বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

ডাচ শহরের ব্যস্ততম চত্বরে বৃষ্টি, তুষারপাত উপেক্ষা করে প্রতিদিন সকালের এই নীরব অবস্থান এখন ১৫০০ জনেরও বেশি মানুষের জোরালো সংহতিতে রূপ নিয়েছে।

ফিলিস্তিনের সমর্থনে নেদারল্যান্ডসে টানা ১১১ সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন সকালে নীরব প্রতিবাদ


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ফিলিস্তিনের সমর্থনে নেদারল্যান্ডসে টানা ১১১ সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন সকালে নীরব প্রতিবাদ

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা এবং দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হত্যাযজ্ঞ ও বর্বরতার প্রতিবাদে নেদারল্যান্ডসের উট্রেখট শহরে ১১১ সপ্তাহ ধরে নিয়মিতভাবে ‘সৈনিকবিহীন’ বা নীরব প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ব্যস্ততম ন্যুড চত্বরে ফিলিস্তিনের পতাকা এবং নানা স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে এই কর্মসূচি পালন করছেন ডাচ নাগরিকরা।

বৃষ্টি, তুষারপাত কিংবা তীব্র গরমের মতো প্রতিকূল আবহাওয়াও এই মানবতাবাদী আন্দোলনকে থামাতে পারেনি। প্রতি কার্যদিবসে (সোম থেকে শুক্রবার) সকাল সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি অত্যন্ত শৃঙ্খলার সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে।

একটি প্ল্যাকার্ড থেকে বিশাল আন্দোলন

প্রায় দুই বছর আগে একজন ডাচ নারী সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে হাতে একটি ছোট প্ল্যাকার্ড নিয়ে নীরব প্রতিবাদ শুরু করেছিলেন। সময়ের পরিক্রমায় সেই ব্যক্তিগত উদ্যোগ আজ প্রায় ১৫০ জনের একটি সুসংগঠিত সংহতি গ্রুপে রূপ নিয়েছে। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণরা নিজ নিজ দৈনন্দিন রুটিন ও ব্যস্ততার ফাঁকে পালাক্রমে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

শহরের প্রাণকেন্দ্র হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সাইকেল বা গণপরিবহনে করে এই চত্বর পার হন। কর্মস্থলে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে এই নীরব প্রতিবাদ অনেকেরই নজর কাড়ে। শুরুতে স্থানীয় বাসিন্দারা কিছুটা উদাসীন থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের মনোভাব বদলাতে শুরু করেছে। এখন পথচারীরা এই প্রতিবাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে থামছেন, বিজয়ের চিহ্ন (ভি সাইন) দেখাচ্ছেন এবং নানা ইতিবাচক স্লোগানের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের উৎসাহিত করছেন।

‘আমরা চাই সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিক’

কাজে যোগ দেওয়ার আগে নিয়মিত এই প্রতিবাদে অংশ নেওয়া রাগ্ন শাপেনডংক আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, গাজাসহ পুরো ফিলিস্তিনে চলমান অমানবিক নির্যাতন বন্ধ করা এবং ডাচ সরকারকে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার জন্যই তাঁদের এই দীর্ঘ লড়াই।

তিনি বলেন, 'আমরা চাই ফিলিস্তিনে সব ধরনের বর্বরতা ও রক্তপাত বন্ধ হোক। গাজা এবং পশ্চিম তীরের শিশুরা যেন আবারও স্বাভাবিকভাবে স্কুলে যেতে পারে, খেলাধুলা করতে পারে এবং নিরাপদ শৈশব ফিরে পায়—এটাই আমাদের একমাত্র চাওয়া। তবে এর জন্য অবিলম্বে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।'

শাপেনডংক আরও উল্লেখ করেন, 'সবকিছু শুরু হয়েছিল একজনমাত্র নারীর নীরব অবস্থানের মধ্য দিয়ে। আজ আমাদের এই প্লাটফর্মে ১৫০ জন সদস্য রয়েছে। আমরা পালাক্রমে প্রতিদিন ১০ থেকে ৩০ জন চত্বরে উপস্থিত থাকি, যাতে কাজের ফাঁকে সবাই সংহতির এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে।'

‘এটি একটি গণহত্যা, অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে’

স্থানীয় উট্রেখটবাসীর ক্রমবর্ধমান সমর্থনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'গত দুই বছরে এখানকার মানুষের মানসিকতায় দারুণ পরিবর্তন এসেছে। শুরুর দিকে অনেকে আমাদের এড়িয়ে চললেও এখন সিংহভাগ মানুষ আমাদের পাশে এসে দাঁড়ান। পথচারীরা আমাদের দিকে তাকিয়ে বিজয়ের চিহ্ন দেখান, ‘এভাবে চালিয়ে যান’ কিংবা ‘তোমরা থাকাতে ভালো লাগছে’—এমন উৎসাহব্যঞ্জক কথা বলেন।'

প্রতিকূল আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এই প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শাপেনডংক ডাচ সরকারের প্রতি তীব্র ভাষায় আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'ইসরায়েলি অস্ত্র কেনা এবং তাদের সামরিক কার্যক্রমে অর্থায়ন অবিলম্বে বন্ধ করুন। ফিলিস্তিনে যা ঘটছে তা পরিষ্কার একটি গণহত্যা এবং এটি যেকোনো মূল্যে বন্ধ করতেই হবে।'

বিষয় : মানবাধিকার নেদারল্যান্ডস

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


ফিলিস্তিনের সমর্থনে নেদারল্যান্ডসে টানা ১১১ সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন সকালে নীরব প্রতিবাদ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা এবং দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হত্যাযজ্ঞ ও বর্বরতার প্রতিবাদে নেদারল্যান্ডসের উট্রেখট শহরে ১১১ সপ্তাহ ধরে নিয়মিতভাবে ‘সৈনিকবিহীন’ বা নীরব প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ব্যস্ততম ন্যুড চত্বরে ফিলিস্তিনের পতাকা এবং নানা স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে এই কর্মসূচি পালন করছেন ডাচ নাগরিকরা।

বৃষ্টি, তুষারপাত কিংবা তীব্র গরমের মতো প্রতিকূল আবহাওয়াও এই মানবতাবাদী আন্দোলনকে থামাতে পারেনি। প্রতি কার্যদিবসে (সোম থেকে শুক্রবার) সকাল সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি অত্যন্ত শৃঙ্খলার সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে।

একটি প্ল্যাকার্ড থেকে বিশাল আন্দোলন

প্রায় দুই বছর আগে একজন ডাচ নারী সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে হাতে একটি ছোট প্ল্যাকার্ড নিয়ে নীরব প্রতিবাদ শুরু করেছিলেন। সময়ের পরিক্রমায় সেই ব্যক্তিগত উদ্যোগ আজ প্রায় ১৫০ জনের একটি সুসংগঠিত সংহতি গ্রুপে রূপ নিয়েছে। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণরা নিজ নিজ দৈনন্দিন রুটিন ও ব্যস্ততার ফাঁকে পালাক্রমে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

শহরের প্রাণকেন্দ্র হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সাইকেল বা গণপরিবহনে করে এই চত্বর পার হন। কর্মস্থলে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে এই নীরব প্রতিবাদ অনেকেরই নজর কাড়ে। শুরুতে স্থানীয় বাসিন্দারা কিছুটা উদাসীন থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের মনোভাব বদলাতে শুরু করেছে। এখন পথচারীরা এই প্রতিবাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে থামছেন, বিজয়ের চিহ্ন (ভি সাইন) দেখাচ্ছেন এবং নানা ইতিবাচক স্লোগানের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের উৎসাহিত করছেন।

‘আমরা চাই সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিক’

কাজে যোগ দেওয়ার আগে নিয়মিত এই প্রতিবাদে অংশ নেওয়া রাগ্ন শাপেনডংক আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, গাজাসহ পুরো ফিলিস্তিনে চলমান অমানবিক নির্যাতন বন্ধ করা এবং ডাচ সরকারকে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার জন্যই তাঁদের এই দীর্ঘ লড়াই।

তিনি বলেন, 'আমরা চাই ফিলিস্তিনে সব ধরনের বর্বরতা ও রক্তপাত বন্ধ হোক। গাজা এবং পশ্চিম তীরের শিশুরা যেন আবারও স্বাভাবিকভাবে স্কুলে যেতে পারে, খেলাধুলা করতে পারে এবং নিরাপদ শৈশব ফিরে পায়—এটাই আমাদের একমাত্র চাওয়া। তবে এর জন্য অবিলম্বে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।'

শাপেনডংক আরও উল্লেখ করেন, 'সবকিছু শুরু হয়েছিল একজনমাত্র নারীর নীরব অবস্থানের মধ্য দিয়ে। আজ আমাদের এই প্লাটফর্মে ১৫০ জন সদস্য রয়েছে। আমরা পালাক্রমে প্রতিদিন ১০ থেকে ৩০ জন চত্বরে উপস্থিত থাকি, যাতে কাজের ফাঁকে সবাই সংহতির এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে।'

‘এটি একটি গণহত্যা, অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে’

স্থানীয় উট্রেখটবাসীর ক্রমবর্ধমান সমর্থনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'গত দুই বছরে এখানকার মানুষের মানসিকতায় দারুণ পরিবর্তন এসেছে। শুরুর দিকে অনেকে আমাদের এড়িয়ে চললেও এখন সিংহভাগ মানুষ আমাদের পাশে এসে দাঁড়ান। পথচারীরা আমাদের দিকে তাকিয়ে বিজয়ের চিহ্ন দেখান, ‘এভাবে চালিয়ে যান’ কিংবা ‘তোমরা থাকাতে ভালো লাগছে’—এমন উৎসাহব্যঞ্জক কথা বলেন।'

প্রতিকূল আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এই প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শাপেনডংক ডাচ সরকারের প্রতি তীব্র ভাষায় আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'ইসরায়েলি অস্ত্র কেনা এবং তাদের সামরিক কার্যক্রমে অর্থায়ন অবিলম্বে বন্ধ করুন। ফিলিস্তিনে যা ঘটছে তা পরিষ্কার একটি গণহত্যা এবং এটি যেকোনো মূল্যে বন্ধ করতেই হবে।'


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ