অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনীর নিজস্ব ড্রোন বিস্ফোরণে দুই রিজার্ভ সৈন্যের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) আনুষ্ঠানিকভাবে সেনাসদস্যদের নিহতের বিষয়টি স্বীকার করে।
ঘটনাসূত্রে জানা যায়, গাজা উপত্যকায় অবস্থিত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একটি ঘাটিতে তাদের নিজস্ব একটি সামরিক ড্রোন আছড়ে পড়ে। প্রাথমিক আঘাতে ড্রোনটি বিস্ফোরিত হয়নি। পরবর্তীতে সেনা ঘাটিতে কর্মরত সদস্যরা ড্রোনটিকে দেখতে পেয়ে সেটির কাছাকাছি যান এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই মুহূর্তে কোনো পূর্বসতর্কতা ছাড়াই ড্রোনটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুই ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনা।
আন্তর্জাতিক ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "ড্রোনটি একটি সামরিক ঘাটিতে আছড়ে পড়েছিল ঠিকই, কিন্তু সাথে সাথেই তা বিস্ফোরিত হয়নি। আমাদের সেনারা ড্রোনটিকে পরীক্ষা করার জন্য সেটির দিকে এগিয়ে যায়, আর ঠিক তখনই মুহূর্তের মধ্যে সেটি বিস্ফোরিত হয়।"
বিশ্লেষকদের মতে, অবরুদ্ধ গাজায় বেসামরিক অগণিত নিরাপরাধ মানুষের ওপর ধারাবাহিক হামলায় লিপ্ত ইসরায়েলি বাহিনী এখন অভ্যন্তরীণ কারিগরি বিশৃঙ্খলা ও চরম মানসিক চাপে ভুগছে। নিজেদের ড্রোন শনাক্ত করা বা সেটির বিপজ্জনক অবস্থা বুঝে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার মতো মৌলিক সামরিক প্রটোকল বজায় রাখতেও ব্যর্থ হচ্ছে দখলদার বাহিনী। ফিলিস্তিনের মাটিতে একের পর এক ধ্বংসাত্মক অভিযান চালাতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর এই ধরনের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থা এবং কারিগরি ব্যর্থতা বাহিনীর ভেতরে বাড়তে থাকা বিশৃঙ্খলাকেই নির্দেশ করে।
মতামত