ভারতের বৃহত্তম রাজ্য উত্তরপ্রদেশে মুসলিম ধর্মীয় অনুশীলন এবং আযানের ওপর প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও নিপীড়নমূলক পদক্ষেপ দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে। রাজ্যটিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদী নীতি বাস্তবায়নের একের পর এক অভিযোগ উঠছে।
সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে রাজ্যের বিজনৌর জেলার মাকবুলিয়া (মাকবারা) এলাকায়। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিজনৌরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) উমেশ প্রতাপ সিং এবং পুলিশ সুপার (এসপি) কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই যৌথভাবে 'সমাধান দিবস' নামক একটি সরকারি গণশুনানি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তারা একটি স্থানীয় মসজিদ থেকে মাইকে মাইকে ভেসে আসা আযানের শব্দ শুনতে পান।
আযানের শব্দ শোনার সাথে সাথেই এসপি কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই স্থানীয় থানা পুলিশকে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন। পুলিশ দ্রুত মসজিদে অভিযান চালিয়ে আযান দেওয়ায় ব্যবহৃত মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম জব্দ করে এবং মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ ফায়জানকে হেফাজতে নেয়।
শব্দ পরিমাপ ছাড়াই এফআইআর ও কারাগারে প্রেরণ
পরবর্তীতে উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৌরভ কুমারের দায়ের করা এক অভিযোগের ভিত্তিতে ইমাম ফায়জানের বিরুদ্ধে মামলা (এফআইআর) নথিভুক্ত করা হয়। পুলিশের দাবি, মাইকের শব্দ নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছিল। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অভিযানে পুলিশ কর্তৃক কোনো বৈজ্ঞানিক শব্দ পরিমাপক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বা কোন স্তরের শব্দ ছিল তা নথিতে উল্লেখ করা হয়নি।
স্থানীয় থানা প্রধান জানান, শান্তি ভঙ্গের অভিযোগে ফায়জানকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরবর্তীতে তাকে সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ কনস্টেবল বরখাস্ত ও কঠোর হুঁশিয়ারি
ঘটনার পরপরই বিজনৌরের এসপি কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট বিট কনস্টেবল ললিত কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এসপি বিষ্ণোই এক বিবৃতিতে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ধর্মীয় উপাসনালয়ে নির্ধারিত সীমার বাইরে সাউন্ড সিস্টেম চালাতে দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা নিজ নিজ এলাকার বিট কনস্টেবলদের কাছ থেকে আইন মেনে চলার ব্যাপারে মুচলেকা গ্রহণ করেন। নিয়ম অমান্য করলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বিট কনস্টেবলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, ভারতের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে পরিকল্পিতভাবে আযান ও মসজিদের মাইক ব্যবহারকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে, যা মৌলিক মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সরাসরি লঙ্ঘন।
মতামত