ভারতের উত্তর প্রদেশের কৌশাম্বী জেলায় এক মুসলিম মহিষ ব্যবসায়ীকে পথ আটকে শারীরিক নির্যাতন ও নগদ অর্থ ছিনতাইয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। আফশার আলী নামে ওই ব্যবসায়ী শ্বশুড়বাড়ি থেকে ফেরার পথে হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ প্রাথমিক নিষ্ক্রিয়তা দেখালেও পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
ভারতে উগ্র হিংস্রতার শিকার হয়েছেন আরও এক মুসলিম ব্যবসায়ী। উত্তর প্রদেশের কৌশাম্বী জেলার করারী থানা এলাকার জামদুরা নামক স্থানে আফশার আলী নামে এক মুসলিম মহিষ ব্যবসায়ীকে শারীরিক নির্যাতন ও ছিনতাই করার অভিযোগ উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, আফশার আলী তার শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে একদল লোক তার মোটরসাইকেল থামায়। তারা তার উপার্জনের হিসাব নিয়ে খোঁচা দিতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে উসকানিমূলকভাবে বলে, “তুমি তো অনেক টাকা আয় করো, আমাদের সামান্য মদ কিনে দিতে পারো না?”
আফশার আলী তাদের দাবির প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস রূপ নেয়। আক্রমণকারীরা তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং তার পকেটে থাকা নগদ ৪,৫০০ রুপি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী আফশার আলী বিচার পেতে স্থানীয় করারী থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে তার অভিযোগ, পুলিশ প্রথমে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। বাধ্য হয়ে তিনি জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) সাথে সাক্ষাৎ করে সুবিচারের আকুতি জানান এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি তোলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হামলার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তোপের মুখে পড়ে কৌশাম্বী জেলা পুলিশ তাদের অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যম হ্যান্ডেলে একটি বিবৃতি দিয়ে জানায় যে, করারী থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিম ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও গবাদিপশু ব্যবসায়ীদের ওপর সংঘবদ্ধ উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। কৌশাম্বীর এই ঘটনা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার করুণ চিত্র আবারও উন্মোচন করেছে।
মতামত