বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

কিয়াউকতাও টাউনশিপের জনবহুল বাজার ও সেতু লক্ষ্য করে জান্তা বাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে বোমা বর্ষণ; নিহতদের মধ্যে অধিকাংশ সাধারণ পথচারী ও ক্রেতা-শ্রমিক।

রাখাইনে মিয়ানমার জান্তার ভয়াবহ বিমান হামলা: অন্তত ৫০ জন নিহত, আহত ৫৮


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাখাইনে মিয়ানমার জান্তার ভয়াবহ বিমান হামলা: অন্তত ৫০ জন নিহত, আহত ৫৮

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও টাউনশিপে জান্তা বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার সংঘটিত এই হামলায় আরও ৫৮ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক মারাত্মকভাবে আহত হন। জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং চলতি বছরের এপ্রিলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ওই অঞ্চলে পরিচালিত সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি।

মিয়ানমারের নির্যাতিত ও অস্থির রাখাইন রাজ্যে আবার নির্মম রক্তপাত চালিয়েছে দেশটির জান্তা সামরিক বাহিনী। গত সোমবার উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও টাউনশিপে জান্তা বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান থেকে ভয়াবহ বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্তত ৫০ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম 'দ্য ইরাবতী' মঙ্গলবার এক বিশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে যে, বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কিয়াউকতাও টাউনশিপের দুটি প্রধান স্থান লক্ষ্য করে এই হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। প্রথমত, কালাদান (কিসাপানাদী) নদীর ওপর নির্মিত কৌশলগত সেতু এবং দ্বিতীয়ত, সংলগ্ন একটি জনবহুল বাজার—যা স্থানীয়ভাবে 'ইন্ডিয়ান মার্কেট' নামে পরিচিত। হামলার সময় সেখানে শত শত সাধারণ মানুষ, ক্রেতা, পথচারী ও দিনমজুর দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আচমকা যুদ্ধবিমান থেকে ছোঁড়া বোমায় মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং চারদিকে লাশের স্তূপ জমে ওঠে।

উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী শহর কিয়াউকতাওয়ে পরিচালিত এই হামলাটিকে চলতি বছরে মিয়ানমারে সংঘটিত বৃহত্তম বেসামরিক গণহত্যার একটি হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু চির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে। চলতি বছরের এপ্রিলে সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করার পর বিদ্রোহী অধ্যুষিত বেসামরিক এলাকাগুলোতে বিমান হামলা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অংশে একাধিক জাতিগত সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠী জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

রাখাইন রাজ্য মূলত রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক জন্মভূমি। এই ভূখণ্ডের প্রধান অধিবাসী রোহিঙ্গা ও সাধারণ মুসলিমরা দীর্ঘ সময় ধরে মিয়ানমার সামরিক জান্তা এবং চরমপন্থী অন্যান্য সশস্ত্র গ্রুপের ধারাবাহিক দমন-পীড়ন, গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে আসছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বসবাস করে আসা এ সংখ্যালঘু মুসলিমদের লাখ লাখ মানুষকে ঘরবাড়ি থেকে উৎখাত করে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য করেছে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির শাসকগোষ্ঠী। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জান্তা বাহিনীর এই নির্বিচার বিমান হামলা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন, যা রাখাইনে চলমান মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।

বিষয় : মিয়ানমার রাখাইন

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রাখাইনে মিয়ানমার জান্তার ভয়াবহ বিমান হামলা: অন্তত ৫০ জন নিহত, আহত ৫৮

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও টাউনশিপে জান্তা বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার সংঘটিত এই হামলায় আরও ৫৮ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক মারাত্মকভাবে আহত হন। জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং চলতি বছরের এপ্রিলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ওই অঞ্চলে পরিচালিত সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি।

মিয়ানমারের নির্যাতিত ও অস্থির রাখাইন রাজ্যে আবার নির্মম রক্তপাত চালিয়েছে দেশটির জান্তা সামরিক বাহিনী। গত সোমবার উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও টাউনশিপে জান্তা বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান থেকে ভয়াবহ বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্তত ৫০ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম 'দ্য ইরাবতী' মঙ্গলবার এক বিশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে যে, বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কিয়াউকতাও টাউনশিপের দুটি প্রধান স্থান লক্ষ্য করে এই হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। প্রথমত, কালাদান (কিসাপানাদী) নদীর ওপর নির্মিত কৌশলগত সেতু এবং দ্বিতীয়ত, সংলগ্ন একটি জনবহুল বাজার—যা স্থানীয়ভাবে 'ইন্ডিয়ান মার্কেট' নামে পরিচিত। হামলার সময় সেখানে শত শত সাধারণ মানুষ, ক্রেতা, পথচারী ও দিনমজুর দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আচমকা যুদ্ধবিমান থেকে ছোঁড়া বোমায় মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং চারদিকে লাশের স্তূপ জমে ওঠে।

উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী শহর কিয়াউকতাওয়ে পরিচালিত এই হামলাটিকে চলতি বছরে মিয়ানমারে সংঘটিত বৃহত্তম বেসামরিক গণহত্যার একটি হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু চির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে। চলতি বছরের এপ্রিলে সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করার পর বিদ্রোহী অধ্যুষিত বেসামরিক এলাকাগুলোতে বিমান হামলা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অংশে একাধিক জাতিগত সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠী জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

রাখাইন রাজ্য মূলত রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক জন্মভূমি। এই ভূখণ্ডের প্রধান অধিবাসী রোহিঙ্গা ও সাধারণ মুসলিমরা দীর্ঘ সময় ধরে মিয়ানমার সামরিক জান্তা এবং চরমপন্থী অন্যান্য সশস্ত্র গ্রুপের ধারাবাহিক দমন-পীড়ন, গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে আসছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বসবাস করে আসা এ সংখ্যালঘু মুসলিমদের লাখ লাখ মানুষকে ঘরবাড়ি থেকে উৎখাত করে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য করেছে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির শাসকগোষ্ঠী। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জান্তা বাহিনীর এই নির্বিচার বিমান হামলা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন, যা রাখাইনে চলমান মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ