তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে যে, দেশের ১৬টি প্রদেশে পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএস-এর সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৫১ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তুর্কি জেন্ডারমারি ফোর্সের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই নিষিদ্ধ সংগঠনটিতে সদস্যপদ গ্রহণ, তথাকথিত দাতব্য সংস্থার নামে অর্থ জোগান এবং অনলাইনে নিষিদ্ধ প্রচার-প্রচারণা চালানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
তুরস্কের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার অংশ হিসেবে উগ্রপন্থী গোষ্ঠী আইএস (আইএসআইএল)-এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জোরদার করেছে আঙ্কারা। শনিবার (৩ অক্টোবর) তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানানো হয়, দেশটির প্রদেশ পর্যায়ের জেন্ডারমারি কমান্ডগুলোর সমন্বয়ে ১৬টি আলাদা অঞ্চলে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
নিরাপত্তা বাহিনীর এই সমন্বিত অভিযানে যেসব প্রদেশ কাভার করা হয়েছে সেগুলো হলো—আদানা, আদিয়ামান, বালিকেসির, বুরসা, দিয়ারবাকির, দুজসে, এদির্নে, গাজিয়ানতেপ, ইগদির, কায়সেরি, মার্দিন, মেরসিন, নেভশেহির, সিনোপ, শানলিউর্ফা এবং জংগুলদাক।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আটককৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে তুর্কি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে মূল তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে:
- আইএস সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রত্যক্ষ সদস্য হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করা।
- সংগঠনটির সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও তথাকথিত 'ত্রাণ ও সহায়তা সংস্থার' ছদ্মবেশে অনৈতিকভাবে অর্থ সংগ্রহ এবং সংগৃহীত অর্থ উগ্রপন্থীদের অ্যাকাউন্টে পাঠায় বা আর্থিক জোগান নিশ্চিত করা।
- বিভিন্ন ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে চরমপন্থী উগ্র ভাবধারা ও নিষিদ্ধ প্রচার-প্রচারণা চালানো।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের কবল থেকে মুসলিম বিশ্বের সুনাম রক্ষা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় তুরস্ক সরকারের এই পদক্ষেপে স্থানীয় পর্যায়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত নথিপত্র বিশ্লেষণ করে মূল অর্থদাতাদের খুঁজে বের করতে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।
মতামত