সুদানে চলমান যুদ্ধ ও চরম দুর্ভিক্ষের মুখে জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এক জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে যে চলতি বছরের আগস্ট মাসে তারা ৪১ লাখ মানুষকে জরুরি খাদ্য সাহায্য পৌঁছে দিয়েছে, যার মধ্যে চরম খাদ্যাভাব ও দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে থাকা ১০ লাখ মানুষ অন্তর্ভুক্ত। তবে তহবিলের চরম ঘাটতির কারণে আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যেই খাদ্য মজুদ এবং অর্থ সহায়তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সুদানে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও গৃহযুদ্ধের কারণে দেশটির গৃহহীন ও যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি। এ অবস্থায় জাতিসংঘ খাদ্য সংস্থা (WFP) খাদ্য বিতরণে একটি নতুন নিরাপত্তামূলক নীতি গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে, যেখানে ক্ষুধার কারণে তৈরি হওয়া জীবনঘাতী ঝুঁকিগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব খাদ্য সংস্থা তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বর্তমান সীমিত সম্পদ দিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগামী অক্টোবর মাসের শেষের মধ্যেই সুদানে খাদ্য সরবরাহ এবং নগদ সহায়তা কার্যক্রম সম্পূর্ণ অর্থশূন্য হয়ে যাওয়ার চরম সম্ভাবনা রয়েছে। সংঘাতের কারণে অগণিত মুসলিম পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়ে খোলা আকাশের নিচে ও শরণার্থী শিবিরে অনাহারে দিনাতিপাত করছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগামী ৬ মাসের জন্য খাদ্য সহায়তার বর্তমান স্তর বজায় রাখতে, খাদ্য বরাদ্দ হ্রাস বা উপকারভোগীর সংখ্যা না কমিয়ে ত্রাণ বিতরণ চলমান রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ৪৩১ মিলিয়ন (৪৩ কোটি ১০ লাখ) মার্কিন ডলার প্রয়োজন। সংস্থাটি জানায়, আগস্ট ২০২৬-এ সুদানের ১.৬ মিলিয়ন (১৬ লাখ) মানুষকে সরাসরি নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ। পাশাপাশি সংস্থাটির স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের মাধ্যমে ২১৮,০০০ জন শিক্ষার্থী জরুরি পুষ্টি সহায়তা গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে।
মুসলিম বিশ্বের প্রাণকেন্দ্রের এই চরম মানবিক সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও ইসলামী ত্রাণ সংস্থাগুলোর প্রতি দ্রুত সুদানের নিরন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জরুরি আহ্বান জানানো হচ্ছে।
মতামত