শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

বঙ্গভবনে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) প্রতিনিধিদলের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে পেশাদারিত্ব, গণমাধ্যমের গুণগত মান রক্ষা এবং দলীয় স্বার্থ পরিহারের ওপর জোর দিলেন রাষ্ট্রপতি।

গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও দেশ গঠনে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও দেশ গঠনে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

টেলিভিশন সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব ও জনআস্থা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গভবনে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি)-এর একটি প্রতিনিধিদল তাঁর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। সাক্ষাৎকালে তিনি গণতান্ত্রিক উত্তরণে গণমাধ্যমের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং দেশের সার্বিক স্বার্থে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

টেলিভিশন সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব, সততা ও জনআস্থা বজায় রেখে স্ব স্ব দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গভবনে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি)-এর একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আহ্বান ব্যক্ত করেন। বৈঠকের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম।

সাক্ষাৎকালে দেশের সম্প্রচার সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের বর্তমান পরিস্থিতি, সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং দেশগঠন ও জনস্বার্থ রক্ষায় গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি যার যার অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের দুঃসময়ে সাংবাদিকদের পাশে থাকার স্মৃতি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আপমাদের সাহচর্য, সমর্থন ও ভালোবাসা আমি পেয়েছি। সাবেক ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর নেমে আসা জুলুম-নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, আমি সবসময় আপনাদের পাশে ছিলাম এবং এখনো আছি।

দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে আলোকপাত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে সুস্থ গণতন্ত্রচর্চা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা গেলে আমরাও বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো এগিয়ে যেতে পারতাম। দীর্ঘ সংগ্রাম ও বিপুল রক্তপাতের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে ক্ষুদ্র রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থ পরিহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

টেলিভিশন শিল্পের প্রসার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, কেবল টেলিভিশনের সংখ্যা বাড়ালেই চলবে না, বরং এর গুণগত মান বজায় রাখাও জরুরি। তিনি দ্রুত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করে মিডিয়া খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদেরকে দীর্ঘমেয়াদি ও দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সমস্যাগুলো দেখার ও সমাধানের তাগিদ দেন। ডিজিটালাইজেশন এবং আর্থিক স্বনির্ভরতার মাধ্যমে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যেন টেকসই ভিত্তি পায়, সে ব্যাপারে সম্মিলিতভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে বিজেসি নেতৃবৃন্দ জানান, সংগঠনটি মূলত একটি ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠানের মতো কাজ করে এবং সম্প্রচার সাংবাদিকদের কল্যাণে নিবেদিত। এটি সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান করে এবং স্বাস্থ্য সহায়তা ও বীমাসহ বিভিন্ন ওয়েলফেয়ার সুবিধা দিয়ে থাকে। রাষ্ট্রপতি তাঁদের এই কল্যাণমূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি বিজেসিকে নিজেদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন কর্মসূচি গ্রহণেরও পরামর্শ দেন।

সাক্ষাৎকালে বিজেসি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফাহিম আহমেদ, ইলিয়াস হোসেন, তালাত মামুন, মাহমুদ হাসান, শরিফুল ইসলাম খান, শাহ আজিজুর রহমান কিরণ, জামানুল ফেরদৌস মানু, বেলায়েত হোসেন, নায়লা পারভীন পিয়া এবং সাইফুল শাকিল। এছাড়াও রাষ্ট্রপতির সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিষয় : রাষ্ট্রপতি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও দেশ গঠনে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

টেলিভিশন সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব ও জনআস্থা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গভবনে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি)-এর একটি প্রতিনিধিদল তাঁর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। সাক্ষাৎকালে তিনি গণতান্ত্রিক উত্তরণে গণমাধ্যমের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং দেশের সার্বিক স্বার্থে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

টেলিভিশন সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব, সততা ও জনআস্থা বজায় রেখে স্ব স্ব দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গভবনে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি)-এর একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আহ্বান ব্যক্ত করেন। বৈঠকের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম।

সাক্ষাৎকালে দেশের সম্প্রচার সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের বর্তমান পরিস্থিতি, সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং দেশগঠন ও জনস্বার্থ রক্ষায় গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি যার যার অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের দুঃসময়ে সাংবাদিকদের পাশে থাকার স্মৃতি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আপমাদের সাহচর্য, সমর্থন ও ভালোবাসা আমি পেয়েছি। সাবেক ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর নেমে আসা জুলুম-নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, আমি সবসময় আপনাদের পাশে ছিলাম এবং এখনো আছি।

দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে আলোকপাত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে সুস্থ গণতন্ত্রচর্চা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা গেলে আমরাও বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো এগিয়ে যেতে পারতাম। দীর্ঘ সংগ্রাম ও বিপুল রক্তপাতের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে ক্ষুদ্র রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থ পরিহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

টেলিভিশন শিল্পের প্রসার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, কেবল টেলিভিশনের সংখ্যা বাড়ালেই চলবে না, বরং এর গুণগত মান বজায় রাখাও জরুরি। তিনি দ্রুত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করে মিডিয়া খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদেরকে দীর্ঘমেয়াদি ও দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সমস্যাগুলো দেখার ও সমাধানের তাগিদ দেন। ডিজিটালাইজেশন এবং আর্থিক স্বনির্ভরতার মাধ্যমে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যেন টেকসই ভিত্তি পায়, সে ব্যাপারে সম্মিলিতভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে বিজেসি নেতৃবৃন্দ জানান, সংগঠনটি মূলত একটি ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠানের মতো কাজ করে এবং সম্প্রচার সাংবাদিকদের কল্যাণে নিবেদিত। এটি সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান করে এবং স্বাস্থ্য সহায়তা ও বীমাসহ বিভিন্ন ওয়েলফেয়ার সুবিধা দিয়ে থাকে। রাষ্ট্রপতি তাঁদের এই কল্যাণমূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি বিজেসিকে নিজেদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন কর্মসূচি গ্রহণেরও পরামর্শ দেন।

সাক্ষাৎকালে বিজেসি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফাহিম আহমেদ, ইলিয়াস হোসেন, তালাত মামুন, মাহমুদ হাসান, শরিফুল ইসলাম খান, শাহ আজিজুর রহমান কিরণ, জামানুল ফেরদৌস মানু, বেলায়েত হোসেন, নায়লা পারভীন পিয়া এবং সাইফুল শাকিল। এছাড়াও রাষ্ট্রপতির সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ