শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

গার্ডিয়ান ও আরব নিউজের অনুসন্ধানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মুসলিম নারীদের ধর্মীয় পোশাক বিকৃতির ভয়াবহ চিত্র উন্মোচিত; প্রযুক্তি খাতে বিশ্বজুড়ে বৃদ্ধি পাওয়া ইসলামবিদ্বেষ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ।

এআই চ্যাটবটের ইসলামফোবিয়া: হিজাব খোলার নির্দেশ মানছে চ্যাটজিপিটি ও গ্রোক


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

এআই চ্যাটবটের ইসলামফোবিয়া: হিজাব খোলার নির্দেশ মানছে চ্যাটজিপিটি ও গ্রোক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে মুসলিম নারীদের ধর্মীয় পোশাক ও হিজাব বিকৃত করার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে। ব্রিটিশ দৈনিক 'দ্য গার্ডিয়ান' ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'আরব নিউজ'-এর নিজস্ব অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় দেখা গেছে, ব্যবহারকারীদের নির্দেশে একাধিক শীর্ষস্থানীয় এআই চ্যাটবট হিজাব পরা মুসলিম নারীর ছবি থেকে হিজাব সরিয়ে দিচ্ছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) এবং এক্সএআই-এর গ্রোক (Grok) সরাসরি এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছে, যা প্রযুক্তি জগতে দিন দিন বেড়ে চলা ইসলামবিদ্বেষ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এনেছে।

আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কীভাবে মুসলিমবিরোধী বিদ্বেষ ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, গার্ডিয়ান ও আরব নিউজের এক যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জনপ্রিয় এআই চ্যাটবটগুলোতে কোনো মুসলিম নারীর ছবি দিয়ে তাঁর হিজাব সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলে চ্যাটবটগুলো বিনা দ্বিধায় তা মেনে নিচ্ছে।

গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে চ্যাটজিপিটি (ChatGPT), গ্রোক (Grok), জেমিনি (Gemini) এবং ক্লড (Claude) — এই চারটি শীর্ষস্থানীয় চ্যাটবট পরীক্ষা করা হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি এবং ইলন মাস্কের এক্সএআই-এর 'গ্রোক' ব্যবহারকারীর নির্দেশে এআই-দ্বারা তৈরি মুসলিম নারীর ছবি থেকে হিজাব সরিয়ে নেয়।

প্রথমদিকে গুগলের 'জেমিনি' এই ধরনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া জামাকাপড় বা মাথার পোশাক টানা ঠিক নয়। তবে কৌশল বদলে যখন একই নারীকে 'আরও পশ্চিমা ধাঁচের' (Western) রূপ দিতে বলা হয়, তখন জেমিনি হিজাববিহীন ছবি তৈরি করে দেয়। অন্যদিকে, অ্যান্থ্রোপিকের 'ক্লড' সরাসরি জানায় যে তাদের ছবি সম্পাদনার সুবিধা নেই, তবে তারা কখনো ধর্মীয় পোশাক সরানোর মতো কাজ করবে না।

আরব নিউজ পরবর্তীতে নিজস্ব উদ্যোগে একই পরীক্ষা চালিয়ে চ্যাটজিপিটি, গ্রোক এবং জেমিনির এই নীতিবিঘ্নিত আচরণ নিশ্চিত করে। ক্লড আরব নিউজকেও জানায়, 'সম্মতি ছাড়া কারও পোশাক পরিবর্তন করা নীতিগত সীমা লঙ্ঘন, উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন।'

সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক বিদ্বেষ ও উগ্র ডানপন্থীদের অপব্যবহার

এআই প্রযুক্তির এই অপব্যবহার কেবল ডিজিটাল পরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বাস্তবে মুসলিম নারীদের হেয় করার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। ফ্রান্সে উগ্র ডানপন্থী দল 'ন্যাশনাল র‍্যালি'-এর আইনপ্রণেতা জুলিয়েন ওডুল এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক মুসলিম নারীর ছবি থেকে হিজাব ও দীর্ঘ পোশাক ডিজিটাল প্রযুক্তিতে মুছে ফেলে পোস্ট করেন। তিনি ক্যাপশনে লেখেন 'ফরাসি স্বাধীনতা' (Liberte Francaise)। গার্ডিয়ান এই ঘটনাকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর সরাসরি আঘাত এবং প্রযুক্তিভিত্তিক ইসলামবিদ্বেষের চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদ ও বিশ্বজুড়ে এআই-ভিত্তিক ঘৃণা

ওয়াশিংটনভিত্তিক 'সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট' (CSOH)-এর গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মুসলিম নারীদের যৌন হয়রানি এবং সামাজিকভাবে হেয় করার চক্রান্তে মেতে উঠেছে।

CSOH-এর প্রকল্প 'ইন্ডিয়া হেট ল্যাব'-এর তথ্যমতে, ২০২৪ সালে ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে ১,১৬৫টি ঘৃণামূলক বক্তব্য ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৭৪.৪ শতাংশ বেশি। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব বিদ্বেষমূলক ঘটনার ৯৮.৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই এককভাবে বা অন্যান্য সংখ্যালঘুদের সাথে মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

শুধু ভারতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রেও ইলহান ওমর ও রাশিদা তাইবের মতো প্রভাবশালী মুসলিম নারী রাজনীতিবিদদের লক্ষ্য করে এআই-ভিত্তিক এই চরিত্রহনন ও প্রযুক্তিগত সহিংসতা চালানো হচ্ছে। CSOH-এর গবেষণা ও আউটরিচ পরিচালক এভিয়ান লেইডিগ বলেন, 'মুসলিম সম্প্রদায়, বিশেষ করে মুসলিম নারীদের কীভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো ও নিগৃহীত করা হচ্ছে, এটি সেই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ারই অংশ।'

এআই নীতিমালার বৈষম্য ও দ্বিমুখী নীতি

অনুসন্ধানের সময় গার্ডিয়ান চ্যাটজিপিটি ও গ্রোক-কে একটি সাধারণ এআই-জেনারেটেড ছবি থেকে নারী চরিত্রের সাধারণ পোশাক সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলে উভয় চ্যাটবটই তা প্রত্যাখান করে। এটি এআই প্ল্যাটফর্মগুলোর নীতিমালার স্পষ্ট দ্বিমুখী আচরণ তুলে ধরে।

গ্রোক হিজাব সরানোকে চুলের স্টাইল বা সাধারণ পোশাক পরিবর্তনের মতো একটি পরিবর্তন হিসেবে ব্যাখ্যা করে। অন্যদিকে চ্যাটজিপিটি প্রথমে আপত্তি না করলেও পরে স্বীকার করে যে, অনুমতি ছাড়া হিজাব সরানো কোনো নারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, মর্যাদা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন।

এভিয়ান লেইডিগ এ প্রসঙ্গে বলেন, 'মুসলিম নারীর হিজাব খুলে ফেলা হয়তো প্ল্যাটফর্মের প্রচলিত বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না, কিন্তু এটি মারাত্মক ক্ষতিকর ও অপমানজনক।'

মানবাধিকার ও মুসলিম অধিকার রক্ষাকারী সংস্থাগুলো অনতিবিলম্বে এআই ডেভলপারদের তাদের অ্যালগরিদম সংশোধন এবং মুসলিম বিরোধী ও বর্ণবাদী বৈষম্য রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

বিষয় : ভারত ইসলামফোবিয়া এআই চ্যাটজিপিটি গ্রোক

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


এআই চ্যাটবটের ইসলামফোবিয়া: হিজাব খোলার নির্দেশ মানছে চ্যাটজিপিটি ও গ্রোক

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে মুসলিম নারীদের ধর্মীয় পোশাক ও হিজাব বিকৃত করার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে। ব্রিটিশ দৈনিক 'দ্য গার্ডিয়ান' ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'আরব নিউজ'-এর নিজস্ব অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় দেখা গেছে, ব্যবহারকারীদের নির্দেশে একাধিক শীর্ষস্থানীয় এআই চ্যাটবট হিজাব পরা মুসলিম নারীর ছবি থেকে হিজাব সরিয়ে দিচ্ছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) এবং এক্সএআই-এর গ্রোক (Grok) সরাসরি এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছে, যা প্রযুক্তি জগতে দিন দিন বেড়ে চলা ইসলামবিদ্বেষ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এনেছে।

আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কীভাবে মুসলিমবিরোধী বিদ্বেষ ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, গার্ডিয়ান ও আরব নিউজের এক যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জনপ্রিয় এআই চ্যাটবটগুলোতে কোনো মুসলিম নারীর ছবি দিয়ে তাঁর হিজাব সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলে চ্যাটবটগুলো বিনা দ্বিধায় তা মেনে নিচ্ছে।

গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে চ্যাটজিপিটি (ChatGPT), গ্রোক (Grok), জেমিনি (Gemini) এবং ক্লড (Claude) — এই চারটি শীর্ষস্থানীয় চ্যাটবট পরীক্ষা করা হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি এবং ইলন মাস্কের এক্সএআই-এর 'গ্রোক' ব্যবহারকারীর নির্দেশে এআই-দ্বারা তৈরি মুসলিম নারীর ছবি থেকে হিজাব সরিয়ে নেয়।

প্রথমদিকে গুগলের 'জেমিনি' এই ধরনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া জামাকাপড় বা মাথার পোশাক টানা ঠিক নয়। তবে কৌশল বদলে যখন একই নারীকে 'আরও পশ্চিমা ধাঁচের' (Western) রূপ দিতে বলা হয়, তখন জেমিনি হিজাববিহীন ছবি তৈরি করে দেয়। অন্যদিকে, অ্যান্থ্রোপিকের 'ক্লড' সরাসরি জানায় যে তাদের ছবি সম্পাদনার সুবিধা নেই, তবে তারা কখনো ধর্মীয় পোশাক সরানোর মতো কাজ করবে না।

আরব নিউজ পরবর্তীতে নিজস্ব উদ্যোগে একই পরীক্ষা চালিয়ে চ্যাটজিপিটি, গ্রোক এবং জেমিনির এই নীতিবিঘ্নিত আচরণ নিশ্চিত করে। ক্লড আরব নিউজকেও জানায়, 'সম্মতি ছাড়া কারও পোশাক পরিবর্তন করা নীতিগত সীমা লঙ্ঘন, উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন।'

সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক বিদ্বেষ ও উগ্র ডানপন্থীদের অপব্যবহার

এআই প্রযুক্তির এই অপব্যবহার কেবল ডিজিটাল পরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বাস্তবে মুসলিম নারীদের হেয় করার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। ফ্রান্সে উগ্র ডানপন্থী দল 'ন্যাশনাল র‍্যালি'-এর আইনপ্রণেতা জুলিয়েন ওডুল এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক মুসলিম নারীর ছবি থেকে হিজাব ও দীর্ঘ পোশাক ডিজিটাল প্রযুক্তিতে মুছে ফেলে পোস্ট করেন। তিনি ক্যাপশনে লেখেন 'ফরাসি স্বাধীনতা' (Liberte Francaise)। গার্ডিয়ান এই ঘটনাকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর সরাসরি আঘাত এবং প্রযুক্তিভিত্তিক ইসলামবিদ্বেষের চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদ ও বিশ্বজুড়ে এআই-ভিত্তিক ঘৃণা

ওয়াশিংটনভিত্তিক 'সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট' (CSOH)-এর গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মুসলিম নারীদের যৌন হয়রানি এবং সামাজিকভাবে হেয় করার চক্রান্তে মেতে উঠেছে।

CSOH-এর প্রকল্প 'ইন্ডিয়া হেট ল্যাব'-এর তথ্যমতে, ২০২৪ সালে ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে ১,১৬৫টি ঘৃণামূলক বক্তব্য ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৭৪.৪ শতাংশ বেশি। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব বিদ্বেষমূলক ঘটনার ৯৮.৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই এককভাবে বা অন্যান্য সংখ্যালঘুদের সাথে মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

শুধু ভারতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রেও ইলহান ওমর ও রাশিদা তাইবের মতো প্রভাবশালী মুসলিম নারী রাজনীতিবিদদের লক্ষ্য করে এআই-ভিত্তিক এই চরিত্রহনন ও প্রযুক্তিগত সহিংসতা চালানো হচ্ছে। CSOH-এর গবেষণা ও আউটরিচ পরিচালক এভিয়ান লেইডিগ বলেন, 'মুসলিম সম্প্রদায়, বিশেষ করে মুসলিম নারীদের কীভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো ও নিগৃহীত করা হচ্ছে, এটি সেই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ারই অংশ।'

এআই নীতিমালার বৈষম্য ও দ্বিমুখী নীতি

অনুসন্ধানের সময় গার্ডিয়ান চ্যাটজিপিটি ও গ্রোক-কে একটি সাধারণ এআই-জেনারেটেড ছবি থেকে নারী চরিত্রের সাধারণ পোশাক সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলে উভয় চ্যাটবটই তা প্রত্যাখান করে। এটি এআই প্ল্যাটফর্মগুলোর নীতিমালার স্পষ্ট দ্বিমুখী আচরণ তুলে ধরে।

গ্রোক হিজাব সরানোকে চুলের স্টাইল বা সাধারণ পোশাক পরিবর্তনের মতো একটি পরিবর্তন হিসেবে ব্যাখ্যা করে। অন্যদিকে চ্যাটজিপিটি প্রথমে আপত্তি না করলেও পরে স্বীকার করে যে, অনুমতি ছাড়া হিজাব সরানো কোনো নারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, মর্যাদা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন।

এভিয়ান লেইডিগ এ প্রসঙ্গে বলেন, 'মুসলিম নারীর হিজাব খুলে ফেলা হয়তো প্ল্যাটফর্মের প্রচলিত বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না, কিন্তু এটি মারাত্মক ক্ষতিকর ও অপমানজনক।'

মানবাধিকার ও মুসলিম অধিকার রক্ষাকারী সংস্থাগুলো অনতিবিলম্বে এআই ডেভলপারদের তাদের অ্যালগরিদম সংশোধন এবং মুসলিম বিরোধী ও বর্ণবাদী বৈষম্য রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ