বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

শান্তির সন্ধান ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ইসলাম গ্রহণের কথা জানালেন মার্টিন

অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক রবার্ট মার্টিন ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিলেন


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক রবার্ট মার্টিন ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিলেন

ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরব থাকা অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মী রবার্ট মার্টিন সম্প্রতি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। ইসরায়েলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত এই সাংবাদিকের ঘোষণাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আসার পরই তা দ্রুত কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। মার্টিনের এই ধর্মান্তর পশ্চিমা মিডিয়ার প্রচারণার বিপরীতে মাঠের বাস্তবতার এক গভীর প্রতিফলন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

​অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক রবার্ট মার্টিন গত ৭ ডিসেম্বর তাঁর 'এক্স' (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বহুল প্রচলিত গুঞ্জনকে সত্য বলে নিশ্চিত করেন। তিনি তাঁর পোস্টে লেখেন, "গুঞ্জন সত্য। আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই সিদ্ধান্ত আমার মনে গভীর শান্তি এনে দিয়েছে।" এই ঘোষণাটি পোস্ট করার পর মাত্র অল্প সময়ের মধ্যে তা ১.৭ মিলিয়ন (১৭ লক্ষাধিক) ভিউ অতিক্রম করে।

​মার্টিনের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের দিকে এই আধ্যাত্মিক মোড় শুরু হয়েছিল মূলত ফিলিস্তিন সফরের মাধ্যমে। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে তিনি ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, সেই সময় পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোতে যা প্রচারিত হয়েছিল, মাঠের বাস্তবতা ছিল তার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিজের রূপান্তরের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "সত্যকে নিজের চোখে দেখার জন্য আমি ফিলিস্তিনে গিয়েছিলাম। আমি যা দেখেছি, তা আমাকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে।"

​মার্টিন আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি ফিলিস্তিন সম্পর্কে ভুল তথ্য এবং পূর্বধারণা নিয়ে বেড়ে উঠেছিলেন। কিন্তু যখন তিনি অঞ্চলটি ভ্রমণ করেন, তখন তিনি যেসব ফিলিস্তিনির সঙ্গে পরিচিত হন, তাদের কাউকেই 'সন্ত্রাসী' মনে হয়নি। বরং তারা সবাই নিজেদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা মানুষ।

​মাঠে কাজ করার সময় রবার্ট মার্টিন বুলডোজার দিয়ে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংস, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা এবং উগ্রপন্থী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অত্যাচারের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করেন। ইসরায়েলি সৈন্যদের দ্বারা বারবার হুমকির মুখে পড়লেও তিনি তথ্যচিত্র ধারণের কাজ চালিয়ে যান।

​'ফ্রিডম ফ্লোটিলা' নামক সংস্থা কর্তৃক তৈরি মার্টিনের জীবনীমূলক প্রোফাইলে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনে তার অভিজ্ঞতায় তিনি বেশিরভাগ ইসরায়েলির মধ্যে এক ধরনের গভীর বর্ণবাদ লক্ষ্য করেন। এই অভিজ্ঞতা মার্টিনের দৃষ্টিভঙ্গিকে আমূল পরিবর্তন করে, যা ফিলিস্তিন এবং ইসলাম—উভয় সম্পর্কে তাঁর ধারণা বদলে দেয়।

​৯ ডিসেম্বর তারিখে করা অন্য একটি পোস্টে মার্টিন স্বীকার করেন যে ফিলিস্তিনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পরই তিনি উপলব্ধি করেন যে তাঁকে ইসলাম সম্পর্কেও ভুলভাবে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, "পেছনে ফিরে তাকালে, বছরের পর বছর ধরে বহন করা আমার অজ্ঞতার জন্য আমি লজ্জিত ও অনুতপ্ত।" তিনি আরও জানান যে ইসলামকে বুঝতে তিনি পদ্ধতিগতভাবে গবেষণা ও অধ্যয়ন করেছেন এবং উপলব্ধি করেছেন যে কেবল উপরি উপরি পাঠের মাধ্যমে এই ধর্মকে বোঝা সম্ভব নয়।

বিষয় : অস্ট্রেলিয়া

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক রবার্ট মার্টিন ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিলেন

প্রকাশের তারিখ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরব থাকা অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মী রবার্ট মার্টিন সম্প্রতি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। ইসরায়েলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত এই সাংবাদিকের ঘোষণাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আসার পরই তা দ্রুত কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। মার্টিনের এই ধর্মান্তর পশ্চিমা মিডিয়ার প্রচারণার বিপরীতে মাঠের বাস্তবতার এক গভীর প্রতিফলন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

​অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক রবার্ট মার্টিন গত ৭ ডিসেম্বর তাঁর 'এক্স' (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বহুল প্রচলিত গুঞ্জনকে সত্য বলে নিশ্চিত করেন। তিনি তাঁর পোস্টে লেখেন, "গুঞ্জন সত্য। আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই সিদ্ধান্ত আমার মনে গভীর শান্তি এনে দিয়েছে।" এই ঘোষণাটি পোস্ট করার পর মাত্র অল্প সময়ের মধ্যে তা ১.৭ মিলিয়ন (১৭ লক্ষাধিক) ভিউ অতিক্রম করে।

​মার্টিনের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের দিকে এই আধ্যাত্মিক মোড় শুরু হয়েছিল মূলত ফিলিস্তিন সফরের মাধ্যমে। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে তিনি ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, সেই সময় পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোতে যা প্রচারিত হয়েছিল, মাঠের বাস্তবতা ছিল তার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিজের রূপান্তরের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "সত্যকে নিজের চোখে দেখার জন্য আমি ফিলিস্তিনে গিয়েছিলাম। আমি যা দেখেছি, তা আমাকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে।"

​মার্টিন আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি ফিলিস্তিন সম্পর্কে ভুল তথ্য এবং পূর্বধারণা নিয়ে বেড়ে উঠেছিলেন। কিন্তু যখন তিনি অঞ্চলটি ভ্রমণ করেন, তখন তিনি যেসব ফিলিস্তিনির সঙ্গে পরিচিত হন, তাদের কাউকেই 'সন্ত্রাসী' মনে হয়নি। বরং তারা সবাই নিজেদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা মানুষ।

​মাঠে কাজ করার সময় রবার্ট মার্টিন বুলডোজার দিয়ে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংস, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা এবং উগ্রপন্থী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অত্যাচারের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করেন। ইসরায়েলি সৈন্যদের দ্বারা বারবার হুমকির মুখে পড়লেও তিনি তথ্যচিত্র ধারণের কাজ চালিয়ে যান।

​'ফ্রিডম ফ্লোটিলা' নামক সংস্থা কর্তৃক তৈরি মার্টিনের জীবনীমূলক প্রোফাইলে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনে তার অভিজ্ঞতায় তিনি বেশিরভাগ ইসরায়েলির মধ্যে এক ধরনের গভীর বর্ণবাদ লক্ষ্য করেন। এই অভিজ্ঞতা মার্টিনের দৃষ্টিভঙ্গিকে আমূল পরিবর্তন করে, যা ফিলিস্তিন এবং ইসলাম—উভয় সম্পর্কে তাঁর ধারণা বদলে দেয়।

​৯ ডিসেম্বর তারিখে করা অন্য একটি পোস্টে মার্টিন স্বীকার করেন যে ফিলিস্তিনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পরই তিনি উপলব্ধি করেন যে তাঁকে ইসলাম সম্পর্কেও ভুলভাবে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, "পেছনে ফিরে তাকালে, বছরের পর বছর ধরে বহন করা আমার অজ্ঞতার জন্য আমি লজ্জিত ও অনুতপ্ত।" তিনি আরও জানান যে ইসলামকে বুঝতে তিনি পদ্ধতিগতভাবে গবেষণা ও অধ্যয়ন করেছেন এবং উপলব্ধি করেছেন যে কেবল উপরি উপরি পাঠের মাধ্যমে এই ধর্মকে বোঝা সম্ভব নয়।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ