মসজিদে নববীর সম্মানিত ইমাম ও খতিব ফজিলতুশ শায়খ সালাহ আল-বুদাইর জুমুআর খুতবায় বিশ্ব মুসলিমকে তাকওয়া অবলম্বনের প্রতি জোর তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দাদের বাসস্থান হিসেবে পরম শান্তিময় জান্নাত সৃষ্টি করেছেন এবং সেখানে এমন নেয়ামত প্রস্তুত রেখেছেন যা কোনো চোখ কখনো দেখেনি। খুতবায় তিনি বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মর্যাদা, হাউজে কাউছারের বরকত এবং আখেরাতে আল্লাহর দিদার লাভের সুসংবাদ বর্ণনা করেন।
মসজিদে নববীর সম্মানিত ইমাম ও খতিব ফজিলতুশ শায়খ সালাহ আল-বুদাইর শুক্রবার (১৪ রবীউস সানী ১৪৪৮ হিজরী / ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জুমুআর খুতবায় উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে পবিত্র কোরআনের বাণী স্মরণের মাধ্যমে তাকওয়া অর্জনের তাগিদ দেন। তিনি বলেন, 'তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকিদের সাথে আছেন।'
খুতবায় খতিব উল্লেখ করেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগত বান্দা ও বিশেষ প্রতিনিধিদের থাকার স্থান হিসেবে জান্নাত সৃষ্টি করেছেন। তিনি এটিকে স্বীয় রহমত, সম্মান ও সন্তুষ্টি দ্বারা পরিপূর্ণ করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন 'দারুস সালাম' বা শান্তির গৃহ। এক হাদিসে কুদসিতে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন— মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন: 'আমি আমার সৎকর্মশীল বান্দাদের জন্য এমন নেয়ামত তৈরি করে রেখেছি, যা কোনো চোখ কখনো দেখেনি, কোনো কান কখনো শোনেনি এবং কোনো মানুষের অন্তরে তার ধারণাও জন্মেনি।'
শায়খ বুদাইর জান্নাতের দরজা খোলার বিশেষ ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, কিয়ামতের দিন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রথম জান্নাতের দরজায় কড়া নাড়বেন। তখন জান্নাতের রক্ষী ফেরেশতা জিজ্ঞাসা করবেন, 'আপনি কে?' তিনি উত্তর দেবেন, 'আমি মুহাম্মদ।' তখন ফেরেশতা বলবেন, 'আপনার পূর্বেই কারও জন্য এই দরজা না খোলার জন্য আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।'
জান্নাতের বিশালতার বিবরণ দিয়ে খতিব জানান, জান্নাতের আটটি দরজার দূরত্ব হবে মক্কা থেকে হাজার (বাহরাইন) কিংবা মক্কা থেকে বুছরার (সিরিয়া) দূরত্বের সমান। জান্নাতবাসীরা যখন সেখানে প্রবেশ করবে, তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল। তারা হবেন দাড়ি-গোঁফহীন, আকর্ষণীয় যুবক, ৩৩ বছর বয়সের সুঠাম দেহের অধিকারী এবং পিতা আদম (আ.)-এর সুরতে। জান্নাতে প্রবেশের পর ঘোষণা দেওয়া হবে: 'তোমাদের জন্য শুভসংবাদ, তোমরা চিরকাল জীবিত থাকবে, কখনো মৃত্যুবরণ করবে না; সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না; চিরযৌবন লাভ করবে, কখনো বার্ধক্য তোমাদের স্পর্শ করবে না; এবং পরম সুখে থাকবে, কোনো কষ্ট কখনো তোমাদের ছুঁতে পারবে না।'
খতিব জান্নাতপ্রত্যাশী মুমিনদের সর্বোচ্চ জান্নাত 'ফেরদাউস' প্রার্থনা করার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, জান্নাতুল ফেরদাউস হলো জান্নাতের কেন্দ্রস্থল ও সর্বোচ্চ স্তর, যার ঠিক ওপরেই রয়েছে দয়ালু আল্লাহর আরশ। মহান আল্লাহ এটিকে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সম্মানিত মাকাম ও সম্মান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
তিনি ময়দানে হাশরে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর 'হাউজে কাউছার'-এর বিবরণ দিয়ে বলেন, এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান। এর এক প্রান্তর থেকে অন্য প্রান্তের দূরত্ব এক মাসের পথ, যা সানা থেকে মদিনার দূরত্বের সমতুল্য। যে ব্যক্তি সেখান থেকে একবার পানীয় পান করবে, সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না।
সবশেষে শায়খ বুদাইর ঘোষণা করেন, জান্নাতের সমস্ত নেয়ামতকে ছাপিয়ে মুমিনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার ও মহা-নেয়ামত হলো মহান আল্লাহ তাআলার দিদার বা স্বচক্ষে দর্শন লাভ করা। হযরত জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পূর্ণিমার রাতে সাহাবিদের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন: 'তোমরা কিয়ামতের দিন তোমাদের প্রতিপালককে ঠিক তেমনই স্পষ্টভাবে দেখতে পাবে, যেমন এই পূর্ণিমার চাঁদকে কোনো ভিড় বা বাধার মুখোমুখি না হয়ে দেখছ।'
দ্বিতীয় খুতবায় খতিব বিশ্ব মুসলিমকে আখেরাতের এই মহা-নেয়ামত হাতছাড়া না করার এবং সৎকাজের মাধ্যমে তা অর্জনে সচেষ্ট হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি হারামাইন শরিফাইনের খিদমত, শান্তি ও ঈমানের সুরক্ষায় আল্লাহর অশেষ নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে খুতবা শেষ করেন।
মতামত