মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

চরমপন্থীদের উগ্র ইসলামবিরোধী এজেন্ডা এখন ইউরোপের মূলধারার মধ্যপন্থী দলগুলোর নীতিতে পরিণত হয়েছে; কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐক্য ও সংগঠিত চাপই পাল্টে দিতে পারে এই বাস্তবতা।

ইউরোপের রাজনীতিতে ইসলামোফোবিয়া: এক দশকে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে মুসলিমবিদ্বেষ


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

ইউরোপের রাজনীতিতে ইসলামোফোবিয়া: এক দশকে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে মুসলিমবিদ্বেষ

গত এক দশকে ইউরোপজুড়ে ইসলামোফোবিয়া বা মুসলিমবিদ্বেষ কেবল বৃদ্ধিই পায়নি, বরং এটি এখন সেখানকার মূলধারার রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থায়ী আসন গেড়ে বসেছে। অতি-ডানপন্থীদের উগ্র ইসলামবিরোধী রাজনৈতিক এজেন্ডা আজ ইউরোপের মধ্য-ডান ও মধ্য-বামপন্থী দলগুলোও প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে আপন করে নিয়েছে। আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট গবেষক ও 'ইউরোপিয়ান ইসলামোফোবিয়া রিপোর্ট'-এর সহ-সম্পাদক ড. ফরিদ হাফেজ।

ইউরোপীয় সমাজে বর্ণবাদ ও সংঘাতের মাত্রা পরিমাপ করতে গিয়ে আয়ারল্যান্ডের লিমেরিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের 'দ্য ব্রিজ ইনিশিয়েটিভ'-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. ফরিদ হাফেজ জানান, ২০১৫ সালে যখন তারা প্রথমবার ইউরোপীয় ইসলামোফোবিয়া রিপোর্ট প্রকাশ করেন, তখন মুসলিমবিদ্বেষ মূলধারার রাজনীতিতে তুলনামূলকভাবে প্রান্তিক বিষয় ছিল এবং অতি-ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোই প্রধানত এর চর্চা করত। তখন সমাজের সাধারণ মধ্যপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে এর বিরুদ্ধে একটি প্রতিরোধ ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যেত।

তবে গত ১০ বছরের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ড. হাফেজ ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, '১০ বছর আগের পরিস্থিতির সাথে আজকের তুলনা করলে দেখা যায়, অবস্থার চরম অবনতি ঘটেছে। অতি-ডানপন্থীরা যেমন শক্তি সঞ্চয় করেছে, তেমনি ইউরোপের অনেক দেশের মধ্যপন্থী সরকারগুলো অতি-ডানপন্থীদের ইসলামোফোবিক এজেন্ডাকে পুরোপুরি নিজেদের নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে।'

উদাহরণ হিসেবে তিনি ডেনমার্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের নীতি এবং অস্ট্রিয়া ও জার্মানির রক্ষণশীল রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, জার্মানিতে এটি দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত ব্যবস্থার অংশ ছিল, আর অস্ট্রিয়াতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক চর্চায় রূপ নিয়েছে।

রাজনৈতিক কেন্দ্রস্থলের দুর্বলতা ও মেরুকরণ

ইউরোপে মধ্যপন্থী রাজনৈতিক ভাবধারার পতনের কথা উল্লেখ করে ড. হাফেজ জানান, ইউরোপের রাজনৈতিক কেন্দ্রস্থল দুর্বল হয়ে পড়ায় রাজনৈতিক বর্ণালীর দুই প্রান্তের শক্তিগুলো সুবিধা পাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি সম্প্রতি জার্মানি ও ফ্রান্সের নির্বাচনের চিত্র তুলে ধরেন। বার্লিনে যেখানে একজন বামপন্থী প্রার্থী মুসলিমবিদ্বেষী বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়ী হয়েছেন, সেখানে পূর্বাঞ্চলীয় একটি রাজ্যে চরম ইসলামোফোবিক দল 'অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি' (AfD) বিশাল জয় পেয়েছে।

ফ্রান্স ও জার্মানির রাজনৈতিক বিভাজন বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, গ্রামীণ ও শহর এলাকার মানুষের মধ্যে স্পষ্ট বিভেদ তৈরি হয়েছে। যেসব শহরে প্রচুর মুসলিম ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বসবাস, সেখানে মানুষ বর্ণবাদী উস্কানিতে সহজে পা দেয় না। কিন্তু যেসব গ্রামীণ এলাকায় মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায়, সেখানে অতি-ডানপন্থীদের বিদ্বেষমূলক প্রচার অত্যন্ত কার্যকরভাবে প্রভাব ফেলছে।

ড. হাফেজ যোগ করেন, ঐতিহ্যবাহী মধ্য-ডান দলগুলো তাদের বর্ণবাদী নীতিকে কিছুটা ঢেকে রাখে 'খ্রিস্টান বা ইহুদি-খ্রিস্টান সভ্যতার মূল্যবোধ' রক্ষার নামে। অন্যদিকে মধ্য-বাম সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা একই মুসলিমবিদ্বেষী পদক্ষেপ গ্রহণ করে 'ধর্মনিরপেক্ষতা' রক্ষার অজুহাতে।

ইউরোপীয় নীতি নির্ধারকদের উদাসীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য

জাতিসংঘ ১৫ মার্চকে 'আন্তর্জাতিক ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) পর্যায়ে এটি গ্রহণের ক্ষেত্রে চরম অনিচ্ছা দেখা গেছে। ড. হাফেজ জানান, ইউরোপীয় কমিশনের 'মুসলিমবিদ্বেষী ঘৃণা ও বৈষম্য মোকাবিলা সমন্বয়কারী' পদটি তৈরি করা হলেও এর জন্য বাজেট অত্যন্ত সীমিত এবং ইহুদিবিদ্বেষ (Antisemitism) সংক্রান্ত সমন্বয়কারীর মতো কোনো প্রকৃত প্রশাসনিক ক্ষমতা বা আইনি এখতিয়ার একে দেওয়া হয়নি।

তিনি উল্লেখ করেন, নরওয়ে একমাত্র দেশ যারা ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে কয়েকটি শহর 'সিটিজ অ্যাগেইনস্ট ইসলামোফোবিয়া' প্ল্যাটফর্মে একত্রিত হয়েছে। তবে সবচেয়ে জটিল ও বিপজ্জনক ক্ষেত্র হলো ইউরোপের নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। ফ্রান্সের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে সন্ত্রাসবাদ দমন আইন ও কথিত 'বিচ্ছিন্নতাবাদ বিরোধী আইন'-এর দোহাই দিয়ে স্বাধীন মুসলিম সংগঠন, দাতব্য সংস্থা ও তাদের অবকাঠামো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অজুহাতে স্বাধীন মুসলিম কার্যক্রমকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার এই নীতি চরম ক্ষতিকারক রূপ নিয়েছে।

পরিবর্তনের পথ: অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ ও বৈশ্বিক ভূমিকা

ইউরোপে এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতরে থেকেই মুসলিমদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ড. ফরিদ হাফেজ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'পরিবর্তন বাইরে থেকে বা শ্বেতাঙ্গদের হাত ধরে আসবে না। ইউরোপের মুসলিমদের নিজেদের রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত হতে হবে। বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে থেকে হোক কিংবা নতুন রাজনৈতিক শক্তি গঠন করে হোক—সকল গণতান্ত্রিক পথ ব্যবহার করে তীব্র রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে।'

একই সাথে তিনি বিশ্বের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর কূটনীতিকে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন। যদিও অতীতে কিছু মুসলিম দেশ নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ইউরোপীয় অতি-ডানপন্থীদের মদদ দিয়েছে, তবুও ড. হাফেজ মনে করেন, ইউরোপে বসবাসরত বিশাল মুসলিম জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মুসলিম দেশগুলোর কূটনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করার সময় এখন এসেছে।

বিষয় : ইউরোপ ইসলামোফোবিয়া মুসলিমবিদ্বেষ

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


ইউরোপের রাজনীতিতে ইসলামোফোবিয়া: এক দশকে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে মুসলিমবিদ্বেষ

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

গত এক দশকে ইউরোপজুড়ে ইসলামোফোবিয়া বা মুসলিমবিদ্বেষ কেবল বৃদ্ধিই পায়নি, বরং এটি এখন সেখানকার মূলধারার রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থায়ী আসন গেড়ে বসেছে। অতি-ডানপন্থীদের উগ্র ইসলামবিরোধী রাজনৈতিক এজেন্ডা আজ ইউরোপের মধ্য-ডান ও মধ্য-বামপন্থী দলগুলোও প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে আপন করে নিয়েছে। আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট গবেষক ও 'ইউরোপিয়ান ইসলামোফোবিয়া রিপোর্ট'-এর সহ-সম্পাদক ড. ফরিদ হাফেজ।

ইউরোপীয় সমাজে বর্ণবাদ ও সংঘাতের মাত্রা পরিমাপ করতে গিয়ে আয়ারল্যান্ডের লিমেরিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের 'দ্য ব্রিজ ইনিশিয়েটিভ'-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. ফরিদ হাফেজ জানান, ২০১৫ সালে যখন তারা প্রথমবার ইউরোপীয় ইসলামোফোবিয়া রিপোর্ট প্রকাশ করেন, তখন মুসলিমবিদ্বেষ মূলধারার রাজনীতিতে তুলনামূলকভাবে প্রান্তিক বিষয় ছিল এবং অতি-ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোই প্রধানত এর চর্চা করত। তখন সমাজের সাধারণ মধ্যপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে এর বিরুদ্ধে একটি প্রতিরোধ ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যেত।

তবে গত ১০ বছরের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ড. হাফেজ ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, '১০ বছর আগের পরিস্থিতির সাথে আজকের তুলনা করলে দেখা যায়, অবস্থার চরম অবনতি ঘটেছে। অতি-ডানপন্থীরা যেমন শক্তি সঞ্চয় করেছে, তেমনি ইউরোপের অনেক দেশের মধ্যপন্থী সরকারগুলো অতি-ডানপন্থীদের ইসলামোফোবিক এজেন্ডাকে পুরোপুরি নিজেদের নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে।'

উদাহরণ হিসেবে তিনি ডেনমার্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের নীতি এবং অস্ট্রিয়া ও জার্মানির রক্ষণশীল রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, জার্মানিতে এটি দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত ব্যবস্থার অংশ ছিল, আর অস্ট্রিয়াতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক চর্চায় রূপ নিয়েছে।

রাজনৈতিক কেন্দ্রস্থলের দুর্বলতা ও মেরুকরণ

ইউরোপে মধ্যপন্থী রাজনৈতিক ভাবধারার পতনের কথা উল্লেখ করে ড. হাফেজ জানান, ইউরোপের রাজনৈতিক কেন্দ্রস্থল দুর্বল হয়ে পড়ায় রাজনৈতিক বর্ণালীর দুই প্রান্তের শক্তিগুলো সুবিধা পাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি সম্প্রতি জার্মানি ও ফ্রান্সের নির্বাচনের চিত্র তুলে ধরেন। বার্লিনে যেখানে একজন বামপন্থী প্রার্থী মুসলিমবিদ্বেষী বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়ী হয়েছেন, সেখানে পূর্বাঞ্চলীয় একটি রাজ্যে চরম ইসলামোফোবিক দল 'অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি' (AfD) বিশাল জয় পেয়েছে।

ফ্রান্স ও জার্মানির রাজনৈতিক বিভাজন বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, গ্রামীণ ও শহর এলাকার মানুষের মধ্যে স্পষ্ট বিভেদ তৈরি হয়েছে। যেসব শহরে প্রচুর মুসলিম ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বসবাস, সেখানে মানুষ বর্ণবাদী উস্কানিতে সহজে পা দেয় না। কিন্তু যেসব গ্রামীণ এলাকায় মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায়, সেখানে অতি-ডানপন্থীদের বিদ্বেষমূলক প্রচার অত্যন্ত কার্যকরভাবে প্রভাব ফেলছে।

ড. হাফেজ যোগ করেন, ঐতিহ্যবাহী মধ্য-ডান দলগুলো তাদের বর্ণবাদী নীতিকে কিছুটা ঢেকে রাখে 'খ্রিস্টান বা ইহুদি-খ্রিস্টান সভ্যতার মূল্যবোধ' রক্ষার নামে। অন্যদিকে মধ্য-বাম সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা একই মুসলিমবিদ্বেষী পদক্ষেপ গ্রহণ করে 'ধর্মনিরপেক্ষতা' রক্ষার অজুহাতে।

ইউরোপীয় নীতি নির্ধারকদের উদাসীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য

জাতিসংঘ ১৫ মার্চকে 'আন্তর্জাতিক ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) পর্যায়ে এটি গ্রহণের ক্ষেত্রে চরম অনিচ্ছা দেখা গেছে। ড. হাফেজ জানান, ইউরোপীয় কমিশনের 'মুসলিমবিদ্বেষী ঘৃণা ও বৈষম্য মোকাবিলা সমন্বয়কারী' পদটি তৈরি করা হলেও এর জন্য বাজেট অত্যন্ত সীমিত এবং ইহুদিবিদ্বেষ (Antisemitism) সংক্রান্ত সমন্বয়কারীর মতো কোনো প্রকৃত প্রশাসনিক ক্ষমতা বা আইনি এখতিয়ার একে দেওয়া হয়নি।

তিনি উল্লেখ করেন, নরওয়ে একমাত্র দেশ যারা ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে কয়েকটি শহর 'সিটিজ অ্যাগেইনস্ট ইসলামোফোবিয়া' প্ল্যাটফর্মে একত্রিত হয়েছে। তবে সবচেয়ে জটিল ও বিপজ্জনক ক্ষেত্র হলো ইউরোপের নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। ফ্রান্সের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে সন্ত্রাসবাদ দমন আইন ও কথিত 'বিচ্ছিন্নতাবাদ বিরোধী আইন'-এর দোহাই দিয়ে স্বাধীন মুসলিম সংগঠন, দাতব্য সংস্থা ও তাদের অবকাঠামো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অজুহাতে স্বাধীন মুসলিম কার্যক্রমকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার এই নীতি চরম ক্ষতিকারক রূপ নিয়েছে।

পরিবর্তনের পথ: অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ ও বৈশ্বিক ভূমিকা

ইউরোপে এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতরে থেকেই মুসলিমদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ড. ফরিদ হাফেজ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'পরিবর্তন বাইরে থেকে বা শ্বেতাঙ্গদের হাত ধরে আসবে না। ইউরোপের মুসলিমদের নিজেদের রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত হতে হবে। বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে থেকে হোক কিংবা নতুন রাজনৈতিক শক্তি গঠন করে হোক—সকল গণতান্ত্রিক পথ ব্যবহার করে তীব্র রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে।'

একই সাথে তিনি বিশ্বের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর কূটনীতিকে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন। যদিও অতীতে কিছু মুসলিম দেশ নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ইউরোপীয় অতি-ডানপন্থীদের মদদ দিয়েছে, তবুও ড. হাফেজ মনে করেন, ইউরোপে বসবাসরত বিশাল মুসলিম জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মুসলিম দেশগুলোর কূটনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করার সময় এখন এসেছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ