সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরী, সাধারণ বেসামরিক নাগরিক এবং দেশের কৌশলগত অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে সম্প্রতি চালানো অব্যাহত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখতে যৌথ সামরিক প্রচেষ্টা জোরদারের পুনর্ব্যক্ত ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব ও পাকিস্তান। রিয়াদে পাকিস্তানের সামরিক প্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ অসীম মুনিরের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ঐতিহাসিক 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' (MJDA)-র আওতায় যৌথ নিরাপত্তা কৌশল বাস্তবায়নে দুই দেশ একযোগে কাজ করবে বলে বৈঠকে সম্মত হওয়া হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রার উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব এবং মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে পবিত্র স্থান মক্কা মোকাররমার নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ জোরদার করেছে আঞ্চলিক মুসলিম শক্তিগুলো।
গত মাসে স্বাক্ষর হওয়া ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তি—'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' (MJDA)-র অধীনে সম্প্রতি রিয়াদে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের চিফ অব স্টাফদের জরুরি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, "মক্কা চুক্তির বিধান অনুযায়ী যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে এসব আগ্রাসন ও হামলা রুখতে আমরা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।"
উচ্চপর্যায়ের এ প্রতিরক্ষা বৈঠকে সৌদি আরবের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্যাবিনেট সদস্য ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. মুসাদ বিন মোহাম্মদ আল-আইবান, সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল ফায়াদ বিন হামেদ আল-রুয়াইলি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর গোয়েন্দা বিষয়ক উপদেষ্টা হিশাম বিন আব্দুল আজিজ বিন সাইফ।
ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা
চলতি বছরের আগস্ট মাসে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে এক যুগান্তকারী "কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি" (SMDA) স্বাক্ষরিত হয়।
মক্কায় হামলার চেষ্টা ও মুসলিম উম্মাহর প্রতিক্রিয়া
ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর মাধ্যমে সৌদি আরবের সীমান্ত অতিক্রম করে সাম্প্রতিক সময়ে চালানো ড্রোন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে তীব্র করে তুলেছে। সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে পবিত্র মক্কা নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই একটি হুতি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করে সৌদি সামরিক বাহিনী।
ঐ ঘটনার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ জোট স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, পবিত্র হারামাইন শরিফাইন (দুই পবিত্র মসজিদ) এবং বিশ্বজুড়ে আগত হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি "লাল রেখা" (Red Line)। এতে আঘাতের যেকোনো চেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
এর আগে আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরের ওপর চালানো দফায় দফায় হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন। শুধু তা-ই নয়, সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়, যার ফলে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে জরুরি ভিত্তিতে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়। গত জুলাইয়েও আন্তর্জাতিক নৌসীমায় সৌদি তেল ট্যাঙ্কারে হামলার দাবি করেছিল হুতিরা।
মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক সামরিক শক্তি পাকিস্তান ও গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক দেশ তুরস্কের সাথে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা জোট গঠনকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মুসলিম দেশগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তা স্বাবলম্বিতার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। পবিত্র মক্কার নিরাপত্তা রক্ষায় পুরো মুসলিম উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কথাই বারবার তুলে ধরছে রিয়াদ ও ইসলামাবাদ।
মতামত