সিরিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিরিয়ান নেটওয়ার্ক ফর হিউম্যান রাইটস (SNHR) ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলা ও ভূখণ্ড লঙ্ঘনের ওপর একটি বিস্তারিত তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত প্রায় দুই বছরে ইসরায়েল সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব চরমভাবে লঙ্ঘন করে ৪৫৩টি স্থল অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত লঙ্ঘন চালিয়েছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
ইসরায়েলি বাহিনী তাদের স্থল অনুপ্রবেশের ঘটনাগুলো মূলত কুনেইত্রা ও দেরা প্রদেশে কেন্দ্রীভূত করলেও দেশের রাজধানী দামেস্ক, হামা, লাতাকিয়া, হোমসে, তারতুস, সুওয়াইদা এবং ইদলিবে শত শত বিধ্বংসী বিমান হামলা চালিয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন সামরিক অভিযানে ইসরায়েল অন্তত ১৬২ জন সিরীয় নাগরিককে আটক করে। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ১২৭ জনকে মুক্তি দেওয়া হলেও অবশিষ্ট ৩৫ জনের ভাগ্য ও অবস্থান সম্পর্কে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের বাড়িঘর ও পরিবেশগত ধ্বংসযজ্ঞের চিত্রও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। কুনেইত্রার গ্রামাঞ্চলের হামিদেহ গ্রামে অনুপ্রবেশ করে অন্তত ১৫টি আবাসিক বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১৭-১৮ অক্টোবরে কুনেইত্রার উত্তরাঞ্চলের জেবাতা আল-খাশেব প্রাকৃতিক অভয়ারণ্যে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এরপর ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষের দিকে কুনেইত্রার চারণভূমিতে অজ্ঞাত রাসায়নিক বা অচেনা উপাদান স্প্রে করার ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় পরিবেশ ও গবাদিপশুর জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সবশেষ ২০২৬ সালের ৪ অক্টোবরে, তথাকথিত 'সোফা ৫৩ লাইন' সংলগ্ন আল-উশে গ্রামের পশ্চিমে এবং আর-রাফিদ শহরে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের নতুন করে ভাঙচুর ও ভূমি দখলের কার্যক্রম শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।
মতামত