ইতিপূর্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হলেও বর্তমান সরকার পরবর্তীতে তা বাতিল করে নতুন বিল হিসেবে সংসদে উপস্থাপন করে। নাগরিক সমাজ ও বিরোধীদের মতে, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকলের ক্ষেত্রে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
আইনের দ্বৈত নীতি কখনো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে না। মানবাধিকার সুরক্ষা সর্বজনীন; সাধারণ নাগরিক ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মধ্যে তদন্তের সুযোগে বৈষম্য সৃষ্টি করা ন্যায়বিচারের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী।
মতামত