শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

একসময় মিডিয়ায় উদযাপিত হলেও জীবনের দীর্ঘ ট্রমা ও হরমোন থেরাপির করাল রূপ উপলব্ধি করে সুস্থ দেহে ফিরে পাওয়ার আকুতি প্রকাশ করলেন সুইজারল্যান্ডের আলোচিত ব্যক্তিত্ব ক্রিস ব্রোনিম্যান।

৩০ বছর ট্রান্স নারী থাকার পর অনুশোচনা: লিঙ্গ পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সরব সুইজারল্যান্ডের ক্রিস


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩০ বছর ট্রান্স নারী থাকার পর অনুশোচনা: লিঙ্গ পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সরব সুইজারল্যান্ডের ক্রিস

সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে পরিচিত সাবেক ট্রান্স নারী ক্রিস ব্রোনিম্যান (৫৬) প্রায় তিন দশক পর পুনরায় তার জন্মগত পুরুষ পরিচয়ে ফিরে এসেছেন। দীর্ঘ ১৬টি অস্ত্রোপচার, মানসিক অস্থিরতা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অপরিনামদর্শী সিদ্ধান্তের শিকার হয়ে তিনি এখন পশ্চিমা লিঙ্গ পরিবর্তন ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করছেন। সম্প্রতি আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেই তিনি জীবনের এই করুণ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেন।

যৌবনের ভুল সিদ্ধান্ত ও মিডিয়ার প্রচারণা

জার্মানিতে জন্ম নেওয়া ক্রিস ব্রোনিম্যান বাল্যকালে পারিবারিক ট্রমা ও অবহেলার শিকার হন। পরে সাত বছর বয়সে এক সুইস পরিবার তাকে দত্তক নিলেও তার ভেতরের মানসিক ক্ষত নিরাময় হয়নি। মাত্র ১৯ বছর বয়সে একজন ট্রান্স নারীর জীবনযাত্রা দেখে তিনি মনে করেছিলেন নারী হলে বুঝি সব দুঃখ মুছে যাবে। ১৯৯৮ সালে তিনি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রূপান্তরিত নারী 'নাদিয়া' পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করেন।

সুইস মিডিয়ার কল্যাণে রাতারাতি আলোচনায় আসেন ক্রিস। ২০০৪ সালে সুইস জাতীয় টেলিভিশন এসআরএফ (SRF) তাকে নিয়ে নির্মাণ করে একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র। পরবর্তীতে বই, সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে তাকে "সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বিখ্যাত ট্রান্স নারী" হিসেবে তুলে ধরা হয়। তবে ক্রিসের মতে, মিডিয়া তার জীবনের চকচকে বাহ্যিক দিকটি প্রচার করলেও ভেতরের গভীর মানসিক যন্ত্রণা ও জটিলতাকে সম্পূর্ণ আড়াল করেছিল।

১৬টি অস্ত্রোপচার ও স্বাস্থ্যগত জটিলতা

ক্রিস জানান, নারী রূপ বজায় রাখতে তাকে ১৬বার অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ক্ষতিকর হরমোন থেরাপির ফলে তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মক ভেঙে পড়ে। তিনি বলেন, "আমি ভাবতাম নারীতে রূপান্তরিত হলে মুক্তি পাব, কিন্তু বাস্তব ছিল উল্টো। ২০০৬ সালে চরম মানসিক যন্ত্রণায় আমি আত্মহত্যা পর্যন্ত করতে চেয়েছিলাম। চিকিৎসকরা আমাকে একটি বিভ্রান্তির মধ্যে ঠেলে দিয়েছিল।"

তিনি আফসোস করে বলেন, "আমার সুস্থ দেহটা যদি শুধু একটা দিনের জন্য হলেও ফেরত পেতাম! কিন্তু আমি জানি, তা আর কখনোই সম্ভব নয়।"

ফিরে আসার কঠিন বাস্তবতা ও হুমকি

২০২৪ সালে নিজের ভুল উপলব্ধি করে ক্রিস পুনরায় পুরুষ পরিচয়ে ফিরে আসার (Detransition) সিদ্ধান্ত নেন এবং ২০২৬ সালের মে মাসে সরকারি কাগজে আনুষ্ঠানিকভাবে তার আগের নাম 'ক্রিস' ও পুরুষ লিঙ্গ পুনর্বহাল করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পশ্চিমা চিকিৎসা ব্যবস্থা লিঙ্গ পরিবর্তনে রূপান্তরকামীদের উৎসাহিত করলেও পরবর্তীতে ভুল বুঝতে পেরে আগের অবস্থায় ফিরে আসতে চাইলে কোনো সহায়তা করে না।

বর্তমানে শিশু-কিশোরদের অকাল হরমোন থেরাপি ও লিঙ্গ পরিবর্তনের ভয়াবহতা নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করছেন ক্রিস। এর ফলে ট্রান্স অ্যাক্টিভিস্ট ও উগ্রবাদীদের কাছ থেকে নিয়মিত মৃত্যুর হুমকি ও তীব্র ঘৃণা ছড়ানো বার্তার শিকার হচ্ছেন বলে তিনি জানান। শত হুমকির মুখেও তরুণ সমাজকে এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে রক্ষা করতে তিনি মুখ খুলে যাবেন বলে স্পষ্ট জানান।

বিষয় : সুইজারল্যান্ড ট্রান্সজেন্ডার

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


৩০ বছর ট্রান্স নারী থাকার পর অনুশোচনা: লিঙ্গ পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সরব সুইজারল্যান্ডের ক্রিস

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে পরিচিত সাবেক ট্রান্স নারী ক্রিস ব্রোনিম্যান (৫৬) প্রায় তিন দশক পর পুনরায় তার জন্মগত পুরুষ পরিচয়ে ফিরে এসেছেন। দীর্ঘ ১৬টি অস্ত্রোপচার, মানসিক অস্থিরতা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অপরিনামদর্শী সিদ্ধান্তের শিকার হয়ে তিনি এখন পশ্চিমা লিঙ্গ পরিবর্তন ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করছেন। সম্প্রতি আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেই তিনি জীবনের এই করুণ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেন।

যৌবনের ভুল সিদ্ধান্ত ও মিডিয়ার প্রচারণা

জার্মানিতে জন্ম নেওয়া ক্রিস ব্রোনিম্যান বাল্যকালে পারিবারিক ট্রমা ও অবহেলার শিকার হন। পরে সাত বছর বয়সে এক সুইস পরিবার তাকে দত্তক নিলেও তার ভেতরের মানসিক ক্ষত নিরাময় হয়নি। মাত্র ১৯ বছর বয়সে একজন ট্রান্স নারীর জীবনযাত্রা দেখে তিনি মনে করেছিলেন নারী হলে বুঝি সব দুঃখ মুছে যাবে। ১৯৯৮ সালে তিনি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রূপান্তরিত নারী 'নাদিয়া' পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করেন।

সুইস মিডিয়ার কল্যাণে রাতারাতি আলোচনায় আসেন ক্রিস। ২০০৪ সালে সুইস জাতীয় টেলিভিশন এসআরএফ (SRF) তাকে নিয়ে নির্মাণ করে একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র। পরবর্তীতে বই, সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে তাকে "সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বিখ্যাত ট্রান্স নারী" হিসেবে তুলে ধরা হয়। তবে ক্রিসের মতে, মিডিয়া তার জীবনের চকচকে বাহ্যিক দিকটি প্রচার করলেও ভেতরের গভীর মানসিক যন্ত্রণা ও জটিলতাকে সম্পূর্ণ আড়াল করেছিল।

১৬টি অস্ত্রোপচার ও স্বাস্থ্যগত জটিলতা

ক্রিস জানান, নারী রূপ বজায় রাখতে তাকে ১৬বার অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ক্ষতিকর হরমোন থেরাপির ফলে তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মক ভেঙে পড়ে। তিনি বলেন, "আমি ভাবতাম নারীতে রূপান্তরিত হলে মুক্তি পাব, কিন্তু বাস্তব ছিল উল্টো। ২০০৬ সালে চরম মানসিক যন্ত্রণায় আমি আত্মহত্যা পর্যন্ত করতে চেয়েছিলাম। চিকিৎসকরা আমাকে একটি বিভ্রান্তির মধ্যে ঠেলে দিয়েছিল।"

তিনি আফসোস করে বলেন, "আমার সুস্থ দেহটা যদি শুধু একটা দিনের জন্য হলেও ফেরত পেতাম! কিন্তু আমি জানি, তা আর কখনোই সম্ভব নয়।"

ফিরে আসার কঠিন বাস্তবতা ও হুমকি

২০২৪ সালে নিজের ভুল উপলব্ধি করে ক্রিস পুনরায় পুরুষ পরিচয়ে ফিরে আসার (Detransition) সিদ্ধান্ত নেন এবং ২০২৬ সালের মে মাসে সরকারি কাগজে আনুষ্ঠানিকভাবে তার আগের নাম 'ক্রিস' ও পুরুষ লিঙ্গ পুনর্বহাল করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পশ্চিমা চিকিৎসা ব্যবস্থা লিঙ্গ পরিবর্তনে রূপান্তরকামীদের উৎসাহিত করলেও পরবর্তীতে ভুল বুঝতে পেরে আগের অবস্থায় ফিরে আসতে চাইলে কোনো সহায়তা করে না।

বর্তমানে শিশু-কিশোরদের অকাল হরমোন থেরাপি ও লিঙ্গ পরিবর্তনের ভয়াবহতা নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করছেন ক্রিস। এর ফলে ট্রান্স অ্যাক্টিভিস্ট ও উগ্রবাদীদের কাছ থেকে নিয়মিত মৃত্যুর হুমকি ও তীব্র ঘৃণা ছড়ানো বার্তার শিকার হচ্ছেন বলে তিনি জানান। শত হুমকির মুখেও তরুণ সমাজকে এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে রক্ষা করতে তিনি মুখ খুলে যাবেন বলে স্পষ্ট জানান।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ