শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

পবিত্র মক্কার মসজিদুল হারামে জুমার খুতবায় জাতির উন্নয়ন, পবিত্র স্থানসমূহের সুরক্ষা এবং চরমপন্থা ও অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান বিশিষ্ট খতিব ও ইমাম ড. ইয়াসির আদ-দৌসারি।

উম্মাহর জাগরণে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ঐক্যের বিকল্প নেই: মসজিদুল হারামের খতিব


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উম্মাহর জাগরণে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ঐক্যের বিকল্প নেই: মসজিদুল হারামের খতিব

ইসলাম মানুষকে কেবল আখেরাত নয়, দুনিয়ার জগতেও সর্বোচ্চ মর্যাদা অর্জনে উৎসাহিত করে। সুদৃঢ় আত্মবিশ্বাস, উচ্চাকাঙ্ক্ষা (উলোউল হিম্মাহ) এবং জাতীয় ঐক্যই পারে একটি জাতিকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) পবিত্র মক্কার মসজিদুল হারামে প্রদত্ত জুমার খুতবায় এ কথা বলেন খতিব ও বিশিষ্ট আলেম ইয়াসির বিন রাশিদ আদ-দৌসারি। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, পবিত্র স্থানসমূহ এবং জন্মভূমির সুরক্ষা প্রদান প্রতিটি মুসলিমের ঈমানী দায়িত্ব।

পবিত্র মসজিদুল হারামের খতিব ও ইমাম ড. ইয়াসির বিন রাশিদ আদ-দৌসারি তাঁর জুমার খুতবায় খোদাতীতি বা তাকওয়া অবলম্বনের গুরুত্ব ব্যক্ত করে বলেন, ইসলামের সুমহান সৌন্দর্যের একটি অন্যতম দিক হলো এটি মানুষকে সব ধরনের অলসতা ও হীনমন্যতা পরিহার করে দুনিয়া ও আখেরাতে উচ্চ মর্যাদা অর্জনে উদ্বুদ্ধ করে।

উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সুদৃঢ় সংকল্পই সাফল্যের চাবিকাঠি

ইমাম ড. ইয়াসির আদ-দৌসারি বলেন, মানবজীবনের ব্যর্থতা ও দুর্বলতা দূর করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো উচ্চাকাঙ্ক্ষা। এটি সাফল্যের মূল চাবিকাঠি এবং দ্বীন ও দুনিয়ার সর্বউচ্চ শিখরে আরোহণের মাধ্যম। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, “অতএব তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করো।” (সূরা আল-বাকারা: ১৪৮)। তদ্রূপ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “যখন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে, তখন জান্নাতুল ফেরদাউস প্রার্থনা করো।”

তিনি বলেন, মহানবী (সা.) নিজে ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সংকল্পের সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি দাওয়াতের সুমহান দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ধৈর্য ও নিষ্ঠার সাথে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তাঁর অনুসারী সাহাবায়ে কেরাম এবং পরবর্তীতে সালাফে সালেহীন (পুণ্যাত্মা পূর্বসূরিগণ) এই পথ অনুসরণ করেই বিশ্বজুড়ে সত্য ও ন্যায়ের প্রদীপ প্রজ্বলিত করেছিলেন। ড. দৌসারি জোর দিয়ে বলেন, উচ্চ কোনো বিলাসিতা নয়, বরং বড় লক্ষ্য অর্জন ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের একমাত্র উপায়।

জীবনের মূল্য ও সময়ের গুরুত্ব

মানুষের আয়ু অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত উল্লেখ করে খতিব বলেন, অতিক্রান্ত সময় আর কখনো ফিরে আসে না। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিখ্যাত হাদিস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, পাঁচটি অবস্থাকে পাঁচটি পরিস্থিতির পূর্বে গণিমত বা সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে— ১. বার্ধক্যের পূর্বে যৌবন, ২. অসুস্থতার পূর্বে সুস্থতা, ৩. দারিদ্র্যের পূর্বে প্রাচুর্য, ৪. ব্যস্ততার পূর্বে অবসর, এবং ৫. মৃত্যুর পূর্বে জীবন। তিনি মুসলিম সমাজকে অলসতা, দীর্ঘসূত্রতা এবং মিথ্যা আশায় দিন কাটানো পরিহার করে কল্যাণকর কাজে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।

উন্নয়ন, সভ্যতা ও দেশপ্রেমের ইসলামী রূপরেখা

দ্বিতীয় খুতবায় ড. ইয়াসির আদ-দৌসারি স্পষ্ট করেন যে, উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা দ্বীনি মনোভাবের অর্থ দুনিয়ার বৈ বৈধ উন্নতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া নয়। বরং এটি মানুষকে ধর্ম ও সমাজ সংস্কারের পাশাপাশি দুনিয়াতেও অনন্য উচ্চতা অর্জনে তাড়না যোগায়। ইতিহাস সাক্ষী, কোনো জাতি দীর্ঘস্থায়ী সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি দৃঢ় সংকল্প, কঠোর পরিশ্রম ও অবিচল অধ্যবসায় ছাড়া।

তিনি বলেন, দেশপ্রেম কেবল মুখের মিষ্টি কথা বা স্লোগানে সীমাবদ্ধ হতে পারে না। প্রকৃত দেশপ্রেম প্রতিফলিত হয় কাজের নিখুঁত সম্পাদনায় (ইতকান), সততা, আইনি আনুগত্য, দেশের সম্পদ রক্ষা এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক ঐক্যের মাধ্যমে।

অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও পবিত্র স্থানসমূহে হামলার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা

খুতবায় তিনি উগ্রবাদ, চরমপন্থা, বিভ্রান্তিকর চিন্তাধারা এবং গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে উম্মাহকে সতর্ক করেন। পবিত্র মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারাহসহ সুনির্দিষ্ট ভূমির নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, অতীতে আমাদের পবিত্র ভূমি ও মক্কা-মদিনায় যেসব জঘন্য আক্রমণ ও ষড়যন্ত্রের চেষ্টা চালানো হয়েছে, তা অত্যন্ত ঘৃণ্য অপরাধ এবং ইসলামী মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন। এ ধরনের হুমকি ও ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় জাতির অভ্যন্তরীণ ঐক্যই সবচেয়ে বড় দুর্গ।

তিনি আহ্বান জানান, সর্বস্তরের নাগরিক যেন যার যার স্থান থেকে নিজ দেশের মর্যাদা রক্ষা, কল্যাণসাধন এবং পবিত্র স্থানসমূহের হিফাজতে ভূমিকা পালন করে।

বিষয় : সৌদি আরব মক্কা খুতবা মসজিদুল হারাম

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


উম্মাহর জাগরণে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ঐক্যের বিকল্প নেই: মসজিদুল হারামের খতিব

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ইসলাম মানুষকে কেবল আখেরাত নয়, দুনিয়ার জগতেও সর্বোচ্চ মর্যাদা অর্জনে উৎসাহিত করে। সুদৃঢ় আত্মবিশ্বাস, উচ্চাকাঙ্ক্ষা (উলোউল হিম্মাহ) এবং জাতীয় ঐক্যই পারে একটি জাতিকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) পবিত্র মক্কার মসজিদুল হারামে প্রদত্ত জুমার খুতবায় এ কথা বলেন খতিব ও বিশিষ্ট আলেম ইয়াসির বিন রাশিদ আদ-দৌসারি। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, পবিত্র স্থানসমূহ এবং জন্মভূমির সুরক্ষা প্রদান প্রতিটি মুসলিমের ঈমানী দায়িত্ব।

পবিত্র মসজিদুল হারামের খতিব ও ইমাম ড. ইয়াসির বিন রাশিদ আদ-দৌসারি তাঁর জুমার খুতবায় খোদাতীতি বা তাকওয়া অবলম্বনের গুরুত্ব ব্যক্ত করে বলেন, ইসলামের সুমহান সৌন্দর্যের একটি অন্যতম দিক হলো এটি মানুষকে সব ধরনের অলসতা ও হীনমন্যতা পরিহার করে দুনিয়া ও আখেরাতে উচ্চ মর্যাদা অর্জনে উদ্বুদ্ধ করে।

উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সুদৃঢ় সংকল্পই সাফল্যের চাবিকাঠি

ইমাম ড. ইয়াসির আদ-দৌসারি বলেন, মানবজীবনের ব্যর্থতা ও দুর্বলতা দূর করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো উচ্চাকাঙ্ক্ষা। এটি সাফল্যের মূল চাবিকাঠি এবং দ্বীন ও দুনিয়ার সর্বউচ্চ শিখরে আরোহণের মাধ্যম। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, “অতএব তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করো।” (সূরা আল-বাকারা: ১৪৮)। তদ্রূপ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “যখন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে, তখন জান্নাতুল ফেরদাউস প্রার্থনা করো।”

তিনি বলেন, মহানবী (সা.) নিজে ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সংকল্পের সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি দাওয়াতের সুমহান দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ধৈর্য ও নিষ্ঠার সাথে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তাঁর অনুসারী সাহাবায়ে কেরাম এবং পরবর্তীতে সালাফে সালেহীন (পুণ্যাত্মা পূর্বসূরিগণ) এই পথ অনুসরণ করেই বিশ্বজুড়ে সত্য ও ন্যায়ের প্রদীপ প্রজ্বলিত করেছিলেন। ড. দৌসারি জোর দিয়ে বলেন, উচ্চ কোনো বিলাসিতা নয়, বরং বড় লক্ষ্য অর্জন ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের একমাত্র উপায়।

জীবনের মূল্য ও সময়ের গুরুত্ব

মানুষের আয়ু অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত উল্লেখ করে খতিব বলেন, অতিক্রান্ত সময় আর কখনো ফিরে আসে না। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিখ্যাত হাদিস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, পাঁচটি অবস্থাকে পাঁচটি পরিস্থিতির পূর্বে গণিমত বা সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে— ১. বার্ধক্যের পূর্বে যৌবন, ২. অসুস্থতার পূর্বে সুস্থতা, ৩. দারিদ্র্যের পূর্বে প্রাচুর্য, ৪. ব্যস্ততার পূর্বে অবসর, এবং ৫. মৃত্যুর পূর্বে জীবন। তিনি মুসলিম সমাজকে অলসতা, দীর্ঘসূত্রতা এবং মিথ্যা আশায় দিন কাটানো পরিহার করে কল্যাণকর কাজে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।

উন্নয়ন, সভ্যতা ও দেশপ্রেমের ইসলামী রূপরেখা

দ্বিতীয় খুতবায় ড. ইয়াসির আদ-দৌসারি স্পষ্ট করেন যে, উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা দ্বীনি মনোভাবের অর্থ দুনিয়ার বৈ বৈধ উন্নতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া নয়। বরং এটি মানুষকে ধর্ম ও সমাজ সংস্কারের পাশাপাশি দুনিয়াতেও অনন্য উচ্চতা অর্জনে তাড়না যোগায়। ইতিহাস সাক্ষী, কোনো জাতি দীর্ঘস্থায়ী সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি দৃঢ় সংকল্প, কঠোর পরিশ্রম ও অবিচল অধ্যবসায় ছাড়া।

তিনি বলেন, দেশপ্রেম কেবল মুখের মিষ্টি কথা বা স্লোগানে সীমাবদ্ধ হতে পারে না। প্রকৃত দেশপ্রেম প্রতিফলিত হয় কাজের নিখুঁত সম্পাদনায় (ইতকান), সততা, আইনি আনুগত্য, দেশের সম্পদ রক্ষা এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক ঐক্যের মাধ্যমে।

অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও পবিত্র স্থানসমূহে হামলার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা

খুতবায় তিনি উগ্রবাদ, চরমপন্থা, বিভ্রান্তিকর চিন্তাধারা এবং গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে উম্মাহকে সতর্ক করেন। পবিত্র মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারাহসহ সুনির্দিষ্ট ভূমির নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, অতীতে আমাদের পবিত্র ভূমি ও মক্কা-মদিনায় যেসব জঘন্য আক্রমণ ও ষড়যন্ত্রের চেষ্টা চালানো হয়েছে, তা অত্যন্ত ঘৃণ্য অপরাধ এবং ইসলামী মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন। এ ধরনের হুমকি ও ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় জাতির অভ্যন্তরীণ ঐক্যই সবচেয়ে বড় দুর্গ।

তিনি আহ্বান জানান, সর্বস্তরের নাগরিক যেন যার যার স্থান থেকে নিজ দেশের মর্যাদা রক্ষা, কল্যাণসাধন এবং পবিত্র স্থানসমূহের হিফাজতে ভূমিকা পালন করে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ