বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

দাঁড়ি ও টুপি দেখে উত্তরপ্রদেশের বেরিলিতে ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ মুসলিমকে মারধর ও সাম্প্রদায়িক নির্যাতন; বাঁচাতে গিয়ে হামলায় আহত স্থানীয় এক হিন্দু যুবকও।

ভারতে বৃদ্ধ মুসলিম ব্যক্তিকে নির্যাতন ও জোরপূর্বক হিন্দুত্ববাদী স্লোগান বলানোর অভিযোগ


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ভারতে বৃদ্ধ মুসলিম ব্যক্তিকে নির্যাতন ও জোরপূর্বক হিন্দুত্ববাদী স্লোগান বলানোর অভিযোগ

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় বৈষম্যমূলক হামলা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের বেরিলি জেলার কোতোয়ালি থানা এলাকার খুব কাছেই এক প্রবীণ মুসলিম নাগরিক চরম সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, পথচলতি ওই প্রবীণ ব্যক্তির পরনে টুপি ও মুখে দাঁড়ি দেখে চার হিন্দুত্ববাদী যুবক তাঁর গতিপথ রোধ করে।

প্রাথমিকভাবে যুবকরা ওই বৃদ্ধকে গালিগালাজ করে এবং তাঁর মুসলিম পরিচয়ের জন্য অপমান করতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক হিন্দুত্ববাদী স্লোগান দিতে চাপ দেওয়া হয়। প্রবীণ ব্যক্তি ধর্মীয় এই জয়ধ্বনি দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত রিংকু যাদব নামে এক যুবক প্রবীণ ব্যক্তিকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে রিংকু যাদবকে হামলাকারীদের দিকে আঙুল তুলে বলতে দেখা যায়, 'এই ছেলেরা এই আঙ্কেলকে মারধর করছে এবং তাঁকে জোর করে হিন্দুত্ববাদী স্লোগান বলতে বাধ্য করছে।' তবে মানবিকতা দেখিয়ে বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ানোই রিংকু যাদবকেও রেহাই দেয়নি উগ্রবাদীরা; তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও প্রহার করা হয়।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, ঘটনাটি ঘটেছে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির একদম কাছাকাছি স্থানে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বেরিলি পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং কোতোয়ালি থানার একজন সাব-ইনস্পেক্টরকে ঘটনার তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশের বিবৃতিতে এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার কিংবা তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, যা নিয়ে স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনায় সর্বস্তরের মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীরা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেক ব্যবহারকারী এটিকে আসন্ন নির্বাচনের আগে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও মেরুকরণ তৈরির চক্রান্ত বলে অভিহিত করেছেন। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, আর কতদিন ভারতে এভাবে ধর্মীয় পোশাকের কারণে পথচলতি নিরীহ মুসলিমদের হেনস্তার শিকার হতে হবে?

উল্লেখযোগ্য যে, ভারতে হিন্দুত্ববাদী স্লোগান বলতে বাধ্য করে মুসলিমদের ওপর হামলা নতুন কোনো ঘটনা নয়। ২০১৯ সালে ঝাড়খণ্ডে তরুণ তবরেজ আনসারিকে একই কায়দায় নির্মমভাবে পিটিয়ে ও ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করে হত্যা করা হয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘ দিন ধরেই ভারতে মুসলিম ও সংখ্যালঘুদের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের পরিকল্পিত সহিংসতা এবং রাজ্য সরকারের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে আসছে।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


ভারতে বৃদ্ধ মুসলিম ব্যক্তিকে নির্যাতন ও জোরপূর্বক হিন্দুত্ববাদী স্লোগান বলানোর অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় বৈষম্যমূলক হামলা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের বেরিলি জেলার কোতোয়ালি থানা এলাকার খুব কাছেই এক প্রবীণ মুসলিম নাগরিক চরম সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, পথচলতি ওই প্রবীণ ব্যক্তির পরনে টুপি ও মুখে দাঁড়ি দেখে চার হিন্দুত্ববাদী যুবক তাঁর গতিপথ রোধ করে।

প্রাথমিকভাবে যুবকরা ওই বৃদ্ধকে গালিগালাজ করে এবং তাঁর মুসলিম পরিচয়ের জন্য অপমান করতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক হিন্দুত্ববাদী স্লোগান দিতে চাপ দেওয়া হয়। প্রবীণ ব্যক্তি ধর্মীয় এই জয়ধ্বনি দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত রিংকু যাদব নামে এক যুবক প্রবীণ ব্যক্তিকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে রিংকু যাদবকে হামলাকারীদের দিকে আঙুল তুলে বলতে দেখা যায়, 'এই ছেলেরা এই আঙ্কেলকে মারধর করছে এবং তাঁকে জোর করে হিন্দুত্ববাদী স্লোগান বলতে বাধ্য করছে।' তবে মানবিকতা দেখিয়ে বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ানোই রিংকু যাদবকেও রেহাই দেয়নি উগ্রবাদীরা; তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও প্রহার করা হয়।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, ঘটনাটি ঘটেছে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির একদম কাছাকাছি স্থানে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বেরিলি পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং কোতোয়ালি থানার একজন সাব-ইনস্পেক্টরকে ঘটনার তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশের বিবৃতিতে এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার কিংবা তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, যা নিয়ে স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনায় সর্বস্তরের মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীরা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেক ব্যবহারকারী এটিকে আসন্ন নির্বাচনের আগে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও মেরুকরণ তৈরির চক্রান্ত বলে অভিহিত করেছেন। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, আর কতদিন ভারতে এভাবে ধর্মীয় পোশাকের কারণে পথচলতি নিরীহ মুসলিমদের হেনস্তার শিকার হতে হবে?

উল্লেখযোগ্য যে, ভারতে হিন্দুত্ববাদী স্লোগান বলতে বাধ্য করে মুসলিমদের ওপর হামলা নতুন কোনো ঘটনা নয়। ২০১৯ সালে ঝাড়খণ্ডে তরুণ তবরেজ আনসারিকে একই কায়দায় নির্মমভাবে পিটিয়ে ও ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করে হত্যা করা হয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘ দিন ধরেই ভারতে মুসলিম ও সংখ্যালঘুদের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের পরিকল্পিত সহিংসতা এবং রাজ্য সরকারের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে আসছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ