শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাটে পুলিশ লাইনস মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা; নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য ও সাধারণ মুসল্লি অন্তর্ভুক্ত।

পাকিস্তানে জুমার নামাজে মসজিদে আত্মঘাতী হামলা: ১৭ জন নিহত, আহত অর্ধশতাধিক


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানে জুমার নামাজে মসজিদে আত্মঘাতী হামলা: ১৭ জন নিহত, আহত অর্ধশতাধিক

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাট শহরে পুলিশ লাইনস চত্বরের ভেতরে অবস্থিত একটি মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫ জন পুলিশ সদস্য ও ১২ জন সাধারণ নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৫০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় নিরাপত্তা ও চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) জুমার নামাজের সময় কোহাটের পুরাতন পুলিশ লাইনস চত্বরের ভেতরে অবস্থিত স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের কাছে এক আত্মঘাতী হামলাকারী নিজের কাছে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মসজিদের একটি দেওয়াল ধসে পড়ে। এই হামলার সমসাময়িক মুহূর্তে আরও ৬ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী পুলিশ সদর দপ্তরে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা চালালে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত জবাবে তারা সবাই ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি এই হামলায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, "দুষ্কৃতকারীদের এই কাপুরুষোচিত হামলা পাকিস্তানি জাতির দৃঢ় সংকল্পকে কখনোই দুর্বল করতে পারবে না।"

খাইবার পাখতুনখাওয়ার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জুলফিকার হামিদ জানান, হামলায় ৫ জন পুলিশ সদস্য ও ১২ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৫০ জন আহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী অঞ্চলটি কর্ডন করে চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক পুলিশের মনোবল অত্যন্ত উঁচুতে রয়েছে এবং এর পেছনে থাকা পরিকল্পনাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই ১৪টি অ্যাম্বুলেন্স এবং ৪০ জনেরও বেশি জরুরি উদ্ধারকর্মী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আহতদের দ্রুত নিকটস্থ প্রধান জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কোহাট-হাঙ্গু সড়ক সাময়িকভাবে সব ধরনের যানবাহন চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ চত্বরের ভেতর থেকে পর পর তিনটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, জুমার নামাজের সময় প্রবেশদ্বারের কাছে বিস্ফোরক ভর্তি একটি গাড়িও দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত দৃশ্যগুলোতে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দারা ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকারীদের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। প্রধানমন্ত্রী আহতদের সর্বাধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন তলব করেছেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট জারদারি উল্লেখ করেন, বিদেশী মদদপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নির্মূল করা পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।

বিষয় : পাকিস্তান

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পাকিস্তানে জুমার নামাজে মসজিদে আত্মঘাতী হামলা: ১৭ জন নিহত, আহত অর্ধশতাধিক

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাট শহরে পুলিশ লাইনস চত্বরের ভেতরে অবস্থিত একটি মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫ জন পুলিশ সদস্য ও ১২ জন সাধারণ নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৫০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় নিরাপত্তা ও চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) জুমার নামাজের সময় কোহাটের পুরাতন পুলিশ লাইনস চত্বরের ভেতরে অবস্থিত স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের কাছে এক আত্মঘাতী হামলাকারী নিজের কাছে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মসজিদের একটি দেওয়াল ধসে পড়ে। এই হামলার সমসাময়িক মুহূর্তে আরও ৬ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী পুলিশ সদর দপ্তরে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা চালালে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত জবাবে তারা সবাই ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি এই হামলায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, "দুষ্কৃতকারীদের এই কাপুরুষোচিত হামলা পাকিস্তানি জাতির দৃঢ় সংকল্পকে কখনোই দুর্বল করতে পারবে না।"

খাইবার পাখতুনখাওয়ার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জুলফিকার হামিদ জানান, হামলায় ৫ জন পুলিশ সদস্য ও ১২ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৫০ জন আহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী অঞ্চলটি কর্ডন করে চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক পুলিশের মনোবল অত্যন্ত উঁচুতে রয়েছে এবং এর পেছনে থাকা পরিকল্পনাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই ১৪টি অ্যাম্বুলেন্স এবং ৪০ জনেরও বেশি জরুরি উদ্ধারকর্মী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আহতদের দ্রুত নিকটস্থ প্রধান জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কোহাট-হাঙ্গু সড়ক সাময়িকভাবে সব ধরনের যানবাহন চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ চত্বরের ভেতর থেকে পর পর তিনটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, জুমার নামাজের সময় প্রবেশদ্বারের কাছে বিস্ফোরক ভর্তি একটি গাড়িও দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত দৃশ্যগুলোতে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দারা ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকারীদের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। প্রধানমন্ত্রী আহতদের সর্বাধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন তলব করেছেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট জারদারি উল্লেখ করেন, বিদেশী মদদপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নির্মূল করা পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ