মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে শেষ নবী হিসেবে মান্য করার মৌলিক ইসলামী আকীদা সংরক্ষণে এবং কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে ঢাকার চকবাজার শাহী মসজিদ চত্বরে এক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ-এর ঢাকা মহানগর লালবাগ জোনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে শীর্ষ আলেমরা কাদিয়ানীদের সব প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানান এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
ইসলামী আকিদার অন্যতম প্রধান মূলভিত্তি ‘খতমে নবুওয়ত’ সুরক্ষার দাবিতে রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক চকবাজার শাহী মসজিদ চত্বরে এক বিরাট মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে আলেম-ওলামা ও ইসলামী চিন্তাবিদরা কাদিয়ানী (আহমদীয়া) সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা এবং তাদের সমস্ত বিভ্রান্তিকর প্রকাশনা ও প্রচারণা অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ-এর ঢাকা মহানগর লালবাগ জোনের আয়োজনে শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর ৩টায় এ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত ঢাকা মহানগরের সভাপতি মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজির সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম কাসেমীর সঞ্চালনায় সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ বক্তব্য রাখেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, 'ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী ও রাসুল। তাঁর পর কেয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবীর আগমন ঘটবে না—এটি ইসলামের অকাট্য ও মৌলিক আকীদার অংশ। কিন্তু কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের মতবাদ ও বিশ্বাস মুসলমানদের এই প্রচলিত আকিদার সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।' বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে কাদিয়ানীদের বিষয়ে আইনগতভাবে অমুসলিম হিসেবে নির্দিষ্ট অবস্থান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশেও অবিলম্বে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করার জোর দাবি জানান।
সম্মেলনের প্রধান আলোচক, সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী মুসলিম সমাজকে কাদিয়ানী মতবাদের বিভ্রান্তি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, 'কাদিয়ানী সম্প্রদায় ‘আহমদীয়া মুসলিম জামাত’ পরিচয় দিয়ে সাধারণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করছে। তাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও প্রচারমাধ্যমের ছদ্মবেশী কার্যক্রম সম্পর্কে মুসলিম সমাজকে সচেতন হতে হবে। সরকার যদি তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার ন্যায্য দাবি মেনে না নেয়, তবে ভবিষ্যতে আলেম-ওলামা ও সাধারণ তৌহিদী জনতাকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর ও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।'
মাওলানা রাব্বানী আরও স্পষ্ট করেন, পবিত্র কোরআনের স্পষ্ট আয়াত ও সহিহ হাদিসের আলোকে মুসলমানদের কাছে খতমে নবুওয়তের আকিদা সুনির্দিষ্ট। হযরত ঈসা (আ.)-এর পুনরাগমন প্রসঙ্গে তিনি ইসলামী আকিদা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, হযরত ঈসা (আ.) যখন কেয়ামতের পূর্বে পৃথিবীতে আগমন করবেন, তিনি কোনো নতুন নবী হিসেবে নয়, বরং আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একজন উম্মত ও অনুসারী হিসেবেই আসবেন। তিনি এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য থেকে সতর্ক থেকে সর্বস্তরের মুসলমানদের সঠিক দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজি বলেন, 'খতমে নবুওয়তের আকিদা রক্ষা করা বিশ্বের প্রতিটি মুসলিমের ঈমানী ও ধর্মীয় দায়িত্ব। কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণার আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত রাখব।'
সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, মাওলানা জহুরুল ইসলাম, মাওলানা শওকত হোসাইন সরকার, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, মুফতী খোবাইব আহমাদ, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতী বশিরুল্লাহ, মাওলানা জসিম উদ্দিন, মুফতী সাখাওয়াত হুসাইন রাজী, মুফতী কিফয়াতুল্লাহ আজহারী, মুফতী হারুন ইজহার, মুফতী মাসঊদুল করীম, মাওলানা শাব্বির আহমাদ কাসেমী, মাওলানা ইউনুস ঢালী, মুফতী মুহাম্মদ নোমান, মাওলানা এনামুল হক মুসা, শায়েখ আহমাদ বিন ইউসুফ আল আজহারী, মুফতী আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া, মুফতী সালাহ উদ্দিন, মাওলানা জুনায়েদ কাসেমী, মুফতী গাজী ইয়াকুব উসমানী, মাওলানা আলী আজম ও মাওলানা আফসার মাহমুদসহ ইসলামী নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ থেকে সর্বস্তরের তাওহিদী জনতাকে আকিদায়ে খতমে নবুওয়ত রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার থাকার আহ্বান জানানো হয়।
মতামত