শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

গভর্নরের দাবির মুখে স্বজনদের প্রকাশ করা ৫৪৭ জনের তালিকা; পশ্চিম আফ্রিকায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মুসল্লিদের সুরক্ষায় চরম ব্যর্থতার অভিযোগ।

নাইজেরিয়ায় জুমার নামাজ চলাকালে মসজিদে ভয়াবহ হামলা


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাইজেরিয়ায় জুমার নামাজ চলাকালে মসজিদে ভয়াবহ হামলা

নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় নাইজার রাজ্যের বর্গু জেলার ডিকেরা এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে জুমার নামাজ চলাকালে এক ভয়াবহ অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্র ও অধিকারকর্মীদের দাবি অনুযায়ী, একটি মসজিদে হামলা চালিয়ে নারী ও শিশুসহ ৫৪৭ জন বেসামরিক নাগরিককে অপহরণ করা হয়েছে। দেশটির সরকার হতাহত ও অপহৃতের সংখ্যা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে জুমার নামাজের সময় মসজিদে হামলা চালিয়ে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে অপহরণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ক্রমাগত বাড়তে থাকা চরমপন্থী ও সশস্ত্র ডাকাত দলগুলোর তাণ্ডবে সাধারণ মুসলিম জনসংখ্যার নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে।

ঘটনাসূত্রে জানা যায়, নাইজার রাজ্যের বর্গু জেলার অন্তর্গত ডিকেরা (যা ডেকেরা নামেও পরিচিত) এবং এর আশেপাশের কপেনিয়া, গিয়াগবাসো, গবেনজি ও গবেবারা গ্রামের মুসল্লিরা জুমার নামাজে সমবেত হলে বন্দুকধারীরা হামলা চালায়। স্থানীয় যুব অধিকারকর্মী জুবাইরু উমারের সংগৃহীত ও স্বাক্ষরিত এক পূর্ণাঙ্গ তালিকা থেকে জানা যায়, ওই হামলায় মোট ৫৪৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, অপহৃত শত শত নারী, শিশু ও পুরুষকে গহীন জঙ্গলের ভেতর জিম্মি করে রাখা হয়েছে।

তবে স্থানীয় রাজ্য গভর্নর মোহাম্মদ উমারু বাগো দাবি করেছেন, অপহৃতের সংখ্যা 'মাত্র কয়েক ডজন'। গভর্নরের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের পর সোমবার বর্গু জেলায় ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। নাইজেরিয়া কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রায়শই সহিংসতার প্রকৃত মাত্রা গোপন করার অভিযোগ ওঠে। দেশটিতে বর্তমানে মুক্তিপণভিত্তিক অপহরণ বিলিয়ন ডলারের অপরাধমূলক বাণিজ্যে রূপ নিয়েছে।

আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়া গত ১৭ বছর ধরে চরমপন্থী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দৌরাত্ম্যে জর্জরিত। ২০১৪ সালে চিবক থেকে কয়েক শত স্কুলছাত্রী অপহরণের স্মৃতির পর এবার সরাসরি জুমার নামাজের খুতবা ও জামাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হলো। নাইজার রাজ্যটি বেনিন সীমান্তের কাছে হওয়ায় এখানে সাহেল অঞ্চল থেকে আসা সশস্ত্র যোদ্ধা এবং স্থানীয় 'দস্যু' বা ডাকাত দলগুলোর সম্মিলিত তৎপরতা বেড়েছে, যারা নিয়মিত গ্রামে হামলা চালিয়ে নিরীহ কৃষক ও সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার ও মুক্তিপণ আদায় করছে।

ঘটনার পরপরই নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু নিরাপত্তা বাহিনীকে সমন্বিত উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহল এবং বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় অপহৃতদের নিরাপদ ও দ্রুত মুক্তির পাশাপাশি নাইজেরিয়ার চরমপন্থী ও অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছে।

বিষয় : নামাজ নাইজেরিয়া ভয়াবহ হামলা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নাইজেরিয়ায় জুমার নামাজ চলাকালে মসজিদে ভয়াবহ হামলা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় নাইজার রাজ্যের বর্গু জেলার ডিকেরা এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে জুমার নামাজ চলাকালে এক ভয়াবহ অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্র ও অধিকারকর্মীদের দাবি অনুযায়ী, একটি মসজিদে হামলা চালিয়ে নারী ও শিশুসহ ৫৪৭ জন বেসামরিক নাগরিককে অপহরণ করা হয়েছে। দেশটির সরকার হতাহত ও অপহৃতের সংখ্যা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে জুমার নামাজের সময় মসজিদে হামলা চালিয়ে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে অপহরণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ক্রমাগত বাড়তে থাকা চরমপন্থী ও সশস্ত্র ডাকাত দলগুলোর তাণ্ডবে সাধারণ মুসলিম জনসংখ্যার নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে।

ঘটনাসূত্রে জানা যায়, নাইজার রাজ্যের বর্গু জেলার অন্তর্গত ডিকেরা (যা ডেকেরা নামেও পরিচিত) এবং এর আশেপাশের কপেনিয়া, গিয়াগবাসো, গবেনজি ও গবেবারা গ্রামের মুসল্লিরা জুমার নামাজে সমবেত হলে বন্দুকধারীরা হামলা চালায়। স্থানীয় যুব অধিকারকর্মী জুবাইরু উমারের সংগৃহীত ও স্বাক্ষরিত এক পূর্ণাঙ্গ তালিকা থেকে জানা যায়, ওই হামলায় মোট ৫৪৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, অপহৃত শত শত নারী, শিশু ও পুরুষকে গহীন জঙ্গলের ভেতর জিম্মি করে রাখা হয়েছে।

তবে স্থানীয় রাজ্য গভর্নর মোহাম্মদ উমারু বাগো দাবি করেছেন, অপহৃতের সংখ্যা 'মাত্র কয়েক ডজন'। গভর্নরের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের পর সোমবার বর্গু জেলায় ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। নাইজেরিয়া কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রায়শই সহিংসতার প্রকৃত মাত্রা গোপন করার অভিযোগ ওঠে। দেশটিতে বর্তমানে মুক্তিপণভিত্তিক অপহরণ বিলিয়ন ডলারের অপরাধমূলক বাণিজ্যে রূপ নিয়েছে।

আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়া গত ১৭ বছর ধরে চরমপন্থী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দৌরাত্ম্যে জর্জরিত। ২০১৪ সালে চিবক থেকে কয়েক শত স্কুলছাত্রী অপহরণের স্মৃতির পর এবার সরাসরি জুমার নামাজের খুতবা ও জামাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হলো। নাইজার রাজ্যটি বেনিন সীমান্তের কাছে হওয়ায় এখানে সাহেল অঞ্চল থেকে আসা সশস্ত্র যোদ্ধা এবং স্থানীয় 'দস্যু' বা ডাকাত দলগুলোর সম্মিলিত তৎপরতা বেড়েছে, যারা নিয়মিত গ্রামে হামলা চালিয়ে নিরীহ কৃষক ও সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার ও মুক্তিপণ আদায় করছে।

ঘটনার পরপরই নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু নিরাপত্তা বাহিনীকে সমন্বিত উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহল এবং বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় অপহৃতদের নিরাপদ ও দ্রুত মুক্তির পাশাপাশি নাইজেরিয়ার চরমপন্থী ও অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ