দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে নির্ভয়ে, স্বাধীনভাবে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঝিনাইদহের শৈলকুপা শহরের রামগোপাল মন্দির চত্বরে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা বাধা সৃষ্টি করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে সম্পূর্ণ নির্ভয়ে, স্বাধীনভাবে এবং মর্যাদার সঙ্গে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন—সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বলে দৃঢ় আশা ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঝিনাইদহের শৈলকুপা শহরের রামগোপাল মন্দির চত্বরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি যেকোনো ধরনের অশুভ ও অপশক্তির বিরুদ্ধে সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে মথুরার অসুর ও অত্যাচারী কংসের মতো অশুভ শক্তিকে দমন করে সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। সমস্ত অন্যায় ও অপশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাই ছিল তাঁর মূল আদর্শ।
আইনমন্ত্রী বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, সমাজ থেকে যেকোনো ধরনের অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিনাশে আমরা যখন সংগ্রাম করব, আপনারা বরাবরের মতো সরকারের পাশে থাকবেন।”
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা বাধার অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না উল্লেখ করে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “ধর্ম যার যার, কিন্তু নিরাপত্তা সবার—এই শাশ্বত চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি যদি মাস্তানি, বিশৃঙ্খলা কিংবা বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেবে।
আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে কোনো ভেদাভেদ নেই; দেশের প্রতিটি মানুষ নির্বিঘ্নে ও সুখে শান্তিতে তাঁর ধর্ম পালন করবেন।”
আলোচনা সভা শেষে আইনমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা ও র্যালিতে অংশ নেন। র্যালিটি রামগোপাল মন্দির চত্বর থেকে শুরু হয়ে শৈলকুপা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তরা।
সরকারের পক্ষ থেকে ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার এই অঙ্গীকার দেশের সব নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখার গুরুত্বকে সামনে এনেছে।
মতামত