মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার বর্ণাঢ্য সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। গত ৬ অক্টোবর প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। পাঁচ দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সমাপনী দিনে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন দেশটির ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান। এ সময় মালয়েশিয়ার সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিচারক প্যানেলের সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের এক বিশাল সমাগম ঘটে।
প্রতিযোগিতার ফলাফল অনুযায়ী, পুরুষ বিভাগের হিফজুল কোরআন ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা প্রথম স্থান অধিকার করেন। এ ছাড়া এই বিভাগে সিরিয়ার প্রতিযোগী দ্বিতীয় এবং স্বাগতিক মালয়েশিয়ার প্রতিযোগী তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। অন্যদিকে, নারীদের হিফজ বিভাগে যথাক্রমে নাইজার, লিবিয়া ও মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান লাভ করেন। তিলাওয়াত বিভাগে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও বেলজিয়ামের প্রতিযোগীরা শীর্ষস্থান অর্জন করেন।
প্রথম স্থান অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে ৪০ হাজার মালয়েশীয় রিঙ্গিত নগদ অর্থ, একটি সম্মাননা ট্রফি, ৫ হাজার রিঙ্গিত মূল্যের উমরা বা মুসলিম পর্যটন প্যাকেজ এবং ৩ হাজার রিঙ্গিত মূল্যের একটি স্বর্ণের বার প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, ঢাকার মিরপুর-১-এ অবস্থিত 'মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামী' প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নাম উজ্জ্বল করে চলেছে। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এর আগেও সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, তুরস্ক ও কুয়েতের মতো দেশগুলোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনসহ বহু কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। এর আগে খ্যাতি অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম, মুয়াজ মাহমুদ, আনাস মাহফুজ ও সাদ নুর। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতি মুরতাজা হাসান ফয়েজী মাসুম, যিনি গুলশান সোসাইটি জামে মসজিদের খতিবের দায়িত্বও পালন করছেন।
মতামত