শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

মধ্যপ্রদেশের বিদিশায় চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী প্রচারণার মুখে ১১টি মাদ্রাসা বন্ধের আবেদন; সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর অব্যাহত চাপের চিত্র স্পষ্ট।

খ্রিস্টান স্কুল ও মাদ্রাসা থেকে হিন্দু সন্তানদের ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান বিজেপি নেতার


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

খ্রিস্টান স্কুল ও মাদ্রাসা থেকে হিন্দু সন্তানদের ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান বিজেপি নেতার

ভারতের শাসকদল বিজেপির উগ্র হিন্দুত্ববাদী নীতি ও সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচারের অংশ হিসেবে এবার খ্রিস্টান কনভেন্ট স্কুল ও মুসলিম মাদ্রাসা বর্জনের ডাক দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের বিজেপি বিধায়ক উমাকান্ত শর্মা।

বিদিশা জেলার সিরোঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের এই আইনপ্রণেতা তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, হিন্দু সমাজের স্বার্থ রক্ষার্থেই এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সন্তানদের ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। পোস্টে তিনি লেখেন, 'প্রকৃত সনাতনী ভাই, মা ও বোনেরা অবিলম্বে খ্রিস্টান কনভেন্ট ঐতিহ্যের স্কুলগুলো থেকে আপনাদের সন্তানদের প্রত্যাহার করুন। একইভাবে, আপনাদের সন্তান যদি কোনো মুসলিম মাদ্রাসায় পড়ে থাকে, তবে সেখান থেকেও তাদের সরিয়ে নিন। সমাজের স্বার্থেই এটি প্রয়োজন।'

তবে নিজের এই বিতর্কিত আহ্বানে তিনি কোনো নির্দিষ্ট স্কুল বা মাদ্রাসার নাম উল্লেখ করেননি। এমনকি এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর শিশুদের বিকল্প কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো হবে, সে বিষয়েও কোনো নির্দেশনা দেননি তিনি।

এদিকে, বিজেপি নেতার এই আক্রমণের পটভূমিতে উঠে এসেছে বিদিশা জেলার সিরোঞ্জ অঞ্চলের ১১টি মাদ্রাসার করুণ চিত্র। মাদ্রাসাগুলোর পরিচালক বা পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য মধ্যপ্রদেশ শিক্ষা দপ্তরের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

শিক্ষা দপ্তরের নথি অনুযায়ী, সর্বশিক্ষা অভিযানের অধীনে থাকা জনপদ শিক্ষা কেন্দ্র (সিরোঞ্জ) জেলা শিক্ষা কেন্দ্রের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে এডুকেশন পোর্টাল ৩.০ এবং ইউনিফাইড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন (UDISE) পোর্টাল থেকে উল্লিখিত ১১টি মাদ্রাসার তথ্য ও রেকর্ড মুছে ফেলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পোর্টালে তালিকাভুক্ত মাদ্রাসাগুলোর নাম ও UDISE শনাক্তকরণ নম্বর সংযুক্ত করে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় উদ্যোক্তারা মাদ্রাসা বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মাদ্রাসা বন্ধের এই প্রক্রিয়াকে উল্লাস ও সন্তোষের সাথে প্রকাশ করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) সদস্য প্রিয়াঙ্ক কানুনগো। এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তিনি এই ঘটনাকে ‘সুসংবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কানুনগো দাবি করেন, বিদিশা জেলায় মাদ্রাসাগুলোতে হিন্দু শিশুদের রাখা হচ্ছিল এবং জেলা প্রশাসন শিশুদের বিনামূল্যের ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা অধিকার আইন (RTE) নিশ্চিত করতে প্রচারণা চালিয়ে শিশুদের মূলধারার সরকারি স্কুলে ভর্তি করেছে। এর ফলেই মাদ্রাসাগুলো শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তবে অনুসন্ধান ও দাপ্তরিক নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রিয়াঙ্ক কানুনগো যে দাবি করেছেন, সরকারি নথিতে তার কোনো শক্ত প্রমাণ নেই। কতজন হিন্দু শিশু তথাকথিত মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছিল বা তাদের ঠিক কোন স্কুলে স্থানান্তর করা হয়েছে—এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তিনি দিতে পারেননি। মূলত শিক্ষা দপ্তরের নথিতে কেবল পরিচালকদের নিজস্ব আবেদনের কথা উল্লেখ রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থী স্বল্পতাকে কারণ দেখানো হয়েছে। কিন্তু মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধির সামাজিক ও রাজনৈতিক পোস্ট এবং মূল প্রশাসনিক চিঠির তথ্যের মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে, যা ভারতে সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টিরই নামান্তর।

মানবাধিকার কর্মী ও স্থানীয় মুসলিম নেতৃত্ব মনে করছেন, মধ্যপ্রদেশে উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক পরিবেশ এবং প্রশাসনিক হয়রানির ফলেই সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে এবং বাধ্য হয়ে মাদ্রাসা বন্ধের পথ বেছে নিচ্ছে।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


খ্রিস্টান স্কুল ও মাদ্রাসা থেকে হিন্দু সন্তানদের ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান বিজেপি নেতার

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতের শাসকদল বিজেপির উগ্র হিন্দুত্ববাদী নীতি ও সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচারের অংশ হিসেবে এবার খ্রিস্টান কনভেন্ট স্কুল ও মুসলিম মাদ্রাসা বর্জনের ডাক দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের বিজেপি বিধায়ক উমাকান্ত শর্মা।

বিদিশা জেলার সিরোঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের এই আইনপ্রণেতা তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, হিন্দু সমাজের স্বার্থ রক্ষার্থেই এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সন্তানদের ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। পোস্টে তিনি লেখেন, 'প্রকৃত সনাতনী ভাই, মা ও বোনেরা অবিলম্বে খ্রিস্টান কনভেন্ট ঐতিহ্যের স্কুলগুলো থেকে আপনাদের সন্তানদের প্রত্যাহার করুন। একইভাবে, আপনাদের সন্তান যদি কোনো মুসলিম মাদ্রাসায় পড়ে থাকে, তবে সেখান থেকেও তাদের সরিয়ে নিন। সমাজের স্বার্থেই এটি প্রয়োজন।'

তবে নিজের এই বিতর্কিত আহ্বানে তিনি কোনো নির্দিষ্ট স্কুল বা মাদ্রাসার নাম উল্লেখ করেননি। এমনকি এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর শিশুদের বিকল্প কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো হবে, সে বিষয়েও কোনো নির্দেশনা দেননি তিনি।

এদিকে, বিজেপি নেতার এই আক্রমণের পটভূমিতে উঠে এসেছে বিদিশা জেলার সিরোঞ্জ অঞ্চলের ১১টি মাদ্রাসার করুণ চিত্র। মাদ্রাসাগুলোর পরিচালক বা পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য মধ্যপ্রদেশ শিক্ষা দপ্তরের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

শিক্ষা দপ্তরের নথি অনুযায়ী, সর্বশিক্ষা অভিযানের অধীনে থাকা জনপদ শিক্ষা কেন্দ্র (সিরোঞ্জ) জেলা শিক্ষা কেন্দ্রের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে এডুকেশন পোর্টাল ৩.০ এবং ইউনিফাইড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন (UDISE) পোর্টাল থেকে উল্লিখিত ১১টি মাদ্রাসার তথ্য ও রেকর্ড মুছে ফেলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পোর্টালে তালিকাভুক্ত মাদ্রাসাগুলোর নাম ও UDISE শনাক্তকরণ নম্বর সংযুক্ত করে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় উদ্যোক্তারা মাদ্রাসা বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মাদ্রাসা বন্ধের এই প্রক্রিয়াকে উল্লাস ও সন্তোষের সাথে প্রকাশ করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) সদস্য প্রিয়াঙ্ক কানুনগো। এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তিনি এই ঘটনাকে ‘সুসংবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কানুনগো দাবি করেন, বিদিশা জেলায় মাদ্রাসাগুলোতে হিন্দু শিশুদের রাখা হচ্ছিল এবং জেলা প্রশাসন শিশুদের বিনামূল্যের ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা অধিকার আইন (RTE) নিশ্চিত করতে প্রচারণা চালিয়ে শিশুদের মূলধারার সরকারি স্কুলে ভর্তি করেছে। এর ফলেই মাদ্রাসাগুলো শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তবে অনুসন্ধান ও দাপ্তরিক নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রিয়াঙ্ক কানুনগো যে দাবি করেছেন, সরকারি নথিতে তার কোনো শক্ত প্রমাণ নেই। কতজন হিন্দু শিশু তথাকথিত মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছিল বা তাদের ঠিক কোন স্কুলে স্থানান্তর করা হয়েছে—এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তিনি দিতে পারেননি। মূলত শিক্ষা দপ্তরের নথিতে কেবল পরিচালকদের নিজস্ব আবেদনের কথা উল্লেখ রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থী স্বল্পতাকে কারণ দেখানো হয়েছে। কিন্তু মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধির সামাজিক ও রাজনৈতিক পোস্ট এবং মূল প্রশাসনিক চিঠির তথ্যের মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে, যা ভারতে সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টিরই নামান্তর।

মানবাধিকার কর্মী ও স্থানীয় মুসলিম নেতৃত্ব মনে করছেন, মধ্যপ্রদেশে উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক পরিবেশ এবং প্রশাসনিক হয়রানির ফলেই সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে এবং বাধ্য হয়ে মাদ্রাসা বন্ধের পথ বেছে নিচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ